ক্রুড অয়েল সংকটে ২৩ দিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে সচল হলো সচল হলো রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারী। সৌদি আরব থেকে আনা ক্রুড অয়েল দিয়ে রিফাইনারীটি চালু করা হয়। শুক্রবার (৮ মে) ইস্টার্ন রিফাইনারীর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ভোর ৫টা থেকেই ফায়ার্ড হিটারে প্রসেসিং শুরু হলেও এক ঘণ্টা পর থেকে শুরু হয় পূর্ণদমে ক্রুড পরিশোধন। উত্তপ্ত ক্রুড অয়েল থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল নির্ধারিত ট্যাঙ্ক ফার্মের স্টোরেজে পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে শোধনাগারের পাশের জেটিতে থাকা লাইটারেজ জাহাজ থেকেও সমানতালে চলছে ক্রুড অয়েল খালাস। মেঘনা পেট্রোলিয়ামের সাবেক মহাব্যবস্থাপক আকতার কামাল বলেন, ক্রুড অয়েল রিফাইনারিতে এসেছে এবং শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে এর প্রসেসিং শুরু হয়েছে। খুব দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করে এসব জ্বালানি তিনটি তেল কোম্পানির কাছে সরবরাহ করা হবে। মূলত, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েল না থাকায় গত ১৪ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারীর তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর বহুল আলোচিত হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদির ইয়ানবু বন্দর থেকে লোড করা ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ এমটি নাইমনিয়া বুধবার সকালে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, আরেকটি এক লাখ টনের কার্গো সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা পোর্ট থেকে লোড হবে, যা গালফের বাইরে হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এতে পড়বে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন ১৩ ধরনের জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এই শোধনাগারের দুটি ইউনিটে, যার পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন। এছাড়া মজুত থাকা অপরিশোধিত জ্বালানি দিয়ে শোধনাগারটি প্রায় ২৫ দিন চলতে পারে। ১ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করলে পাওয়া যাবে ২৬ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল, ২৪ হাজার মেট্রিক টন ফার্নেস অয়েল, ১৬ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল, ২১ হাজার মেট্রিক টন কেরোসিন এবং ৮ হাজার মেট্রিক টন অকটেন। এ অবস্থায় শোধনাগারটি সচল রাখতে দ্রুত ক্রুড অয়েল সংগ্রহের বিকল্প নেই বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। ইস্টার্ন রিফাইনারীর সাবেক মহাব্যবস্থাপক মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, এটি যাতে আবার বন্ধ না হয়, সেজন্য আগামী ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে নতুন চালান আনার ব্যবস্থা নিতে বিপিসিকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। এদিকে চলতি মাসেই আরব আমিরাত থেকে আরও এক লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি কেনা হয়েছে। ১০ মে ফুজাইরা বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল নিয়ে ২৫ মে’র মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছাবে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ভাড়া করা জাহাজ। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ৪ লাখ টন তেল যদি বাংলাদেশে এনে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে সরবরাহ করা যায়, তবে তা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন ক্রুড এবং দেড় লাখ মেট্রিক টনের বেশি পরিশোধিত জ্বালানি মজুত রাখার সক্ষমতা রয়েছে।
বৈষম্য হ্রাস এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসন্ন জাতীয় বাজেটে দেশের ধনী ব্যক্তিদের আয়করের ওপর সারচার্জের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ সম্পদ কর চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্পদের মূল্যের উপর ভিত্তি করে এই সম্পদ কর আদায় করা হবে। নতুন এ ব্যবস্থাকে ধনীদের ওপর কর আরোপের ক্ষেত্রে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, বর্তমান সারচার্জ ব্যবস্থা ধনীদের ওপর কার্যকরভাবে কর আরোপে ব্যর্থ এবং এটি কর ব্যবস্থার প্রগতিশীলতাকে ক্ষুণ্ণ করে। প্রচলিত সারচার্জ ধনী ব্যক্তিদের আয়করের সঙ্গে কয়েক শতাংশ অর্থ যোগ করে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত মোট সম্পদ করমুক্ত থাকবে, এরপর পরবর্তী ২ কোটি টাকার উপর ০.২৫ শতাংশ, তার পরের ৫ কোটি টাকার উপর ০.৫০ শতাংশ, আরও ৫ কোটি টাকার উপর ০.৭৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট সম্পদের উপর ১ শতাংশ কর ধার্য করা হবে। মূল্যায়নের জন্য, জমি মৌজা হারে, ভবন গণপূর্ত বিভাগের হারে, সোনার বাজার মূল্যে এবং শেয়ার ক্রয়মূল্য বা নিট সম্পদ মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেই হারে মূল্যায়ন করা হবে। এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৩ সালের আয়কর আইনের অধীনে বর্তমান ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যে এই সংস্কারটি আনা হয়েছে, যেখানে উচ্চতর সম্পদ শ্রেণিতে কার্যকর সারচার্জের হার হ্রাস পায় এবং করের দায় ঘোষিত আয়ের উপর নির্ভর করে, যা কম ঘোষিত আয়ের ব্যক্তিদেরকে কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রদেয় আয়করের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সারচার্জ আদায় করে। ১০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি টাকার সম্পদের জন্য কার্যকর সারচার্জের হার প্রায় ০.৪৩ শতাংশ, যা ৫০-১০০ কোটি টাকার সম্পদের জন্য প্রযোজ্য ০.৫৪ শতাংশের চেয়ে কম। ২০২৫-২৬ করবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ হাজার ৮০৪ জন করদাতা সম্মিলিতভাবে ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৩৫ কোটি টাকার মোট সম্পদ ঘোষণা করেছেন, কিন্তু সারচার্জ আদায় হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট সম্পদের ০.২৯ শতাংশ। সেইসঙ্গে সম্পদের কেন্দ্রীভবন অনেক বেশি; ১৩ জন করদাতার প্রত্যেকের গড় সম্পদ ৬৪৬ কোটি টাকা, যা মোট ঘোষিত সম্পদের ২.৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ১০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের অধিকারী ১৮৬ জন ব্যক্তির দখলে রয়েছে মোট সম্পদের ১২.১২ শতাংশ। ২৭ জন করদাতার একটি ক্ষুদ্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্পদের প্রকৃত মূল্য ঘোষিত মূল্যের চেয়ে ৮৯ শতাংশ বেশি হতে পারে, যা বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় সম্ভাব্য রাজস্ব ৩৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। একটি ক্ষেত্রে, শূন্য সারচার্জ দায় থাকা একজন করদাতাকে পুনর্মূল্যায়নের পর প্রায় ৪০ কোটি টাকার সম্পদ করের সম্মুখীন হতে হতে পারে। কর্মকর্তারা অনুমান করছেন যে নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে মোট রাজস্ব প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে; অর্থাৎ অতিরিক্ত ২ কোটি টাকা আয় হবে এ ব্যবস্থায়। নতুন প্রস্তাবে ২০২৬ সালের একটি সম্পদ কর আইন প্রণয়ন, একটি স্বয়ংক্রিয় ই-রিটার্ন-ভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু, একটি স্থায়ী মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং একটি দ্বি-স্তরীয় বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে, যার নিয়মাবলী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। অবশ্য, ধনীদের কাছ থেকে কর আদায়ের নতুন এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বেশ কিছু ঝুঁকি আছে বলেও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে সম্পদের পরিমাণ কম দেখানো, পুঁজি পাচার এবং দুর্বল ডেটা পরিকাঠামোর কারণে অপ্রকাশিত সম্পদ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ। তারা বলেছেন, নতুন ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনের জন্য এই ব্যবস্থার একটি নির্ভরযোগ্য সম্পদ ডেটাবেস, শক্তিশালী ডিজিটাল কর প্রশাসন এবং কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন হবে। এদিকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সম্পদ কর চালু থাকলেও এই কর নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে। নরওয়ে প্রায় ০.৮৫ শতাংশ কর আরোপ করে চলেছে এবং সুইজারল্যান্ড ক্যান্টন পর্যায়ে প্রায় ০.১ শতাংশ থেকে ১ শতাংশের বেশি হারে কর আরোপ করে। স্পেন প্রায় ৩ শতাংশ হারে তাদের সম্পদ কর পুনরায় চালু করেছে। এছাড়া, আর্জেন্টিনা মহামারীর পরে একটি অস্থায়ী কর চালু করেছিল। অন্যদিকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ২০১৮ সালে তাদের এই ব্যবস্থা বাতিল করে দেয় ফ্রান্স। আর প্রশাসনিক জটিলতা, উচ্চ পরিপালন ব্যয় এবং মূলধন বহির্গমনের কারণ দেখিয়ে এই ধরনের কর বাতিল করে দিয়েছে জার্মানি, সুইডেন এবং ডেনমার্ক।
দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৩০৫ দশমিক ৪২ মিলিয়ন বা ৩৫ দশমিক ৩০ বিলিয়ন ডলার। মঙ্গলবার (৫ মে) এ তথ্য জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সবশেষ তথ্যানুযায়ী, ৫ মে পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৩০৫ দশমিক ৪২ মিলিয়ন ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬১৫ দশমিক ২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে। এর আগে গত ৪ মে পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ২৯০ দশমিক ৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর বিপিএম-৬ পদ্ধতিত রিজার্ভ ছিল ৩০ হাজার ৫৯৭ দশমিক ৯১ মিলিয়ন ডলার। উল্লেখ্য, নিট রিজার্ভ গণনা করা হয় আইএমএফের বিপিএম-৬ পরিমাপ অনুসারে। মোট রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় বিয়োগ করলে নিট বা প্রকৃত রিজার্জের পরিমাণ পাওয়া যায়।
বিশ্ববাজারে আগের দিনে সোনার দামে বড় পতনের পর আবারও বেড়েছে। এর প্রভাবে দেশের বাজারেও সোনার দাম কমতে পারে। মঙ্গলবার (৫ মে) এক প্রতিবেদনে এমনটি জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে মঙ্গলবার স্পট গোল্ড বা তাৎক্ষণিক স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৫৪৩ ডলারে বেচাকেনা হচ্ছে। এর আগে গতকাল (সোমবার) এই দাম প্রায় ২ শতাংশেরও বেশি কমে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। একই সঙ্গে মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দামও দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজার পর্যযবেক্ষক সংস্থা টেস্টিলাইভের বিশেষজ্ঞ ইলিয়া স্পিভাক জানিয়েছেন, মূলত বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সোমবার বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, স্বর্ণের দাম এখন তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। তবে বিনিয়োগকারীদের এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তেলের দাম। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দামের কারণে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে মার্কিন ডলারের শক্তি ও ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা (ইল্ড) বাড়ছে। সাধারণত যখন মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, তখন মানুষ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে রস্ কেনেন। কিন্তু বর্তমানে সুদের হার বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকায় বিনিয়োগকারীরা সোনার বদলে সুদের সুবিধা পাওয়া যায় এমন খাতের দিকে বেশি নজর দিচ্ছেন। ফলে স্বর্ণের দাম যতটা বাড়ার কথা ছিল, তেলের দাম ও সুদের হারের আশঙ্কায় তা বাড়ছে না। বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন সুদের হারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন। কারণ এই প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারিত হবে। এদিকে, বিশ্ববাজারে দর কমায় দেশের বাজারেও সোনার ও রুপার দাম কমতে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় বাজারে মূল্য সমন্বয় করা হয়। সবশেষ গত ৩০ এপ্রিল দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ৪২ হাজার ৪৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৮ হাজার ৪০৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৬১ হাজার ৬০৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। শুক্রবার (১ মে) একদিনেই এ মূল্যবান ধাতুর দাম ১ শতাংশের বেশি কমেছে। মূলত জ্বালানি তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকায় বিশ্বব্যাপী আবারও মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারে— এমন ধারণা জোরালো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সুদবিহীন বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে এর দামে। খবর রয়র্টাসের। খবরে বলা হয়, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৩টা ৫২ মিনিটে বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৬৮ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জুন মাসে সরবরাহের জন্য গোল্ড ফিউচারসের দামও ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৫৭৯ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে তা স্বর্ণের বাজারে বিরূপ প্রভাব ফেলে। কারণ এতে সুদের হারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়, যা স্বর্ণের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাধারণত ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রাস্ফীতির সময় স্বর্ণকে সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কিছুটা আকর্ষণ হারায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের পরিবর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির মতো সুদবাহী সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েন। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতু যেমন রুপা, প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দামও বিশ্ববাজারে কমেছে।
গত কয়েকদিন ধরে রাজধানীতে টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন সড়কে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাপ্তাহিক ছুটির দিনের সকালে বাজার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ। সেই সঙ্গে সবজির দামে নাভিশ্বাস তুলছে ক্রেতাদের। শুক্রবার (১ মে) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, চিকন বেগুন কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বড় গোল বেগুনের দাম কেজি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। একইভাবে কাঁকরোলের দামও বেশ চড়া। প্রতি কেজি কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা। এদিকে টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, বরবটি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, পটোল ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঝিঙে ৬০ থেকে ৭০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কাঁচা মরিচের কেজি ১২০ টাকা, করলা ৬০ থেকে ৮০ টাকা এবং লাউ প্রতিটি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলার হালি (৪টা) বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। মুরগির বাজারেও দাম কমেনি। ব্রয়লার মুরগি কেজি প্রতি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের এই উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়েই চলেছে। রামপুরার জাকের গলির বাসিন্দা সোহেল রানা সকালে বাজার করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। তিনি বলেন, ভোরে বৃষ্টি হওয়ার পর রাস্তায় এত পানি জমেছে যে হাঁটা কষ্টকর হয়ে গেছে। ময়লা পানি মাড়িয়ে বাজারে যেতে হয়েছে। তার ওপর বাজারে এসে দেখি বেগুনের দাম আকাশছোঁয়া। এক কেজি বেগুন কিনতেই ১৪০ টাকা চলে গেল। মালিবাগ হাজীপাড়া এলাকার গৃহিণী রুবিনা আক্তার বলেন, বাজারে যাওয়াই এখন বড় সমস্যা। পানি জমে থাকায় পা ভিজে যাচ্ছে, কাপড় নষ্ট হচ্ছে। এত কষ্ট করে বাজারে গিয়ে সবজির দাম শুনতেই কষ্ট আরও বেড়ে গেল। বিশেষ করে কাঁকরোলের দাম অনেক বেশি, কিনতে গিয়ে ভাবতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এক কেজি কাঁকরোল ১২০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না। পটোলের কেজি ৬০ টাকা। মাঝারি একটা লাউ ৭০ টাকা। বেগুন ১২০ টাকা কেজি। সব সবজির দাম এমন চড়া। বাজারে স্বস্তি কোথায় বলেন তো! বৃষ্টির অজুহাতে ব্যবসায়ীরা সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। খিলগাঁওয়ের তালতলা এলাকার বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমেছে কি না জানি না, কিন্তু বাজারে সবজির দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বেগুন আর কাঁকরোলের দাম তো খুবই বেশি। সাধারণ মানুষের জন্য এটা অনেক কষ্টকর। রামপুরা বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল মালেক বলেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। রাস্তা খারাপ থাকায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। এর সঙ্গে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এজন্য দাম একটু বেশি। তিনি বলেন, কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। তাই আমাদের ধারণা সামনে সবজির দাম আরও বাড়বে। কারণ, বৃষ্টির কারণে অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাবে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমবে। আর সরবরাহ কমলে দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।
প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল লিটারে চার টাকা বাড়িয়ে ১৯৫ টাকা থেকে ১৯৯ টাকা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সয়াবিন তেলের নতুন নির্ধারিত মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ভোজ্যতেলের বাজারমূল্য নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা তেলেও লিটারে ৪ টাকা বৃদ্ধি করে ১৭৫ টাকা থেকে ১৭৯ টাকায় বিক্রি হবে। বৈশ্বিক প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে উৎস পর্যায়ে পণ্যের দাম বেড়েছে। যেসব পণ্য আমরা আমদানি করি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রভাব সরাসরি পড়ে। সয়াবিন তেল সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর হওয়ায় এর মূল্যবৃদ্ধির চাপ দেশীয় বাজারেও এসেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রমজান মাস থেকেই আমদানিকারক ও রিফাইনাররা মূল্য সমন্বয়ের অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন। আমরা আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট খরচ যাচাই করে দেখেছি, তাদের দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে তাদের প্রস্তাবিত পুরো পরিমাণ বৃদ্ধি না করে আংশিক সমন্বয় করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে খোলা (লুজ) সয়াবিন তেলের দামও লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরকার আশা করছে, এই মূল্য সমন্বয়ের ফলে একদিকে যেমন রিফাইনারদের লোকসান কমবে, অন্যদিকে বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতিও স্বাভাবিক থাকবে। তিনি আরও বলেন, নতুন নির্ধারিত মূল্য আজ থেকেই কার্যকর হবে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। একই সঙ্গে বাজারে খুচরা পর্যায়ে মূল্য বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মনিটরিং জোরদার করা হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। এসময় সভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা দাবি করেন, বর্তমান মূল্য কাঠামোতে তাদের এখনও লোকসান হচ্ছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারদর, পরিবহন ব্যয়, রিফাইনিং খরচসহ বিভিন্ন ধাপের ব্যয় যুক্ত করে মূল্য নির্ধারণ করা হয় এবং এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। তারা বলেন, আমরা যে ফর্মুলা অনুসরণ করে দাম নির্ধারণ করি তা সবার জন্য উন্মুক্ত। আন্তর্জাতিক বাজারদর, ফ্রেইট, খালাস ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যয় যোগ করলেই প্রকৃত চিত্র পাওয়া যায়। এখানে কোনো গোপনীয়তা নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রুটিন দায়িত্বে থাকা সচিব মো. আবদুর রহিম খান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানিনির্ভর এই পণ্যের স্থানীয় বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে। ফলে আমদানিকারক ও রিফাইনাররা দীর্ঘদিন ধরে মূল্য সমন্বয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ফলে বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে ভোজ্যতেল খাতে মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়েছে।
চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৮ দিনেই দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রবাহ এসেছে। এ সময় মোট ১৯৬ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা দৈনিক গড়ে প্রায় ১০ কোটি ৯৩ লাখ ডলারের সমান। রোববার (১৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স ছিল ১৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সে হিসেবে এবার প্রবাহে স্পষ্ট বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৮১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। এর আগে মার্চ মাসে দেশে রেমিট্যান্স আসে ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি, যা এক মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের নতুন রেকর্ড গড়ে। ফেব্রুয়ারি ও জানুয়ারিতেও যথাক্রমে ৩০২ কোটি ও ৩১৭ কোটির বেশি ডলার এসেছে দেশে। এছাড়া ডিসেম্বর, নভেম্বর, অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসেও ধারাবাহিকভাবে উচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ বজায় ছিল। আগস্ট ও জুলাই মাসেও প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আয়ের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নতুন ঘোষণায় ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোল সব ধরনের জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা ও কেরোসিন ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগের নির্ধারিত দামের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বেড়ে ১০০ টাকা থেকে ১১৫ টাকায় উঠেছে। কেরোসিনের দাম ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ১৮ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা হয়েছে, এতে লিটারে ২০ টাকা বেড়েছে— যা সর্বোচ্চ। এ ছাড়া পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে, অর্থাৎ লিটারে ১৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে। পারস্য উপসাগর অঞ্চল থেকে জ্বালানি পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানিও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি হলেও এখনও হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।
বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ১৯ টাকা ও অকটেনের দাম লিটার প্রতি ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে। সেইসঙ্গে ডিজেলের দাম বেড়েছে প্রতি লিটারে ১৫ টাকা। এর ফলে, বর্তমানে প্রতি লিটার অকটেনের দাম দাঁড়িয়েছে ১৪০ টাকা, পেট্রোলের দাম হয়েছে ১৩৫ টাকা এবং ডিজেলের দাম হয়ে গেছে ১১৫ টাকা। রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে সারাদেশে কার্যকর হচ্ছে নতুন এই দাম। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই দাম সমন্বয়ের কথা জানানো হয়। মন্ত্রণালয়ের বার্তায় জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে দেশের বাজারেও এই দাম সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতি লিটার অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রোল ১৩৫ টাকা দরে বিক্রি হবে। একইসঙ্গে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তে দাম বাড়ানো হয়েছে কেরোসিনেরও। রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে প্রতি লিটার কেরোসিন বিক্রি হবে ১৩০ টাকায়। জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণের আগে ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেনের মূল্য ছিল ১২০ টাকা এবং পেট্রোলের মূল্য ছিল ১১৬ টাকা। এছাড়া কেরোসিনের দাম ছিল প্রতি লিটার ১১২ টাকা এবং ডিজেলের মূল্য ছিল লিটারপ্রতি ১০০ টাকা।
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও বড় দফায় মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা এসেছে। টানা ষষ্ঠবারের মতো সোনার দাম বাড়িয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ ঘোষণায় ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ২৮২ টাকা, যা দেশের বাজারে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্যবৃদ্ধির তথ্য জানায় বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দাম বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয়। এর আগে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ২২ হাজার ৮৩ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছিল ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকায়, ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৮১ হাজার ৭২৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম নির্ধারিত ছিল ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৯ টাকা। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ন্যূনতম ৬ শতাংশ মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গহনার নকশা ও মানভেদে মজুরির পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। এদিকে সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও বেড়েছে। ভরিতে ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা। এর আগে এই দাম ছিল ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা।
দেশের স্বর্ণবাজারে নতুন করে রেকর্ড গড়ল সোনার দাম। টানা তৃতীয় দফায় সোনার মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সর্বশেষ ঘোষণায় ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে বাজুসের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্যবৃদ্ধির তথ্য জানানো হয়। নতুন এই দাম সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে দেশের বাজারে কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) দাম বেড়ে যাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট সোনার দাম দাঁড়াবে ২ লাখ ১৮ হাজার ১১৭ টাকা। এর আগে গত ১৫ ডিসেম্বর টানা দ্বিতীয় দফায় সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৪৭০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৭ টাকা। সব মিলিয়ে চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ৮৮ বার দেশের বাজারে সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৫৯ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, আর কমানো হয়েছে মাত্র ২৭ বার। অন্যদিকে, গত বছর সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল মোট ৬২ বার—যার মধ্যে ৩৫ বার দাম বেড়েছিল এবং ২৭ বার কমানো হয়েছিল।
দেশের স্বর্ণবাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। প্রতি ভরিতে সোনার দাম বেড়েছে ৩ হাজার ৪৫২ টাকা। ফলে ২২ ক্যারেট সোনার নতুন মূল্য দাঁড়িয়েছে ভরি প্রতি ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এই দাম আজ রোববার (১৪ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বৃদ্ধির কারণে সোনার দামে এই সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দামে সোনার মূল্য— ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৯৭ টাকা ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৫ হাজার ৮০০ টাকা ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৫ টাকা সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮৩৮ টাকা বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সোনার বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং বাজুস নির্ধারিত ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যোগ করতে হবে। তবে গয়নার নকশা ও মানভেদে মজুরি ভিন্ন হতে পারে। এদিকে, রুপার দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বর্তমানে ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরি প্রতি ৪ হাজার ২৪৬ টাকা, ২১ ক্যারেটের দাম ৪ হাজার ৪৭ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া সনাতন পদ্ধতির রুপার ভরি মূল্য ২ হাজার ৬০১ টাকা অপরিবর্তিত রয়েছে।
নবম পে-স্কেলের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। তাদের দাবি, আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ না হলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে তারা মাঠে নামতে বাধ্য হবেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা কোনো সহজ প্রক্রিয়া নয়—এতে অনেক জটিল বিষয় জড়িত। তিনি স্পষ্ট জানান, চাকরিজীবীদের দেওয়া আলটিমেটামের মধ্যকার এত অল্প সময়ে গেজেট প্রকাশ সম্ভব নয়। “আমরা কাজ করছি,” যোগ করেন তিনি। এর আগে রাজধানীর এক হোটেলে সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) আয়োজিত সেমিনারে যোগ দেন অর্থ উপদেষ্টা। সেখানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ ভালো প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও সঠিকভাবে সেগুলোর বাস্তবায়ন না হওয়া। আইনগত দুর্বলতা, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক জটিলতাও এ সমস্যার পেছনে দায়ী। উদ্যোক্তা সৃষ্টির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “ঋণ নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ। নারীরা বেশি হিসাবী, উদ্যমী এবং পরিবারকল্যাণে বেশি ব্যয় করে—তাই তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” তিনি আরও বলেন, শহরে প্রপার্টির বিস্তার ঘটছে, কিন্তু উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন ডিসেন্ট্রালাইজেশন। “শহর যেমন দরকার, তেমনি গ্রামকেও আরও আকর্ষণীয় ও উন্নত করে তুলতে হবে। এসডিএফকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা নিতে হবে, সুবিধাভোগীর পরিধি বাড়াতে হবে, মানুষ ও দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বাড়াতে হবে।” উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের সুযোগ-সুবিধা পর্যালোচনার জন্য গঠিত পে কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে হিসেবে কমিশনের হাতে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় রয়েছে।
বছরের শেষ মাসের শুরুতেই দেশে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের প্রবাহ শক্তিশালী দেখা গেছে। ডিসেম্বরের প্রথম ৮ দিনে দেশে এসেছে ১০০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১২ কোটি ৬০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, গত বছরের একই সময়ে দেশে এসেছিল ৮৩ কোটি ১০ লাখ ডলার, তাই বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। একদিনের হিসেবে, গত ৮ ডিসেম্বর প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে ১ হাজার ৪০৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১৮.৪০ শতাংশ বৃদ্ধি। এর আগে, গত নভেম্বর মাসে এসেছে চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অক্টোবর ও সেপ্টেম্বর মাসে যথাক্রমে দেশে এসেছে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। এছাড়া, আগস্ট ও জুলাইয়ে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। মোট মিলিয়ে, ২০২৪-২৫ অর্থবছর জুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০.৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
ডিসেম্বরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। মাসের প্রথম ৭ দিনেই প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৮৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দৈনিক গড়ে দাঁড়ায় ১২ কোটি ৫১ লাখ ডলার। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে ৬১ কোটি ৬০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, অর্থাৎ চলতি বছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি আরও জানান, শুধু ৭ ডিসেম্বর একদিনেই প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ২৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ৩৯১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা বছরওয়ারি হিসেবে ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ বেশি। এর আগে চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসে গত নভেম্বরে—২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। অক্টোবর, সেপ্টেম্বর, আগস্ট ও জুলাইয়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার, ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার, ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছর জুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার (৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ), যা দেশের ইতিহাসে কোনো অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ।
বাংলাদেশে ৫০০ টাকার নতুন নোট বাজারে আসতে যাচ্ছে। নতুন নোটে থাকবে আধুনিক নকশা ও উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য, যা জাল নোট প্রতিরোধে সহায়ক হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের স্বাক্ষরিত এই নোট বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) থেকে প্রচলনে আসবে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এই তথ্য তাদের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। প্রাথমিকভাবে নতুন নোটটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল শাখা থেকে বিতরণ শুরু হবে। পরে ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য শাখা থেকেও এটি পাওয়া যাবে। নোটের নকশা ও বৈশিষ্ট্য নতুন নোটের আকার: ১৫২ মিমি লম্বা × ৬৫ মিমি চওড়া। নোটে সবুজ রঙের আধিক্য রয়েছে। সন্মুখভাগে: বাম পাশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ছবি মাঝখানে প্রস্ফুটিত শাপলার ব্যাকগ্রাউন্ডসহ পাতা ও কলি ডানদিকে রঙ পরিবর্তনশীল ‘৫০০’ পেছনভাগে: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের ছবি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ জলছাপ, উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপে ‘৫০০’, এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসমূহ রঙ পরিবর্তনশীল উন্নতমানের নিরাপত্তা কালি: নোট নাড়ালে ‘৫০০’ সবুজ থেকে নীল রঙে পরিবর্তিত হয় লাল ও স্বর্ণালী বারের সমন্বিত নিরাপত্তা সুতা: আলোতে ধরলে ‘৫০০ টাকা’ লেখা দেখা যায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য স্পর্শে অনুভূত ৫টি ছোট বৃত্ত ইন্টাগ্লিও কালিতে মুদ্রিত অংশসমূহ উঁচু অনুভূত হবে মাইক্রোপ্রিন্টে বারবার লেখা ‘BANGLADESH BANK’ শাপলার অংশে UV fluorescence (Magenta) ইঙ্ক See-through image-এ ‘৫০০’ দৃশ্যমান নোটের কাগজে লাল, নীল ও সবুজ রঙের অসংখ্য ফাইবার উভয় পৃষ্ঠে UV curing varnish, যা নোটকে চকচকে করবে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন নোট প্রচলনে আসলেও বর্তমানে ব্যবহৃত সব ধরনের কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই বৈধ থাকবে। উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত নতুন ৫০০ টাকার নোট জাল নোট প্রতিরোধে আরও কার্যকর হবে।
বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। বহুল ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। এতে দেশের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায়ীরা বৈশ্বিক মার্কেটের সঙ্গে সহজে যুক্ত হতে পারবেন। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে কৃষিখাতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৮ জন ব্যক্তি ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকের মাধ্যমে এলসি খোলার জটিলতা ছোট উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্য রপ্তানিতে বড় বাধা সৃষ্টি করে। পেপ্যাল চালু হলে তারা ইউরোপ, আমেরিকা ও অন্যান্য দেশে সহজে পণ্য পাঠাতে পারবেন এবং দ্রুত মূল্য গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন। তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের অভাবে অনেক ফ্রিল্যান্সার ও আউটসোর্সিংকর্মী বিদেশ থেকে টাকা আনার সময় নানা ঝামেলায় পড়েন এবং কখনও কখনও পাওনা টাকাও পান না। পেপ্যাল চালুর মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান হবে। পেপ্যাল বিশ্বব্যাপী ২০০টিরও বেশি দেশে ব্যবহৃত একটি ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা—যা দিয়ে অনলাইনে টাকা পাঠানো, গ্রহণ, বিল পরিশোধ এবং আন্তর্জাতিক কেনাকাটা করা যায়। নগদ লেনদেন কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে গভর্নর বলেন, দেশে দুর্নীতির অন্যতম উৎস হলো ক্যাশ লেনদেন; তাই ধাপে ধাপে নগদ লেনদেন সীমিত করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তিনি জানান, টাকা ছাপানো ও ব্যবস্থাপনায় বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। কৃষি খাতে ঋণ বর্তমানে মাত্র ২ শতাংশ বলে উল্লেখ করে গভর্নর জানান, এই হার বাড়িয়ে ১০ শতাংশে উন্নীত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, স্বাধীনতার পর খাদ্যশস্য উৎপাদন ছিল ১ কোটি ৩০ লাখ টন, যা এখন প্রায় ৪ কোটি টন—জনসংখ্যা দ্বিগুণ হলেও উৎপাদন তিনগুণ বৃদ্ধি পাওয়া দেশের বড় অর্জন।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আয় নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বর মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার, যা চলতি অর্থবছরের সর্বোচ্চ মাসিক রেমিট্যান্স। টাকার হিসেবে এ অঙ্ক দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি ১৪ লাখ ৪০ হাজার (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নভেম্বর মাসে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বিভাগভিত্তিক হিসাব বলছে— রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক দিয়ে এসেছে ৫৮ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার ডলার বিশেষায়িত ব্যাংক দিয়ে এসেছে ২৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার বেসরকারি ব্যাংক দিয়ে এসেছে ১৯৯ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ডলার বিদেশি ব্যাংক দিয়ে এসেছে ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার বাংলাদেশ ব্যাংকের বিস্তারিত তথ্যে দেখা যায়, নভেম্বরে প্রতি সপ্তাহেই রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল উল্লেখযোগ্য— ২৩–৩০ নভেম্বর: ৭৫ কোটি ৪৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার ১৬–২২ নভেম্বর: ৬১ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার ডলার ৯–১৫ নভেম্বর: ৭৬ কোটি ৮৪ লাখ ৮০ হাজার ডলার ২–৮ নভেম্বর: ৭১ কোটি ১০ লাখ ৭০ হাজার ডলার ১ নভেম্বর: ৪ কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার ডলার এর আগে অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে রেমিট্যান্স এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আগস্টে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ডলার এবং জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরেই সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ—তখন পুরো বছরে প্রবাসী আয় ছিল ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ।
দেশের স্বর্ণবাজারে ফের দামের ঊর্ধ্বগতি দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর বেড়ে যাওয়ার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরিতে দাম বাড়ছে সর্বোচ্চ ১,৫৭৫ টাকা। ফলে নতুন দর দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশোধিত এই দাম মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) থেকে কার্যকর হবে। বাজুস জানায়, স্থানীয়ভাবে তেজাবি সোনার দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববাজারে স্বর্ণদরের তীব্র উত্থান সমন্বয় করেই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪,২২২ ডলার ছাড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। নতুন তালিকা অনুযায়ী— ২২ ক্যারেট সোনা (ভরি): ২,১২,১৪৫ টাকা ২১ ক্যারেট সোনা (ভরি): ২,০২,৪৯৯ টাকা ১৮ ক্যারেট সোনা (ভরি): ১,৭৩,৫৭২ টাকা সনাতন পদ্ধতির সোনা (ভরি): ১,৪৪,৪২৪ টাকা সোনার দাম বাড়লেও রুপার বাজারে কোনো পরিবর্তন হয়নি। রুপার বর্তমান দাম— ২২ ক্যারেট রুপা (ভরি): ৪,২৪৬ টাকা ২১ ক্যারেট রুপা (ভরি): ৪,০৪৭ টাকা ১৮ ক্যারেট রুপা (ভরি): ৩,৪৭৬ টাকা সনাতন রুপা (ভরি): ২,৬০১ টাকা
বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে সরাসরি পণ্য রপ্তানির পথ খুলে দিয়েছে, যা দেশের রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজার ও সুযোগ তৈরি করবে। এখন থেকে বাংলাদেশ থেকে পণ্য অ্যামাজন, আলিবাবা, ইবে, ইটসি বা যেকোনো আন্তর্জাতিক সাবসিডিয়ারি বা তৃতীয় পক্ষের ওয়্যারহাউসের মাধ্যমে সরাসরি বিক্রি করা যাবে। সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে। নতুন নীতি ও সুবিধা অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো এ ধরনের রপ্তানি লেনদেন প্রক্রিয়াজাত করতে পারবে, যেখানে বিদেশি কনসাইনি চূড়ান্ত ক্রেতা না হয়ে মধ্যবর্তী প্ল্যাটফর্ম বা মার্কেটপ্লেস হিসেবে কাজ করবে। রপ্তানিকারকদের নিবন্ধনের প্রমাণ সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম বা ওয়্যারহাউসে জমা দিতে হবে। বিটুবিটুসি কাঠামোতে সাধারণ বিক্রয় চুক্তি না থাকায় প্রফর্মা ইনভয়েসের ভিত্তিতে পণ্যের ন্যায্যমূল্য ঘোষণা করা যাবে। কনসাইনি শুধুমাত্র সেবা প্রদানকারী হলে, তাদের নামে প্রস্তুত শিপিং ডকুমেন্টও ব্যাংক গ্রহণ করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রপ্তানি থেকে প্রাপ্ত অর্থ স্বাভাবিক ব্যাংকিং চ্যানেল ছাড়াও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সার্ভিস অপারেটরের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মভিত্তিক রপ্তানিতে একাধিক চালানের অর্থ একত্রিত হতে পারে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যাংকগুলো ‘ফার্স্ট-ইন, ফার্স্ট-আউট’ নীতিতে রপ্তানি আয় সমন্বয় করতে পারবে। খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্ত আন্তঃসীমান্ত ই-কমার্সকে আরও গতিশীল করবে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি রপ্তানিকারকদের জন্য নতুন বাজার উন্মুক্ত করবে এবং বিশ্বব্যাপী অনলাইন মার্কেটপ্লেসে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে। ডিজিটাল খুচরা বিক্রির আন্তর্জাতিক চ্যানেলে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের পণ্যের বহুমুখী রপ্তানি বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫
দেশের মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ‘স্পন্দনবি’। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইমদাদ সিতারা খান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবারও বৃত্তি প্রদান করবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ুয়া প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী এই বৃত্তির সুযোগ পাবেন। আগ্রহীরা আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ডাক, কুরিয়ার বা সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কারা আবেদন করতে পারবেন? বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ এবং বর্তমানে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত নিম্নোক্ত বিষয়ের মেধাবী, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন— বিএসসি অনার্স বিএসসি অনার্স (কৃষি, পশুপালনসহ সব অনুষদ) এমবিবিএস বিডিএস বিএসসি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বিএ অনার্স বিএসএস অনার্স বিবিএ আবেদনপত্র সংগ্রহ আবেদনকারীরা নিচের যেকোনো মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন— 🔗 https://spaandanb.org/projects/imdad-sitara-khan-scholarship/ 🔗 https://www.facebook.com/share/g/1FXJc2NhHe অথবা ই-মেইলে যোগাযোগ করেও ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে— mostafiz14@yahoo.com rajib.bd@spaandanb.org tuhin.bd@spaandanb.org sajedul1233@gmail.com zabbarbd5493@gmail.com আবেদন পাঠানোর ঠিকানা স্পন্দনবি বাংলাদেশ অফিস বাসা-৭/২, শ্যামলছায়া-১, ফ্ল্যাট-বি/২, গার্ডেন স্ট্রিট, রিং রোড, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। যোগাযোগ বৃত্তি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য অফিস সময়ে যোগাযোগ— ☎️ ০২-৪৮১১৪৪৯৯ 📱 ০১৭১৩-০৩৬৩৬০ 📱 ০১৭৭৩-৬১০০০৯ 📱 ০১৯৩৩-৫৬০৬৬৫ 📱 ০১৭৯৬-১০২৭০০
পোশাক প্রস্তুতকারক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান আড়ং নতুন কিছু পদে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদের বিবরণ: পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট বিভাগ: হেলথ সিকিউরিটি স্কিম (HSS), সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড প্রোডিউসার ডেভেলপমেন্ট (SCPD) পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অন্য যোগ্যতা: এমএস এক্সেল এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে দক্ষতা ডকুমেন্টেশন ও ফাইল ব্যবস্থাপনায় পারদর্শিতা অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১–২ বছর চাকরির ধরণ ও অন্যান্য তথ্য: চাকরির ধরন: ফুলটাইম কর্মক্ষেত্র: অফিসে প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: উল্লেখ নেই কর্মস্থল: ময়মনসিংহ (ত্রিশাল) বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে অন্যান্য সুবিধা: প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, উৎসব বোনাস, স্বাস্থ্য ও জীবন বিমা এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা আবেদন করার নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে আবেদন করতে পারেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্লাজা সেলস বিভাগে ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে ১০০ জন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ৮ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদসংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম: যমুনা গ্রুপ বিভাগ: প্লাজা সেলস পদের নাম: এক্সিকিউটিভ পদসংখ্যা: ১০০টি যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রার্থীকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। এ পদে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নেই, তাই নবীন প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। অন্যান্য তথ্য চাকরির ধরন: ফুল-টাইম বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে প্রার্থীর ধরন: নারী ও পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: ন্যূনতম ২২ বছর কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ সময়: ৮ নভেম্বর ২০২৫।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে নিয়োগ দেশের অন্যতম মানবিক সংগঠন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে একজন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদসংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পদের নাম: টেকনিক্যাল অফিসার পদসংখ্যা: ১ জন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি বা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ২ বছর বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪০ বছর বেতন ও চাকরির ধরন বেতন: ৫০,০০০ টাকা চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন কর্মস্থল: কুড়িগ্রাম আবেদন প্রক্রিয়া আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ওয়েবসাইটে ক্লিক করুন।