জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান। মঙ্গলবার (০৪ মে) রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নাদিমুর রহমানের যোগদানের ঘোষণা দেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এদিন ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এমএইচ আরিফসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এনসিপিতে যোগ দেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’-এর নেতারাও দলটিতে শামিল হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মো. সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান জিসান এবং সহ-সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম গাজী। সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়াও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্য নেতারা। এ সময় যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপির বর্তমান রাজনীতিতে অসন্তোষ বাড়ছে, যা তাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যেও প্রতিফলিত হচ্ছে। বিএনপির অনেক বড় নেতার সন্তানরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এমনকি স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সন্তানরাও জানাচ্ছেন, তাদের কাছে বর্তমান রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে তাদের কাউকে কাউকে এনসিপিতে দেখা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ করেনি। এতে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। অতীতে যারা এমন প্রতারণা করেছে, তারা টিকতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা চলছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান তিনি। আসিফ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে উগ্রপন্থিদের উত্থান ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শঙ্কা তৈরি করতে পারে। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান তিনি।
‘আমরা হাওয়ার সঙ্গে নয় রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি’ বলে মন্তব্য করেছেন ভোলা-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা যাবে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যখন বলতে হবে, তখন কার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি? হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছে মুক্তিবাহিনী? আমরা রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। পার্থ বলেন, আওয়ামী লীগ ফিরে আসা নিয়ে আমি একটা পরিস্কার কথা বলে দিতে চাই, জুলাইকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই। জুলাইকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই এবং এই বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই। এদিন দুপুরে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নিয়ে বক্তব্যে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধীদলের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সংসদে জামায়াত আমির ডা.শফিকুর রহমান ফজলুর রহমানের উদ্দেশ্যে বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সবকিছুই বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের উপরে হাতুড়ি পিটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন। তিনি বলেন, কোন মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামাতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে উনাকে জিজ্ঞেস করে করা লাগবে। এরপর জামায়াত আমির বলেন, এটি আমার নাগরিক অধিকার। আমি কোন দল করব? আদর্শ আমি অনুসরণ করব। এর উপর হস্তক্ষেপ করার নূন্যতম কোন অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধানে কাউকে দেয়নি। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে এটা গুরুতর অপরাধ করেছেন উনি। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন। এটা তিনি বাড়তি অপরাধ করেছেন।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ–কে ফ্লোর ক্রসিং ইস্যুতে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। প্রশ্নোত্তর পর্বে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বক্তব্য দেওয়ার পরই হান্নান মাসউদকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তোলেন স্পিকার। স্পিকার বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আপনি কি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন? এই পর্যায়ে ফ্লোর ক্রসিং অনুমোদিত নয়।” তবে ঠিক কী কারণে তাকে এভাবে সতর্ক করা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ১১ দলীয় জোটের অন্য ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে রিটার্নি কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান এই সিদ্ধান্ত দেন। মঈন উদ্দীন খান জানান, মনিরা শারমিন মনোনয়নপত্রের রিটার্নিং দাখিলের নথিতে সরকারি পে-স্কেলে বেতন উত্তোলনের তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু বিস্তারিত তথ্য—কবে, কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন, এর কোনো তথ্য দেননি। তাই তাকে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। জানা গেছে, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল পদে নিয়োগ পান। নিয়োগের পর তিনি ১১ নভেম্বর প্রথমে ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখায় যোগ দেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়াম লীগ সরকারের পতনের পর বদলি হয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার করপোরেট কার্যালয়ে আসেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায়ই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় পড়েন। সর্বশেষ গত বছর ডিসেম্বরে কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছেড়েছেন মনিরা শারমিন। তার ফেসবুক প্রোফাইলে ১১ নভেম্বর ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের অফিসার হিসেবে চাকরি করার তথ্য আছে। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিরোধীদলীয় জোট আসন পাচ্ছে ১৩টি। এর মধ্যে জামায়াতের আটজন, এনসিপির দুজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে একজন, জাগপা থেকে একজন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শিশু জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম।
সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এ বিষয়ে অনুরোধ জানালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এ আলোচনা হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওদের গাড়ি থাকলেও সংসদ সদস্যদের অনেক সময় ভাড়ায় গাড়ি ব্যবহার করতে হয়, যা তাদের জন্য অস্বস্তিকর। তাই জনগণের কাছে সহজে পৌঁছাতে গাড়ির ব্যবস্থা করলে সুবিধা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরই নির্দেশ দিয়েছেন—সংসদ সদস্যরা অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা, বিশেষ করে শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না। তবে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা যেতে পারে বলেও তিনি জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ছোটদের ‘না’ বলতে নেই”—ইঙ্গিত করে তিনি হাসনাতের প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুবিধাসহ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ তৈরি করা হবে, যেখানে তারা দাপ্তরিক কাজ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। বিষয়টি নিয়ে সংসদের সরকারি ও বিরোধী—উভয় দলের সদস্যরাই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একক প্রার্থী হওয়ায় তার সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়া প্রায় নিশ্চিত। ছয় বছর বয়সী জাবির ইব্রাহিম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। সে উত্তরার কেসি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারির শিক্ষার্থী ছিল। সেদিন বাবার সঙ্গে মিছিলে গিয়ে প্রাণ হারায় সে। রোকেয়া বেগম একজন গৃহিণী। তার তিন সন্তানের মধ্যে জাবির ছিল সবার ছোট। তার স্বামী কবির হোসাইন একটি বেসরকারি মোবাইল রিটেইল প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। জানা যায়, জাবির মিছিলে অংশ নিতে আগ্রহী ছিল এবং সেদিন পরিবারের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেয়। শেখ হাসিনার পতনের পর বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে মায়ের হাত ধরে থাকা অবস্থায় আহত হয় সে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে জামায়াত জোট মোট ১৩টি আসন পাচ্ছে। এর মধ্যে দলটি নিজে ১২টি পাওয়ার কথা থাকলেও জোটের শরিকদের মধ্যে কিছু আসন ছেড়ে দিয়েছে। একটি আসনে নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ ১৩ জন নারী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ ও শামছুন্নাহার নাহার। এছাড়া জোটের অংশ হিসেবে এনসিপি থেকেও দুইজন নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন—মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম মিতু। জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিমও জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন। জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিনিময়ে এসব মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সাক্ষাৎকার শেষে গভীর রাতেও রাজধানীর গুলশানে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাত ২টা ৫৫ মিনিটে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ গুলশান কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও সেখানে অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল থেকে শুরু হওয়া সাক্ষাৎকারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা অংশ নেন। সাক্ষাৎকার শেষে বর্তমানে দলীয় ও দাপ্তরিক বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছেন তারেক রহমান।
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় পরিবর্তন এলেও বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপি সরকার এসেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর রূপায়ন টাওয়ারে এনসিপির কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশ আবারও আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা দেশটাকে আগের কোনো বন্দোবস্তে ফেরত যেতে দিতে পারি না। এখন প্রায় আগের মতোই দেশ পরিচালিত হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, ঐক্যমত কমিশনে যে সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং গণভোটের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা নষ্ট করে দিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আপ বাংলাদেশ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাসহ মোট ৪৭ জন এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এ সময় তাদের নামও ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কারও অতীত পরিচয় মুখ্য নয়, এনসিপিতে যোগ দেওয়ার পর সবাই দলের কর্মী হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে চাঁদাবাজ, অপরাধী এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দলে নেওয়া হবে না।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অতীতে কেউ ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তা এনসিপিতে যোগদানের ক্ষেত্রে বাধা নয়। তবে ফ্যাসিবাদে সম্পৃক্ত, গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দলে জায়গা হবে না। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতাদের যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম জানান, যারা এনসিপির গঠনতন্ত্র মেনে দায়িত্বশীল ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আগ্রহী, তাদের নিয়েই দল সামনে এগোতে চায়। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই ভবিষ্যতের পথচলা নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আজ যারা এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন, তারা আগে থেকেই একই আদর্শের অংশ ছিলেন—শুধু প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন ছিল। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হয়ে সারাদেশের তরুণসহ সব বয়সি মানুষকে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নাহিদের মতে, দেশে নতুন করে কোনো স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি গণভোটে জনগণের দেওয়া সংস্কারের পক্ষে রায় বাস্তবায়ন এবং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম। বুধবার ২০২৬ সালের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির ওই তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত সাময়িকী টাইম। এতে ‘লিডারস’ ক্যাটাগরিতে ১৬তম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। টাইমের এ বছরের বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছেন খ্রিস্টান ধর্মের রোমান ক্যাথলিক শাখার সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ। এরপর লিডারস ক্যাটাগরির এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছেন যথাক্রমে মেক্সিকোর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আর এরপরই চতুর্থ স্থানে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লিডারস ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় বেছে নেওয়ার বিষয়ে টাইম ম্যাগাজিনের এডিটর অ্যাট-লার্জ ক্যাম্পবেল বলেছেন, মাত্র কয়েক মাস পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, তারেক রহমান দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের গাছপালায় ঘেরা নিরিবিলি পরিবেশে চিন্তামুক্ত এক নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন ৫৭ বছর বয়সী এই রাজনীতিককে বিরোধী দলের আন্দোলনকারী থেকে দেশের প্রতীক্ষিত এক জাতীয় নেতায় পরিণত করেছে; স্বদেশ থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর দূরে থাকার পর গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে তার সেই নিয়তি পূরণ হয়েছে। টাইমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখা প্রোফাইলে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, যিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমানের ঢাকা ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পর মারা যান বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। গত জানুয়ারিতে ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তারেক রহমান। সেই সময় তার মাকে হারানোর শোক ছিল একদম টাটকা। তবে তিনি এই শোককে সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ ও দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে আবারও চাঙা করার কাজে ব্যবহারের অঙ্গীকার করেন। বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও তরুণ বেকারত্বের সমস্যায় জর্জরিত এবং আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এ সবকিছুরই দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন। টাইম লিখেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বা প্রাথমিক স্বস্তির সময়টুকু হয়তো অন্যদের তুলনায় সংক্ষিপ্ত হবে। কিন্তু অনেক বছর রাজনৈতিক নির্বাসনে থাকার পর তিনি আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। টাইম ম্যাগাজিনকে তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের একসাথে কাজ করা ও ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন; যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, সরকারের আচরণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–এর শাসনামলের প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, এটি “জনগণকে অপমান করার পুরনো ধারা”রই ধারাবাহিকতা। সোমবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোটের এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক ওই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান। মামুনুল হক বলেন, গত ১৫ বছরের শাসনামলে জনগণকে উপেক্ষা ও অপমান করার একটি প্রবণতা গড়ে উঠেছিল। তার দাবি, উন্নয়নকে সামনে রেখে গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা দাঁড় করানো হয়েছিল, যেখানে জনগণের মতামতের গুরুত্ব কমিয়ে দেখা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়েও জনগণের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ–এর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণকে অবমূল্যায়ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের মনোভাব পরিহার করা উচিত। বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনোদন অঙ্গনের একঝাঁক তারকা ছিলেন মনোয়নপ্রত্যাশীর তালিকায়। তবে শেষ পর্যন্ত দলের টিকিট পাননি তারা। এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় দেখা যাচ্ছে তারকাদের। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন ও নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী। মননোয়ন ফরম সংগ্রহ করে কনকচাঁপা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মহান সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণের কথা বলতে চাই। জনগণের দুঃখের কথা বলতে চাই।’ এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে থেকে দলীয় প্রতীকে ভোটের মাঠে লড়তে মননোয়ন কিনেছিলেন এই গায়িকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই আসন থেকে দলটি মননোয়ন দেন সেলিম রেজাকে। অন্যদিকে বেবী নাজনীন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ) আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। রিজিয়া পারভীন ফরম জমা দেওয়ার পর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দল ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে। ত্যাগীদের পাশাপাশি মেধাবী ও যোগ্যতা সবকিছু মিলায়ে আমি আশাবাদী।’ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বিএনপির বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ময়মনসিংহ-১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ চৌধুরীর মেয়ে ফারহানা চৌধুরী বেবী। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এসময় পুলিশ দুই দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালেও আদালত তা নাকচ করে দেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে গ্রেফতার হলেন তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক স্পিকার। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং পরে মিন্টো রোড কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা ও রংপুরে সংঘটিত জুলাইয়ের কয়েকটি হত্যা মামলায় তার নাম রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়েছে বলে জানান ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম। ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কিছুদিন পরই স্পিকারের পদ থেকে সরে দাঁড়ান শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি জনসমক্ষে আসেননি, ফলে তার অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়। গণঅভ্যুত্থানের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি সপরিবারে ঢাকা সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে পরে প্রকাশিত একটি তালিকা থেকে জানা যায়। পরবর্তীতে সেনানিবাস থেকে বের হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপনে অবস্থান করছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়, যা তার স্বামীর নামে বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার গতিবিধি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও জানান, গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে এক শ্রমিক হত্যার মামলাও রয়েছে, যেখানে তাকে আসামি করা হয়েছে। ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে সংসদে প্রবেশ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে এ দায়িত্ব পালন করেন।
জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরের মুক্তমঞ্চে কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। সারজিস আলম বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের মানুষকে বিএনপি ভালো বার্তা দিল না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে, যিনি বিএনপি সমর্থিত একজন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, আজকে আপনারা দেখবেন স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়িয়েছেন ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতি। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমাদের যে সীমাবদ্ধতা ছিল পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে এতদিন পরে যখন একটা নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতির দ্বারা শপথ পড়ে আমাদের এই যে বিএনপি সরকার বা নতুন সরকার তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করে। আবার তারা পূর্বের যেই স্বৈরাচারী লেজ, সেই স্বৈরাচারী লেজ টেনে ধরে কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। এনসিপির এ নেতা আরও বলেন, জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে বিএনপি যদি মনে করে, তারা এই বাংলাদেশে জনগণের বিপক্ষে গিয়ে রাজনীতি করে টিকে থাকতে পারবে, সংসদ স্বাভাবিকভাবে ফাংশন করবে— এটা কখনোই সম্ভব না। কোনো একটা দল যদি তাদের দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে চায়, ক্ষমতার মোহে ডুবে স্বৈরাচারের পথে হাটতে চায়, তাহলে জনগণ এবং আমরা বিরোধী দল একসাথে প্রতিরোধ করবো। আমরা সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই রাষ্ট্রপতির অভিশংসন চেয়েছি, কারণ এই রাষ্ট্রপতির হাত ধরে নতুন সরকার চলতে পারে না।
দেশকে আবারও সংকট থেকে উদ্ধার করতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিএনপি দেশকে ধ্বংসের কিনারা থেকে রক্ষা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, অতীতেও বিএনপি দেশকে ধ্বংসের প্রান্ত থেকে ফিরিয়ে এনেছে, এবারও তা করবে। তবে সামনে সময়টা কঠিন হতে পারে—এ কথা মাথায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা বিএনপির আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বক্তব্যের শুরুতে গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির স্মৃতিচারণ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি গণতন্ত্র ও ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন এবং আগামী নির্বাচনের একজন প্রার্থী ছিলেন। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে যে তিনি গণতান্ত্রিক পথেই রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তাই শহীদ ওসমান হাদি, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধা এবং একাত্তরের শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে দেশের মানুষের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই হতে হবে একমাত্র লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, দেশ এখন স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত। এই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই নতুন করে দেশ গড়ে তুলতে হবে। এর আগে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা মূলত এই প্রজন্মের তরুণ সদস্য। বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইন্টারনেট এখনো অনেকের জন্য ব্যয়বহুল, যা সহজলভ্য করা জরুরি। ইন্টারনেট সুবিধা তরুণদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ইন্টারনেট সেবা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করা হবে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য। আজিজুল হক কলেজে দেওয়া ফ্রি ইন্টারনেট সংযোগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এখানে একজন শিক্ষার্থী এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিনা মূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে এবং পুনরায় লগইন করেও একই সুবিধা নিতে পারবে। দেশের আইটি পার্কগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে জনগণের অর্থ অপচয় করে যে ডিজিটাল পার্কগুলো গড়ে তোলা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব পার্ক সংস্কার ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, তরুণদের ভাষা শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা বিদেশে সহজেই চাকরির সুযোগ পায়। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বক্তব্যের শেষাংশে বিএনপির ৩১ দফা ও নতুন স্লোগানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এখন আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই—‘করবো কাজ, গড়বো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সবাইকে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি জিয়াউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দলটি। তার জন্য বাসভবন, রাজনৈতিক কার্যালয় ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার আলাদা ব্যবস্থাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে উঠবেন তারেক রহমান। এই বাড়ির পাশেই ভাড়া করা বাসা ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পাশাপাশি গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য আলাদা একটি চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গুলশানে আরেকটি বাসা ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশান ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি ভবনে বিএনপির নতুন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতা কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। আগামী ২৫ ডিসেম্বর টানা ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে ঢাকায় ফিরছেন তারেক রহমান। এ উপলক্ষে বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সেদিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত থাকবেন। গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি মূলত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। কয়েক মাস আগে গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়িটির দলিল বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে সেই বাড়িতেই উঠতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। বাসভবনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে নিরাপত্তা ছাউনি এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীরা জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বসবাস নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চেয়ারপারসনের চেম্বারের পাশেই তারেক রহমানের জন্য আলাদা চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তার জন্য একটি পৃথক চেম্বার রাখা হয়েছে। সেখানে আগে থেকেই চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চেম্বার রয়েছে। গুলশান ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি ভবনটি বিএনপির অফিস হিসেবে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। চারতলা এই ভবনে রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ব্রিফিং রুম, অন্য তলাগুলোতে বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বসার ব্যবস্থা এবং একটি গবেষণা সেলও রাখা হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই দিনের অপেক্ষায় আছি। আমাদের বিশ্বাস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তাকে ঘিরেই আমাদের সব প্রস্তুতি।” সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ, তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, জিয়া উদ্দিন হায়দার, চেয়ারপারসনের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য সাইমুম পারভেজসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে তার পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী শিশির আসাদ, তানবীরুল বারী নয়ন এবং তেঁতুলিয়া উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী হাবিবুর রহমান হাবিব। মনোনয়নপত্র ক্রয়ের বিষয়টি মুঠোফোনে নিশ্চিত করে সারজিস আলম বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী আজ মনোনয়ন ফরম কেনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে সজাগ ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগোনো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনের বিকল্প নেই—গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় যেকোনো মূল্যে ভোট আয়োজন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশ ও জনগণের ভবিষ্যৎ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র রুখতে হলে গণতান্ত্রিক পথেই এগোতে হবে। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে বিএনপির ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মসূচিতে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘ষড়যন্ত্র থেমে নেই। দেশের কল্যাণে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ না হই, তাহলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেই ষড়যন্ত্র থামানো সম্ভব—এ কারণেই যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হতে হবে।’ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘গতকাল শরিফ ওসমান হাদির ওপর দুষ্কৃতকারীদের হামলা হয়েছে। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এই হামলার পেছনে কারও কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’ তিনি আরও জানান, কিছুদিন আগে চট্টগ্রামে বিএনপির এক কর্মীর ওপর হামলার ঘটনাও উদ্বেগজনক। তার ভাষায়, ‘এসব ঘটনার মাধ্যমে কেউ হয়তো ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।’ অতীতের শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী স্বৈরাচার যেভাবে দেশ পরিচালনা করেছে, আমরা সেভাবে দেশ চালাব না। আমরা পরিবর্তন আনব, মানুষের কল্যাণ করব। সে লক্ষ্যেই “দেশ গড়ার পরিকল্পনা” আপনাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, নির্বাচিত হলে আমরা তা বাস্তবায়ন করব।’ দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের মানুষের কাছে যেতে হবে। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে জনগণের সঙ্গে মিশতে হবে, কথা বলতে হবে। বসে থাকলে চলবে না।’ বিএনপির দায়িত্ব ও করণীয় প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আমাদের বড় দায়িত্ব হলো দলের প্রতিটি পরিকল্পনা জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া। শুধু দোরগোড়ায় পৌঁছালেই হবে না, পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতেই হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি দুপুরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। সন্ধ্যায় তাকে দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে হাদির শারীরিক খোঁজখবর নিয়ে দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া কামনা করেন। ঢাকা মেডিকেল থেকে বেরিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তফসিল ঘোষণার ঠিক পরেরদিন একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী এবং জুলাই যোদ্ধাকে টার্গেট করে গুলি করার ঘটনা গভীর উদ্বেগের। তিনি বলেন, এই জাতীয় ঘটনাকে কোনভাবেই ছোট করে দেখা যায় না, যাবে না। অনতিবিলম্বে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং এ ঘটনার পিছনের শক্তি কে বা কারা সেটি জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা ১৭ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, ঢাকা ৭ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী হাফেজ হাজী মুহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধের ঘটনায় নতুন তথ্য মিলেছে। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর বিজয়নগর এলাকায় অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীর গুলিতে আহত হন তিনি। ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সিআইডি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থানের পাশ থেকে ২টি গুলির খোসা উদ্ধার করে সিআইডি। গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে খোসাগুলো জব্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা খোসা পরীক্ষা করে অস্ত্রের ধরন ও গুলির উৎস শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে। ওসমা হাদির শারিরীক অবস্থা নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান চ্যানেল 24 কে জানান, হাদির মস্তিষ্কে গুলি লেগেছে, তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। তার অস্ত্রোপচার চলছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি। হাদির সঙ্গে থাকা মিসবাহ জানান, জুমার নামাজ শেষে বিজয়নগর কালভার্ট এলাকার কাছে রিকশায় যাওয়ার সময় দুইজন মোটরসাইকেলে এসে হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি করার পর হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। পরে হাদিকে রিকশাতেই হাসপাতালে আনা হয়। গত ১৪ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া একটি পোস্টে শরিফ ওসমান হাদি দাবি করেছিলেন, তাকে হত্যা ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের সহিংস হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি লেখেন, বিদেশি নম্বর থেকে একাধিক কল ও মেসেজের মাধ্যমে তাকে নজরদারিতে রাখা এবং তার পরিবারকে ক্ষতি করার হুমকি দেয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী অবস্থান নিয়েছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে স্থিতিশীলভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন এবং প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় তাকে দেশের বাইরে নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে—এমনটাই জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গণমাধ্যমে ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান। ডা. জাহিদ বলেন, গত শুক্রবার মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের কারিগরি ত্রুটি এবং সেই মুহূর্তে বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের উপযোগী না থাকায় তাকে স্থানান্তর সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ড সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। পৃথিবীর যেকোনো জায়গার সর্বোত্তম চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা আশাবাদী—খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা যাবে এবং প্রয়োজনে যে কোনো সময় তাকে বিদেশেও স্থানান্তর করা হতে পারে। এসময় তিনি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় এ বিষয়ে নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। খালেদা জিয়ার মতো একজন নেত্রীকে ঘিরে আবেগ প্রকাশের সময় ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য আরও জানান, খালেদা জিয়া বর্তমানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন এবং সংকটাপন্ন রোগীর জন্য যেভাবে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দেওয়া হয়—তিনি ঠিক সেভাবেই চিকিৎসা পাচ্ছেন। চিকিৎসকরা আরও আশ্বস্ত করেছেন যে, তিনি চিকিৎসার সঠিক সাড়া দিচ্ছেন এবং আগের মতোই সবকিছু গ্রহণ করতে পারছেন।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫
দেশের মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ‘স্পন্দনবি’। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইমদাদ সিতারা খান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবারও বৃত্তি প্রদান করবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ুয়া প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী এই বৃত্তির সুযোগ পাবেন। আগ্রহীরা আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ডাক, কুরিয়ার বা সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কারা আবেদন করতে পারবেন? বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ এবং বর্তমানে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত নিম্নোক্ত বিষয়ের মেধাবী, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন— বিএসসি অনার্স বিএসসি অনার্স (কৃষি, পশুপালনসহ সব অনুষদ) এমবিবিএস বিডিএস বিএসসি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বিএ অনার্স বিএসএস অনার্স বিবিএ আবেদনপত্র সংগ্রহ আবেদনকারীরা নিচের যেকোনো মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন— 🔗 https://spaandanb.org/projects/imdad-sitara-khan-scholarship/ 🔗 https://www.facebook.com/share/g/1FXJc2NhHe অথবা ই-মেইলে যোগাযোগ করেও ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে— mostafiz14@yahoo.com rajib.bd@spaandanb.org tuhin.bd@spaandanb.org sajedul1233@gmail.com zabbarbd5493@gmail.com আবেদন পাঠানোর ঠিকানা স্পন্দনবি বাংলাদেশ অফিস বাসা-৭/২, শ্যামলছায়া-১, ফ্ল্যাট-বি/২, গার্ডেন স্ট্রিট, রিং রোড, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। যোগাযোগ বৃত্তি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য অফিস সময়ে যোগাযোগ— ☎️ ০২-৪৮১১৪৪৯৯ 📱 ০১৭১৩-০৩৬৩৬০ 📱 ০১৭৭৩-৬১০০০৯ 📱 ০১৯৩৩-৫৬০৬৬৫ 📱 ০১৭৯৬-১০২৭০০
পোশাক প্রস্তুতকারক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান আড়ং নতুন কিছু পদে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদের বিবরণ: পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট বিভাগ: হেলথ সিকিউরিটি স্কিম (HSS), সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড প্রোডিউসার ডেভেলপমেন্ট (SCPD) পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অন্য যোগ্যতা: এমএস এক্সেল এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে দক্ষতা ডকুমেন্টেশন ও ফাইল ব্যবস্থাপনায় পারদর্শিতা অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১–২ বছর চাকরির ধরণ ও অন্যান্য তথ্য: চাকরির ধরন: ফুলটাইম কর্মক্ষেত্র: অফিসে প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: উল্লেখ নেই কর্মস্থল: ময়মনসিংহ (ত্রিশাল) বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে অন্যান্য সুবিধা: প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, উৎসব বোনাস, স্বাস্থ্য ও জীবন বিমা এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা আবেদন করার নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে আবেদন করতে পারেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্লাজা সেলস বিভাগে ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে ১০০ জন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ৮ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদসংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম: যমুনা গ্রুপ বিভাগ: প্লাজা সেলস পদের নাম: এক্সিকিউটিভ পদসংখ্যা: ১০০টি যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রার্থীকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। এ পদে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নেই, তাই নবীন প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। অন্যান্য তথ্য চাকরির ধরন: ফুল-টাইম বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে প্রার্থীর ধরন: নারী ও পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: ন্যূনতম ২২ বছর কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ সময়: ৮ নভেম্বর ২০২৫।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে নিয়োগ দেশের অন্যতম মানবিক সংগঠন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে একজন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদসংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পদের নাম: টেকনিক্যাল অফিসার পদসংখ্যা: ১ জন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি বা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ২ বছর বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪০ বছর বেতন ও চাকরির ধরন বেতন: ৫০,০০০ টাকা চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন কর্মস্থল: কুড়িগ্রাম আবেদন প্রক্রিয়া আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ওয়েবসাইটে ক্লিক করুন।