তামিলনাড়ুতে সরকার গঠনকে ঘিরে চলা রাজনৈতিক টানাপোড়েনে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। রাজ্যপাল আর ভি আর্লেকার এখনো নিশ্চিত নন যে অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়ের কাছে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে শনিবার (৯ মে) তার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া হবে কি না, তা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জানিয়েছে এনডিটিভি। রাজ্যপাল দপ্তরের সূত্র বলছে, ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সরকার গঠনে দরকার ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন। কিন্তু বিজয় এখনো সেই সমর্থনের স্পষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তামিলাগা ভেট্রি কালাগাম (টিভিকে) বর্তমানে ১১৬ জন বিধায়কের সমর্থন পেয়েছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার চেয়ে দুই কম। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজ্যপালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের দাবি জানান বিজয়। তিনি বলেন, তার পক্ষে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। তবে রাজ্যপালের দপ্তরের দাবি, ভিসিকে ও ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগের (আইইউএমএল) সমর্থনের লিখিত প্রমাণ তিনি জমা দিতে পারেননি। পরে আইইউএমএলও জানায়, তারা টিভিকে নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ নয়। গত মাসের নির্বাচনে প্রথমবার অংশ নিয়েই ২৩৪ আসনের মধ্যে ১০৮টি আসন জিতে বড় চমক দেখায় বিজয়ের দল টিভিকে। এতে করে দীর্ঘ ৬২ বছর ধরে তামিল রাজনীতিতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের আধিপত্যে বড় ধাক্কা লাগে। তবে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় শুরু থেকেই জোট গঠনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দলটি। এর আগে বুধবার ও বৃহস্পতিবার দুই দফা রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেন বিজয়। প্রতিবারই আর্লেকার স্পষ্ট করে দেন, পর্যাপ্ত সমর্থনের নিশ্চয়তা ছাড়া সরকার গঠনের আমন্ত্রণ দেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে তিনি বিজয়কে প্রশ্নও করেন, কম সমর্থন নিয়ে কীভাবে সরকার চালানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের প্রমাণপত্র জমা দিতে বলেন। এদিকে টিভিকের ১০৮ আসনের সঙ্গে কংগ্রেস তাদের পাঁচ আসনের সমর্থন দেওয়ার কথা জানায়। তবে শর্ত ছিল, বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক শক্তির সঙ্গে জোট না করা। এ নিয়ে ডিএমকে ও কংগ্রেসের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয় এবং দুই পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলে। সংখ্যা বাড়াতে টিভিকে পরে ভিসিকে, সিপিআই(এম) ও সিপিআইয়ের সঙ্গেও আলোচনা শুরু করে। যদিও এসব দল আগে থেকেই ডিএমকের মিত্র ছিল। একই সময় বিকল্প সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও ডিএমকের সঙ্গে আলাপ চলছিল বলে জানা যায়। বিজয় আইইউএমএলের একজন বিধায়ক এবং টিটিভি দিনাকরণের আম্মা মাক্কাল মুন্নেত্রা কাজাগামের একমাত্র বিধায়কের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও করেন। বাম দল সিপিআই ও সিপিআই(এম) টিভিকেকে বাইরে থেকে সমর্থন দেওয়ার কথা বললেও মন্ত্রিসভায় যোগ দেবে না বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেস তাদের সমর্থনের বিনিময়ে দুটি মন্ত্রিত্ব চায় বলে জানা গেছে। এই অচলাবস্থার মধ্যে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের সম্ভাব্য জোট নিয়েও জল্পনা ছড়ায়। যদিও দুই দলের শীর্ষ নেতারা পরে এমন সম্ভাবনা নাকচ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের উত্থান ঠেকাতেই এ ধরনের আলোচনার গুঞ্জন উঠেছে। এদিকে বিজেপি পুরো পরিস্থিতিতে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলটির তামিলনাড়ু শাখার মুখপাত্র নারায়ণ তিরুপাথি বলেন, এটি একটি বিভক্ত জনরায়, টিভিকের এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই। তবে বিজয় যদি তা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে সাংবিধানিকভাবেই রাজ্যপাল তাকে সরকার গঠনের সুযোগ দেবেন।
স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র যে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে, তা এখনো খতিয়ে দেখছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা ভাবনাচিন্তা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে ওয়াশিংটন চায়, আজকের মধ্যেই তেহরান তাদের অবস্থান জানাক। শুক্রবার (৮ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, বর্তমান পরিস্থিতির ওপর ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সতর্ক নজর রাখছে। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা হঠকারী পদক্ষেপের জবাব দিতে তেহরান সম্পূর্ণ প্রস্তুত। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আজই ইরানের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার আশা করছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, শুক্রবারের মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক সাড়া আসতে পারে। ইতালির রাজধানী রোমে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রুবিও বলেন, ইরানের জবাবে কী আসে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে তারা এমন প্রতিক্রিয়া আশা করছেন, যা গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ আলোচনার পথ তৈরি করবে। এদিকে, ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, মুখপাত্র বাগাই সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া সামরিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন, ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরানের আরেক আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, গত এক ঘণ্টা ধরে ওই এলাকায় ইরানি বাহিনী ও মার্কিন রণতরীর মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে সংঘর্ষ চলছে।
টানা ৪০ দিন যুদ্ধ চলার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর মাঝে আবারও পালটাপালটি হামলা শুরু করেছে দুই দেশ। এতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চরম উত্তেজনার মুখে পড়েছে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে পালটা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানি সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৭ মে) মার্কিন বাহিনী তাদের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে প্রথম হামলা চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে বলে জানিয়েছে তেহরান। জবাবে আইআরজিসি নৌবাহিনী মার্কিন যুদ্ধজাহাজে লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, তারা সফলভাবে এই হামলা প্রতিহত করে ইরানের সামরিক স্থাপনায় পালটা আঘাত হেনেছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, জাস্ক বন্দরের কাছে তাদের একটি তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন বাহিনী প্রথমে হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে আইআরজিসি নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি অতিক্রমকারী তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার (ইউএসএস ট্রাক্সটন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা এবং ইউএসএস মেসন) লক্ষ্য করে একাধিক জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিস্ফোরকবাহী ড্রোন নিক্ষেপ করে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের এই হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে এবং তাদের কোনো যুদ্ধজাহাজের ক্ষতি হয়নি। এর পরপরই ‘আত্মরক্ষামূলক’ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মার্কিন বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, মিনাব এবং সিরিক শহরের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পালটা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ট্রাম্প জানিয়েছে, তারা উত্তেজনা বাড়াতে চায় না, তবে নিজেদের বাহিনীকে রক্ষায় সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করবে। অন্যদিকে, ইরান এই ঘটনাকে মার্কিন আগ্রাসন হিসেবে দেখছে। এর আগে ইরান দাবি করেছিল, তাদের হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ওমান উপসাগরের দিকে পালিয়ে গেছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য ইরানের সেই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিল।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার (৮ মে) কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতা ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’র সঙ্গে নির্বাচিত নতুন বিধায়কদের বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে। আজই রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানাবেন শুভেন্দু। মুখ্যমন্ত্রীর হওয়ার পাশাপাশি বিধানসভার পরিষদীয় দলনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন তিনি। এর আগে এদিন বেলা ১১টার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বহনকারী বিমান কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখান থেকে তিনি সোজা চলে যান দক্ষিণেশ্বরে। মন্দিরে পূজা দিয়ে তিনি সেখান থেকে যান নিউ টাউনের হোটেলে। দুপুরে বিশ্ব বাংলা কনভেশন সেন্টারে বিজেপির জয়ী প্রার্থী তথা হবু বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। আর সেখানেই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে আলোচনা হয়। তবে, ভারতের এই রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব যে শুভেন্দুই পেতে যাচ্ছেন সেটি আগে থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল। জানা গেছে, নিউ টাউনের হোটেলে রাত্রিযাপন করবেন অমিত শাহ। এরপর আগামীকাল শনিবার সেখান থেকে সোজা চলে যাবেন কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সেখানেই শপথে নেবেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের জন্ম শুভেন্দুর। দীর্ঘ তিন দশকের রাজনৈতিক জীবন, একসময়ের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়া সঙ্গী। রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়েছিল ১৯৯৫ সালে কাঁথি পৌরসভার কাউন্সিলর হিসেবে। এরপর ২০০৬ সালে দক্ষিণ কাঁথি থেকে প্রথমবার বিধানসভায় পদার্পণ এবং ২০০৭-০৮ সালের ঐতিহাসিক নন্দীগ্রাম আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি রাজ্য রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারে পরিবহণ ও সেচ দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রিত্ব সামলানোর পর, ২০২০ সালে আদর্শগত পার্থক্যের কারণে দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগদান তার রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে শুভেন্দু অধিকারী 'জায়ান্ট কিলার' হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেন। সেই জয়ের পর রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে তিনি শাসকদলের প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি এক অনন্য সাহস দেখিয়ে নিজের দুর্গ নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক ভবানীপুর থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। দুই কেন্দ্র থেকেই জয় লাভ করার পাশাপাশি বিজেপি রাজ্যে ম্যাজিক ফিগার পার করে। ৯২.৪৭ শতাংশের রেকর্ড ভোটার উপস্থিতি এবং ভোটার তালিকা থেকে ৯১ লাখ ‘ভুয়া’ ভোটার বাদ দেয়ার লড়াইকে হাতিয়ার করে শুভেন্দু আজ বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে। কাঁথি হাই স্কুল থেকে স্কুল জীবন শেষ করে প্রভাত কুমার কলেজ এবং পরবর্তীকালে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করা এই নেতা মেদিনীপুরের অধিকারী পরিবারের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে বহন করছেন। বর্তমানে তার বাবা শিশির অধিকারী এবং দুই ভাই দিব্যেন্দু ও সৌমেন্দু সকলেই বিজেপির ছত্রছায়ায় মেদিনীপুরের রাজনৈতিক একাধিপত্য বজায় রেখেছেন। মেদিনীপুরের সিংহ থেকে আজ কলকাতার ক্ষমতার অলিন্দে শুভেন্দুর এই জয়যাত্রা পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।
আসন্ন ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। গণনা অনুসারে আগামী ২৭ মে (বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আসন্ন ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ জানিয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান। বুধবার (৬ মে) এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানিয়েছে গালফ নিউজ। অ্যাস্ট্রোনমি সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান এই গণনা করেছেন। আরব জ্যোতির্বিজ্ঞান ও মহাকাশ বিজ্ঞান ইউনিয়নেরও একজন সদস্য আল জারওয়ান। তিনি জানান, জিলহজ মাসের সূচনাসূচক অর্ধচন্দ্রটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের সময় অনুযায়ী রোববার (১৭ মে) রাত ১২.০১ মিনিটে দেখা যাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের গণনা অনুসারে, আগামী ১৮ মে, ১৪৪৭ হিজরি মাসের যুল-হিজ্জাহ (জিলহজ) মাসের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আরাফার দিবস হবে ২৬ মে (মঙ্গলবার) এবং পবিত্র ঈদুল আজহা ২৭ মে (বুধবার) অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদন অনুসারে, সেদিন সূর্যাস্তের প্রায় ৫৮ মিনিট পর চাঁদ অস্ত যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি দিগন্তের প্রায় ১০ ডিগ্রি উপরে থাকবে, ফলে অনুকূল পরিস্থিতিতে চাঁদ দেখা যাবে। সেই হিসেবে আগামী ১৮ মে সোমবার জিলহজ মাসের প্রথম দিন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। সেটি হলে জিলহজ মাসের ৯ তারিখ অর্থাৎ আরাফা দিবস পড়বে ২৬ মে, মঙ্গলবার। আর পরের দিন ২৭ মে, বুধবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হবে। উল্লেখিত তারিখগুলো বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত জানিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, তবে জিলহজ মাস, আরাফার দিন ও ঈদুল আজহার চূড়ান্ত তারিখ সরকারিভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। সাধারণত, আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর একদিন পর বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদ্যাপিত হয়। সেই হিসাবে আগামী ২৮ মে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা পালিত হতে পারে। তবে দেশের আকাশে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির চাঁদ দেখার ওপর দেশে ঈদের চূড়ান্ত তারিখ নির্ভর করছে।
টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার পর বিধানসভা নির্বাচনে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (৫ মে) কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী ফলাফলে কারচুপির অভিযোগ তুলে ওই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন মমতা। পশ্চিমবঙ্গের এই নেত্রী বলেছেন, আমি হারিনি, তাই রাজভবনেও যাব না। পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের এই অনড় অবস্থানের ফলে রাজ্যে নজিরবিহীন এক সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট নিরসনের দায় রাজ্যপাল আরএনরবির ওপর বর্তাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গতকাল নির্বাচনী ফলাফলে পরাজয়ের ইঙ্গিত পাওয়ার পরপরই এক জরুরি ভিডিও বার্তায় ‘বাঘের বাচ্চার’ মতো লড়াই করার অঙ্গীকার করেছিলেন পশ্চিমবঙ্গের এই মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু আজ সংবাদ সম্মেলনে মমতা বলেছেন, নির্বাচনে তিনি হারেননি; বরং বিজেপি ‘লুটপাটের’ মাধ্যমে ফল ছিনিয়ে নিয়েছে।
সতর্ক উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের চেষ্টা করায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজে মিসাইল ছুড়েছে ইরান। সোমবার (৪ মে) এ ঘটনা ঘটে। এক প্রতিবেদনে ইরানি বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ জানিয়েছে, যুদ্ধজাহাজটি ইরানের জাস্ক দ্বীপের কাছে ছিল। তখন এটিতে মিসাইল হামলা চালানো হয়। জাস্ক দ্বীপের কাছ দিয়ে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে যাচ্ছিল। হামলার পর জাহাজটি তার গতিপথ পরিবর্তন করে। তবে যুদ্ধজাহাজে ইরানিদের হামলার দাবি অস্বীকার করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে বলেছেন, তাদের কোনো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেনি। এদিকে ইরান এ হামলা চালানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেসব জাহাজ আটকে আছে সেগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে বের করে নিয়ে আসবেন তারা। এরপরই ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্কতা দিয়ে জানায়, যদি হরমুজে কোনো জাহাজ প্রবেশ করে তাহলে সেটিতে হামলা চালানো হবে। টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। তবে শুরু থেকেই এটি ভঙ্গুর ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরদিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরে নৌ-অবরোধ আরোপ করে। এছাড়া আরব সাগর থেকে তাদের ট্যাংকার জাহাজও জব্দ করে। যুদ্ধ বিরতির পর গত ১২ এপ্রিল দুই দেশ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আলোচনায় বসেছিল। কিন্তু তারা সেখান থেকে কোনো সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে পেছনে ফেলে স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্য সরকার গঠনের পথে রয়েছে বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গে অভূতপূর্ব এই বিজয়ের খবরে একাধিক জায়গায় বাজতে শুরু করেছে ডিজে, উড়ছে গেরুয়া আবির। এর মধ্যে বিভিন্ন জায়গা থেকে সংঘাতের খবরও এসেছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার (৪ মে) একটি ভোট গণনাকেন্দ্রের বাইরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। পাল্টা শুরু হয় বিজেপির ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান। এরপরই দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। সবশেষ সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে কোচবিহারের দিনহাটায়। সেখানে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। সংঘর্ষের সময় দলীয় নেতাকর্মীদের ‘জয় শ্রী রাম’ ও ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। দিনহাটায় বিজেপির প্রার্থী অজয় রায়, তৃণমূলের উদয়ন গুহ। গণনা করা ভোটের সবশেষ প্রবণতায় দেখা যায়, অজয় রায় ১০ হাজারের বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের বাইরে বিজেপি কর্মীরা ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান দিয়েছেন। এদিকে টিভি নাইন জানায়, ক্যানিং পূর্বের গণনা কেন্দ্রে তুমুল উত্তেজনা দেখা দেয়। ভোট গণনা কেন্দ্রের মধ্য থেকেই হই হই রব! আসানসোল গণনা কেন্দ্রের বাইরেও উত্তেজনা। ভোট গণনা কেন্দ্র থেকে কিছুটা অদূরে তৃণমূল ক্যাম্প অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পুলিশ-কেন্দ্রীয় বাহিনী। আসানসোলে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বাইরে গণনা কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূলের ক্যাম্পেও সংঘর্ষের খবর মিলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মোবাইল ফোন জব্দ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোট গণনাকেন্দ্রে ফোন নিয়ে প্রবেশের অনুমতি না থাকায় তাদের ফোন জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগণনা শুরু হয়। এর মধ্যে বিকেলে ভবানিপুর আসনের সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুল কেন্দ্রে যান মমতা। সেখানে যান শুভেন্দুও। ওই সময় তাদের কাছে ফোন থাকায় সেগুলো জব্দ করার নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে প্রবেশ করেছিলেন মমতার ভাইয়ের ছেলে অভিষেক। কিন্তু তিনি সেখানকার প্রার্থী বা এজেন্ট না হওয়ায় তাকে বেরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনে সেখানকার বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকালে ভোটগণনা শুরু হয়। এতে দেখা যাচ্ছে, ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৫টি আসনে এগিয়ে আছে বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূল মাত্র ৮৪টি কেন্দ্রে এগিয়ে আছে। ফলে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। এমন পরিস্থিতিতে আসানসোলের জামুরিয়ায় তৃণমূলের অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। জামুরিয়ার পাশাপাশি কুচবিহারের দিনহাটায় সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে ভোটগণনা কেন্দ্রের সামনে দুই দলের নেতাকর্মীরা মারামারিতে জড়ান। এর পাশাপাশি আসানসোলে ভোটগণনা এজেন্টদের মধ্যেও হাতাহাতি হয়। ওই সময় সেখানে বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করেন তারা। এরপর নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৩টি আসনের মধ্যে ১৬৭ আসনে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। অন্যদিকে মাত্র ৫৯টি আসনে জয় পেয়েছে ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস। মোট আসনের মধ্যে ১৪৮টি আসন পেলেন সরকার গঠন করতে পারবে বিজয়ী দল। ফলে স্বাধীনতার পর এই প্রথম রাজ্যে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিজেপি। সোমবার (৪ মে) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ভারতের নির্বাচন কমিশন এই তথ্য ঘোষণা করেছে। গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ হয় পশ্চিমবঙ্গে। নির্বাচনের সময় তৃণমূল কংগ্রেস জানিয়েছিল, তারা গত তিনবারের মতো এবারও বিপুল ব্যবধানে জয় পাবে। তবে ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দেখা যাচ্ছে বিজেপিকেই বেশিরভাগ মানুষ ভোট দিয়েছেন। এতে মমতার ১৫ বছরের শাসনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। এদিকে নিজের আসন ভবানীপুরেও হেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বশেষ ১৮তম রাউন্ডে তৃণমূল কংগ্রেসের এই নেত্রী এই আসনে ভোট পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৭৮২। অন্যদিকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী পেয়েছেন ৬৬ হাজার ৭৮৫ ভোট। মমতার চেয়ে ১১ হাজার ৩ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। আরেকটি আসন নন্দীগ্রামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শুভেন্দু। সেখানে তার বিরুদ্ধে বিজেপি থেকে পদত্যাগ করা পবিত্র করকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু এই কৌশল কার্যত ব্যর্থ হয়ে গেল। কারণ শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার ভোটের ব্যবধান ১০ হাজারের বেশি। যদিও নন্দীগ্রাম নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, ‘নন্দীগ্রামে তৃণমূল জিতছে!’ ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে লড়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে হারতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে। শেষ হাসি হাসেন শুভেন্দুই। প্রায় ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে জয় ছিনিয়ে আনেন লোকসভার সাবেক এই সাংসদ। সেই ফল নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়। পাঁচ বছর পরে আরও একটি বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা হয়ে গেলেও হাইকোর্টে সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও কুয়েতে কাছে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে নতুন করে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের দখলদার ইসরায়েলের জন্যেও অ্যাডভান্স প্রিসিশন কিল উইপেন সিস্টেম (এপিকেডব্লিওএস) দেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশ-ইসরায়েল, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে মোট ৮.৬ বিলিয়ন (৮৬০ কোটি) ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর নবম সপ্তাহ এবং একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার তিন সপ্তাহের বেশি সময় পর এই ঘোষণাটি এলো। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত ছিল— কাতার: ৪.০১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জাম এবং ৯৯২.৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ (APKWS)-যা একটি লেজার-নির্দেশিত অস্ত্র কিট। সংযুক্ত আরব আমিরাত: ১৪৭.৬ মিলিয়ন ডলার মূল্যের APKWS সরঞ্জাম। কুয়েত: ২.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (Integrated Battle Command System)। ইসরায়েল: ৯৯২.৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ (APKWS)। পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, কাতার, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে APKWS বিক্রির প্রধান ঠিকাদার হলো বিএই সিস্টেমস (BAE Systems)। অন্যদিকে, কুয়েতের সমন্বিত যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং কাতারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে রয়েছে আরটিএক্স (RTX) এবং লকহিড মার্টিন (Lockheed Martin)। এছাড়া কুয়েতের চুক্তিতে নর্থরপ গ্রুম্যান (Northrop Grumman)-ও অন্যতম প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ৩০টি কার্গো বিমানে করে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ইসরায়েল একাই পেয়েছে হাজার হাজার টন অস্ত্র ও সরঞ্জাম। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের উপসাগরীয় মিত্রদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জেনেভায় আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিনা উসকানিতে ইরানের ওপর হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বাহিনী। ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধ বিরতি কার্যকর আছে। ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ১০ এপ্রিল পর্যন্ত ইরান-মার্কিন সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৭৫ জন ইরানি নিহত হন, যার মধ্যে ২,৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানা ৩৮ দিনের সংঘাত শেষে বর্তমানে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চললেও যুদ্ধের দগদগে দাগ এখনও স্পষ্ট ইরান জুড়ে। স্বজন হারানোর শোক কিংবা মার্কিন-ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন অনেকটাই তাজা এখনও। মার্কিন সেনারা এই মুহূর্তে হামলা না চালালেও তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের দায়িত্ব যেন ঠিকই পালন করছে যুদ্ধকালে আকাশ থেকে ফেলা অসংখ্য বোমা। এমনই এক নজির দেখা গেল শনিবার (২ মে)। মার্কিন অবিস্ফোরিত একটি বোমা এদিন ফেটে গিয়ে একসঙ্গে কেড়ে নিয়েছে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ১৪ জন সদস্যের প্রাণ। খবর গালফ নিউজের। ইরানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জানজানে অবিস্ফোরিত সেই বোমাটি অপসারণ করতে গিয়ে মর্মান্তিক এ ঘটনার সম্মুখীন হন আইআরজিসি সদস্যরা। আকস্মিক এ বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ২ জন সেনা। আইআরজিসির আনসার আল মাহদি ইউনিট এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়ে বলেছে, বিস্ফোরিত বোমাটি কী ধরনের— তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতরা সবাই সেই ইউনিটের সবচেয়ে অভিজ্ঞ এবং বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সদস্য ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিবৃতিতে। জানজান শহরে যে এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটেছে— সেখানে বেশ কিছু ক্লাস্টার বোমা এবং এয়ার-ড্রপড মাইন রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ওই এলাকায় বেশ কিছু বোমা ফেলেছিল মার্কিন বিমানবাহিনী— যেগুলো অবিস্ফোরিত থেকে গেছে। টানা ৪০ দিন যুদ্ধের পর গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চলমান যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিতে জানজান শহরের এ ঘটনাকে আইআরজিসির সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোতে। যুদ্ধবিরতির পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অবিস্ফোরিত বোমার অনুসন্ধান এবং সেগুলো নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু করে রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের সদস্যরা। আইআরজিসির তথ্য অনুসারে, এ পর্যন্ত ১৫ হাজারেরও বেশি অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে বাহিনীর বোমা বিশেষজ্ঞ টিম।
আবারও যুদ্ধের দামামা বেজে উঠছে মধ্যপ্রাচ্যে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে টানা ৩৮ দিনের সংঘাত শেষে যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইরান, তা থেকে বেরিয়ে নতুন করে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। এরই অংশ হিসেবে সবশেষ যুদ্ধে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে তেহরান। একইসঙ্গে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখে ক্ষেপণাস্ত্রও বের করে আনা হচ্ছে। শুক্রবার (১ এপ্রিল) সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ট্রাম্প প্রশাসন আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নিতে পারে, সেই অনুমান থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টা হামলা চালানোর জন্য ইরান দ্রুত তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে চাইছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। হোয়াইট হাউজ সূত্রের খবর, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপসহ বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই বৈঠকে প্রেসিডেন্টকে সামরিক বিকল্প ও ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করবেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্প পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানা গেছে। এদিকে ইরানে আবারও অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্পও। বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু করার প্রয়োজন হতে পারে। এ সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে আমি এবং হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া আর কেউ কিছু জানেন না। এমনকি ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জার্মানির পর এবার ইতালি ও স্পেন থেকেও সেনা সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বরত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বার্তায় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত নিজেদের যুদ্ধজাহাজগুলোতে নতুন করে জ্বালানি, খাবার ও গোলাবারুদসহ প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহ করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেন্টকমের শেয়ার করা কিছু ছবিতে দেখা যায়, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘ইউএসএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক’-এ বিপুল পরিমাণ রসদ তোলা হচ্ছে। রণতরীটি বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে সহায়তা দিচ্ছে। এর আগে, ইরান যুদ্ধে নিয়োজিত মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এক ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। সিনেটে প্রস্তাবটি ৪৭-৫০ ভোটে পরাজিত হয়। অপরদিকে আজ শুক্রবার (১ মে) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতার ওপর একটি আইনি বাধ্যবাধকতার সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায়, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধের আশঙ্কা দ্রুত দানা বাঁধছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানে হামলার চিন্তা থেকে পিছিয়ে আসবে কি না, সেটা অনেকটা নির্ভর করছে ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের ওপর। মে মাসের মাঝামাঝি বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায় এই সফরকে ‘অগ্রাধিকার’ দিচ্ছে হোয়াইট হাউজ। এর আগে যুদ্ধের কারণে একবার এই সফর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা দ্বিতীয়বার পেছাতে আগ্রহী নয় ট্রাম্প প্রশাসন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক কঠোর বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানকে নিয়ে তীব্র অবস্থান তুলে ধরেছেন। তার এই পোস্টের পর ওয়াশিংটন–তেহরান উত্তেজনা নতুন করে বিশ্ব রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। পোস্টে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনা এখন আর দীর্ঘায়িত করার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, “আর কোনো ভদ্রতা নয়”—এই ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি তেহরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ধৈর্য সীমিত হয়ে আসছে বলে বার্তা দেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, কার্যকর কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে পরিস্থিতি আরও কঠোর হতে পারে। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইরানকে একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তবে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হলে তিনি সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। বর্তমানে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দুই দেশের অবস্থান একেবারেই বিপরীতমুখী। এতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনার গতি যেমন ধীর, তেমনি দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত জলপথ ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কঠোর বার্তা শুধু রাজনৈতিক চাপ তৈরির কৌশল নাকি ভবিষ্যতে বড় কোনো নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত—তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে তার সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
দেশের শ্রম অধিকার সংক্রান্ত বিধিমালা অনুসারে কর্মচারীরা হজ পালনের জন্য ১৫ দিন পর্যন্ত বেতনসহ ছুটি পাবেন বলে জানিয়েছে সৌদি আরবের মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়। বুধবার (২৯ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যোগ্য কর্মীরা তাদের নিয়োগকর্তার অধীনে কমপক্ষে দুই বছর একটানা চাকরি সম্পন্ন করে থাকলে, ঈদুল আজহার ছুটিসহ ১০ থেকে ১৫ দিনের ছুটি বেতনসহ নিতে পারবেন। আরও বলা হয়েছে, কোনো কর্মচারীকে তার কর্মকালে কেবল একবারই হজের ছুটি মঞ্জুর করা যেতে পারে এবং তাও কেবল তখনই, যদি তিনি আগে হজ পালন না করে থাকেন। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিচালনগত প্রয়োজনের ভিত্তিতে প্রতি বছর কতজন কর্মীকে ছুটি দেয়া হবে, তা নির্ধারণ করতে পারবেন নিয়োগকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে সারের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের প্রজেক্ট সার্ভিসেস দপ্তর। রোববার (২৬ এপ্রিল) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, দীর্ঘ সময় এই নৌপথ বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক কৃষি উৎপাদনে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক জর্জ মোরেইরা দা সিলভা সতর্ক করে বলেন, এতে খাদ্য সংকট তীব্র হতে পারে এবং লাখো মানুষ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট। এই পথ দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি সার উৎপাদনের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল পরিবহনেও এ পথের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে এই রুট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বিশেষ করে কৃষিনির্ভর ও নিম্ন-আয়ের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সারের মূল্যবৃদ্ধি ও সংকট সরাসরি খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে, যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাটি। অন্যথায়, এই সংকট আরও গভীর হয়ে বৈশ্বিক মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা (ইউএসএফ)-এর দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও অন্য শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান এখনো মেলেনি। পুলিশ বলছে, তাকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) ভোরে সেন্ট পিটার্সবার্গের হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে ২৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পিনেলাস কাউন্টি পুলিশ। ঘটনার পরপরই তার রুমমেট হিশাম আবুঘারবিয়াকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এরপর টেম্পা লেক ফরেস্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ হিশামের অবস্থান শনাক্ত করে। সোয়াট টিমের উপস্থিতিতে প্রায় ২০ মিনিটের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদিকে, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টির খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি। তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃত করে পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তস্থল থেকে বড় পরিমাণ রক্তের আলামত পাওয়া গেছে। তদন্তকারীরা আশঙ্কা করছেন, তিনি হয়তো প্রাণে বেঁচে নেই। নাহিদাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল ইউএসএফ ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল। অভিযুক্ত হিশামের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে পারিবারিক সহিংসতা, প্রমাণ নষ্ট করা এবং মরদেহ গোপন করার মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, পুরো ঘটনাটি এককভাবে ঘটেছে। সাবেক এফবিআই এজেন্ট ড. ব্রায়ানা ফক্স জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন আলামত দেখে বোঝা যাচ্ছে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের চেয়ে তাৎক্ষণিক সহিংসতার ফল হতে পারে। তার মতে, ঘটনার পেছনে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব বা সম্পর্কজনিত জটিলতা থাকতে পারে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ অফিস জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর মামলায় আরও গুরুতর অভিযোগ যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে নিখোঁজ নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত আছে।
ইরানের সঙ্গে যেকোনো সময় শান্তি আলোচনা শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরান চাইলে আলোচনার পথ এখনো খোলা আছে। শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন। তিনি জানান, তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফরের পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। মূলত ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের অগ্রগতি না হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের হাতে সব বিকল্প রয়েছে, তারা চাইলে যেকোনো সময় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।” তিনি আরও জানান, পাকিস্তানে ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় অংশ নিতে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদল যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেই সফর বাতিল করা হয়। তার ভাষায়, দীর্ঘ সময়ের ফ্লাইট ও অনিশ্চিত বৈঠকের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প পরিষ্কার করে বলেন, এই সফর বাতিল হওয়া মানে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হয়ে গেছে—এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। তার মতে, বিষয়টি এখনো কূটনৈতিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পরিস্থিতি মূল্যায়ন চলছে। এদিকে, শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি আঞ্চলিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন। কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, আরাঘচি এরপর ওমান ও রাশিয়া সফরের পরিকল্পনায় রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক জানিয়েছেন, ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের খুব সামান্য অংশই এখন পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়েছে, বাকি অংশ এখনো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের হাতে থাকা বিপুল পরিমাণ ক্ষেপণাস্ত্র এখনো কার্যত সংরক্ষিত অবস্থায় আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একদিকে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে, অন্যদিকে প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালানোর প্রস্তুতিও ধরে রেখেছে বলে জানান রেজা তালাই-নিক। তিনি আরও বলেন, দেশীয় প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে ইরান বর্তমানে এক হাজারের বেশি ধরনের আধুনিক অস্ত্র উৎপাদন করছে। এ উৎপাদন কার্যক্রমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান যুক্ত রয়েছে। ফলে কোনো একটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামগ্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না এবং অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। এদিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়েও নিজেদের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরান। মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ তেহরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত শক্তি, যার মাধ্যমে তারা আঞ্চলিক জলসীমার পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান তাদের সামরিক শক্তি ও ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি জোরদার করছে।
দীর্ঘ অচলাবস্থা কাটিয়ে অবশেষে ডানা মেলল তেহরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকাল থেকে তেহরানের ইমাম খোমেনী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পুনরায় কিছু আন্তর্জাতিক রুটে বিমান চলাচল শুরু হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, বিমানবন্দরটি সচল হওয়ার পর যাত্রীবাহী প্রথম ফ্লাইটগুলো ওমানের মাস্কাট, তুরস্কের ইস্তাম্বুল এবং সৌদি আরবের মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এতে করে আটকে পড়া সাধারণ যাত্রী এবং প্রবাসীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদের বিমানবন্দরটিও পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছিল। আঞ্চলিক অস্থিরতা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফ্লাইট বন্ধ থাকার পর এখন ধীরে ধীরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে ইরান কর্তৃপক্ষ। সূত্র: আলজাজিরা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মুখে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ট্রাম্প ভারতকে ‘নরক’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুধু ভারত সরকারই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভারতীয়-আমেরিকান সম্প্রদায় এবং একাধিক আইনপ্রণেতার মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রকাশিত পোস্টে অভিযোগ করা হয়, ভারত ও চীনের মতো দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে দ্রুত নাগরিকত্ব সুবিধা নিচ্ছে এবং পরে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও নিয়ে আসছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কর্মরত ভারতীয়দের নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে জানা যায়, যেখানে বলা হয় তারা কর্মক্ষেত্রে স্থানীয় মার্কিন নাগরিকদের পরিবর্তে নিজ দেশের লোকদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে এসব মন্তব্যকে ভুল তথ্যনির্ভর, অনুপযুক্ত এবং কুরুচিপূর্ণ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে, যা এ ধরনের বক্তব্যে প্রতিফলিত হয় না। অন্যদিকে মার্কিন কংগ্রেসে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সদস্য অমি বেরা বলেন, অভিবাসীদের বাস্তব সংগ্রাম না বোঝার কারণেই এমন মন্তব্য আসে। তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যকে অজ্ঞতাপ্রসূত বলে উল্লেখ করেন। আরেক আইনপ্রণেতা রাজা কৃষ্ণমূর্তি মন্তব্যটি দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করে বলেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবনী শক্তি ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হচ্ছে। আসন্ন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভারত সফরের প্রেক্ষাপটে এই বিতর্ক কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসা নীতি ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনায় এর প্রভাব পড়তে পারে। সূত্র: এএফপি।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫
দেশের মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ‘স্পন্দনবি’। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইমদাদ সিতারা খান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবারও বৃত্তি প্রদান করবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ুয়া প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী এই বৃত্তির সুযোগ পাবেন। আগ্রহীরা আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ডাক, কুরিয়ার বা সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কারা আবেদন করতে পারবেন? বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ এবং বর্তমানে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত নিম্নোক্ত বিষয়ের মেধাবী, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন— বিএসসি অনার্স বিএসসি অনার্স (কৃষি, পশুপালনসহ সব অনুষদ) এমবিবিএস বিডিএস বিএসসি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বিএ অনার্স বিএসএস অনার্স বিবিএ আবেদনপত্র সংগ্রহ আবেদনকারীরা নিচের যেকোনো মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন— 🔗 https://spaandanb.org/projects/imdad-sitara-khan-scholarship/ 🔗 https://www.facebook.com/share/g/1FXJc2NhHe অথবা ই-মেইলে যোগাযোগ করেও ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে— mostafiz14@yahoo.com rajib.bd@spaandanb.org tuhin.bd@spaandanb.org sajedul1233@gmail.com zabbarbd5493@gmail.com আবেদন পাঠানোর ঠিকানা স্পন্দনবি বাংলাদেশ অফিস বাসা-৭/২, শ্যামলছায়া-১, ফ্ল্যাট-বি/২, গার্ডেন স্ট্রিট, রিং রোড, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। যোগাযোগ বৃত্তি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য অফিস সময়ে যোগাযোগ— ☎️ ০২-৪৮১১৪৪৯৯ 📱 ০১৭১৩-০৩৬৩৬০ 📱 ০১৭৭৩-৬১০০০৯ 📱 ০১৯৩৩-৫৬০৬৬৫ 📱 ০১৭৯৬-১০২৭০০
পোশাক প্রস্তুতকারক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান আড়ং নতুন কিছু পদে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদের বিবরণ: পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট বিভাগ: হেলথ সিকিউরিটি স্কিম (HSS), সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড প্রোডিউসার ডেভেলপমেন্ট (SCPD) পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অন্য যোগ্যতা: এমএস এক্সেল এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে দক্ষতা ডকুমেন্টেশন ও ফাইল ব্যবস্থাপনায় পারদর্শিতা অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১–২ বছর চাকরির ধরণ ও অন্যান্য তথ্য: চাকরির ধরন: ফুলটাইম কর্মক্ষেত্র: অফিসে প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: উল্লেখ নেই কর্মস্থল: ময়মনসিংহ (ত্রিশাল) বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে অন্যান্য সুবিধা: প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, উৎসব বোনাস, স্বাস্থ্য ও জীবন বিমা এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা আবেদন করার নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে আবেদন করতে পারেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্লাজা সেলস বিভাগে ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে ১০০ জন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ৮ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদসংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম: যমুনা গ্রুপ বিভাগ: প্লাজা সেলস পদের নাম: এক্সিকিউটিভ পদসংখ্যা: ১০০টি যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রার্থীকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। এ পদে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নেই, তাই নবীন প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। অন্যান্য তথ্য চাকরির ধরন: ফুল-টাইম বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে প্রার্থীর ধরন: নারী ও পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: ন্যূনতম ২২ বছর কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ সময়: ৮ নভেম্বর ২০২৫।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে নিয়োগ দেশের অন্যতম মানবিক সংগঠন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে একজন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদসংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পদের নাম: টেকনিক্যাল অফিসার পদসংখ্যা: ১ জন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি বা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ২ বছর বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪০ বছর বেতন ও চাকরির ধরন বেতন: ৫০,০০০ টাকা চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন কর্মস্থল: কুড়িগ্রাম আবেদন প্রক্রিয়া আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ওয়েবসাইটে ক্লিক করুন।