ভালোবাসার মানুষের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করে থাকেন অনেকেই। তবে এবার সকল ত্যাগকে যেনও হার মানালেন বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) সাবেক শিক্ষিকা খাদিজা খাতুন (৩৪)। স্বামীকে বাঁচাতে নিজের লিভারের ৬৪ শতাংশ ত্যাগ করেছেন তিনি।
এতে স্বামী মোহাম্মদ আলম নুরীর (৩৬) নিভে যেতে বসা জীবন প্রদীপকে ফের জ্বালিয়ে তুলেছেন তিনি। খাদিজা খাতুনের বাড়ি রাজশাহী শহরে। মোহাম্মদ আলম নুরীর বাড়ি বান্দরবানের লামায়। বর্তমানে তারা রাজধানীর মিরপুরে বসবাস করেন।
এই দম্পতির সংসারে কেএম আরিয়ান (৮) ও কেএম আদনান (৬) নামে দুটি ছেলে রয়েছে। আরিয়ান নার্সারি দ্বিতীয় শ্রেণিতে এবং আদনান নার্সারিতে পড়ে।
২০১১ সালে আশুলিয়ায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) সেন্ট্রাল ট্রেনিং এক্সারসাইজ (সিটিই) ক্যাম্পে মোহাম্মদ আলম নুরী ও খাদিজা খাতুনের পরিচয়। সেই পরিচয় থেকে পরিণয়। ২০১২ সালে পারিবারিকভাবে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
ওই সময় আলম নুরী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের চতুর্থ বর্ষে এবং খাদিজা খাতুন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এরপর পড়াশোনা শেষ করে আলম নুরী রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে ব্র্যাকে যোগদান করেন। পরে কনসালটেন্ট হিসেবে এনজেন্ডারহেলথ বাংলাদেশে চাকরি করেন।
খাদিজা ২০১৫ সালে বিইউপিতে আইন বিভাগের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর তাদের সংসারে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে প্রথম সন্তান কেএম আরিয়ানের জন্ম হয়। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে জন্ম হয় দ্বিতীয় সন্তান কেএম আদনানের। ২০২০ সালের নভেম্বরে বিইউপি থেকে চাকরি ছাড়েন খাদিজা। দুই সন্তানকে নিয়ে তাদের সংসার ছিল সুখের এক ছোট্ট নীড়।
কিন্তু ২০২৪ সালে হঠাৎ আলম হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত এবং রোগটি পৌঁছে গেছে শেষপর্যায়ে। রোগের নাম-নন অ্যালকোহলিক লিভার ডিজিস (এনএএলডি)। গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি বিভাগে স্থানান্তরের পর চিকিৎসকরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন এর একমাত্র স্থায়ী চিকিৎসা লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট।
যা বাংলাদেশে তখনো সহজলভ্য ছিল না এবং পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এই রোগের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা। যিনি অসুস্থতার কারণে বেকার তার পক্ষে এই ব্যয় বহন করা ছিল প্রায় অসম্ভব।
এরপর খাদিজার শুরু হয় এক কঠিন লড়াই। একদিকে স্বামীর জীবন বাঁচানোর জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া, অন্যদিকে ভারতে ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য ভিসা প্রসেসিং এবং বিপুল অর্থ জোগাড়।
তবে দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ভারতের মেডিকেল ভিসা পেতে ছয় মাস সময় লেগে যায়। এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা আলম-খাদিজার মানসিক যন্ত্রণাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। যখন সব পথ প্রায় বন্ধ, তখন ভালোবাসার শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসেন তাদের পরিবার, স্বজন, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা। চিকিৎসার বিপুল ব্যয় নির্বাহের জন্য তারা আর্থিক সহায়তা করেন।
অবশেষে পর্যাপ্ত অর্থ সংস্থান এবং ভিসা পাওয়ার পর ২০২৫ সালের মার্চে ভারতের দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন আলম-খাদিজা দম্পতি। বিশ্বখ্যাত লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন ডা. সুভাষ গুপ্তার অধীনে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত হয়। খাদিজার রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজিটিভ হওয়ায় তিনি ডোনার হিসেবে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন।
গত ৭ আগস্ট ডা. সুভাষ গুপ্তা এবং তার দল সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খাদিজার লিভারের ৬৪ শতাংশ তার স্বামীর শরীরে প্রতিস্থাপন করে।
৬ আগস্ট দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে সারারাত প্রস্তুতি, ওষুধ ও ইঞ্জেকশন চলতে থাকে। এর আগে ৪ আগস্ট আলমকে এবং খাদিজাকে ৬ আগস্ট সেখানে ভর্তি করা। দুজনের প্রি-অ্যানেস্থেশিয়া চেকআপ ও কনসালটেশন (সার্জারি রিস্ক সম্পর্কে অবগত করা) ও মেন্টাল চেকআপ সম্পন্ন হয়। সব কিছু ঠিক থাকা সাপেক্ষে বিকেল ৩টায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। খাদিজাকে জানানো হয় তার স্বামীর অপারেশন সফলভাবে হচ্ছে।
এরপর আইসিইউতে ১৫ দিন সুক্ষ্ম অবজারভেশন ও নিবিড় পরিচর্যা শেষে অবস্থা কিছুটা ভালো হলে আলমকে বেডে শিফট করা হয়। খাদিজাকে ৫দিন আইসিইউতে রেখে ডিসচার্জ দেওয়া হয়। আলমকে ডিসচার্জ দেওয়া হয় মোট ২১ দিন পর। এরপর প্রথমে প্রতি তিন দিন পরপর টেস্ট করে রিপোর্টসহ ডাক্তার ভিজিট করতে হয়, পরে প্রতি সপ্তাহে এক বার এভাবে আরও দুই মাস হাসপাতালের বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ওষুধের মাত্রা কম-বেশি করা হয়।
কিছুটা সুস্থ অনুভব হলে দেশে আসার অনুমতি দেওয়া হয় এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে পুনরায় কাউন্সিলিং করা হয়। ২ অক্টোবর দেশে ফেরেন এই দম্পতি। তবে লড়াই এখনো শেষ হয়নি। আলম নুরীকে আজীবন কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ খেতে হবে এবং কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে। এখন প্রতি মাসে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য খরচ হয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫
দেশের মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ‘স্পন্দনবি’। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইমদাদ সিতারা খান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবারও বৃত্তি প্রদান করবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ুয়া প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী এই বৃত্তির সুযোগ পাবেন। আগ্রহীরা আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ডাক, কুরিয়ার বা সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কারা আবেদন করতে পারবেন? বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ এবং বর্তমানে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত নিম্নোক্ত বিষয়ের মেধাবী, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন— বিএসসি অনার্স বিএসসি অনার্স (কৃষি, পশুপালনসহ সব অনুষদ) এমবিবিএস বিডিএস বিএসসি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বিএ অনার্স বিএসএস অনার্স বিবিএ আবেদনপত্র সংগ্রহ আবেদনকারীরা নিচের যেকোনো মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন— 🔗 https://spaandanb.org/projects/imdad-sitara-khan-scholarship/ 🔗 https://www.facebook.com/share/g/1FXJc2NhHe অথবা ই-মেইলে যোগাযোগ করেও ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে— mostafiz14@yahoo.com rajib.bd@spaandanb.org tuhin.bd@spaandanb.org sajedul1233@gmail.com zabbarbd5493@gmail.com আবেদন পাঠানোর ঠিকানা স্পন্দনবি বাংলাদেশ অফিস বাসা-৭/২, শ্যামলছায়া-১, ফ্ল্যাট-বি/২, গার্ডেন স্ট্রিট, রিং রোড, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। যোগাযোগ বৃত্তি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য অফিস সময়ে যোগাযোগ— ☎️ ০২-৪৮১১৪৪৯৯ 📱 ০১৭১৩-০৩৬৩৬০ 📱 ০১৭৭৩-৬১০০০৯ 📱 ০১৯৩৩-৫৬০৬৬৫ 📱 ০১৭৯৬-১০২৭০০
পোশাক প্রস্তুতকারক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান আড়ং নতুন কিছু পদে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদের বিবরণ: পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট বিভাগ: হেলথ সিকিউরিটি স্কিম (HSS), সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড প্রোডিউসার ডেভেলপমেন্ট (SCPD) পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অন্য যোগ্যতা: এমএস এক্সেল এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে দক্ষতা ডকুমেন্টেশন ও ফাইল ব্যবস্থাপনায় পারদর্শিতা অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১–২ বছর চাকরির ধরণ ও অন্যান্য তথ্য: চাকরির ধরন: ফুলটাইম কর্মক্ষেত্র: অফিসে প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: উল্লেখ নেই কর্মস্থল: ময়মনসিংহ (ত্রিশাল) বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে অন্যান্য সুবিধা: প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, উৎসব বোনাস, স্বাস্থ্য ও জীবন বিমা এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা আবেদন করার নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে আবেদন করতে পারেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্লাজা সেলস বিভাগে ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে ১০০ জন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ৮ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদসংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম: যমুনা গ্রুপ বিভাগ: প্লাজা সেলস পদের নাম: এক্সিকিউটিভ পদসংখ্যা: ১০০টি যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রার্থীকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। এ পদে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নেই, তাই নবীন প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। অন্যান্য তথ্য চাকরির ধরন: ফুল-টাইম বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে প্রার্থীর ধরন: নারী ও পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: ন্যূনতম ২২ বছর কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ সময়: ৮ নভেম্বর ২০২৫।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে নিয়োগ দেশের অন্যতম মানবিক সংগঠন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে একজন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদসংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পদের নাম: টেকনিক্যাল অফিসার পদসংখ্যা: ১ জন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি বা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ২ বছর বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪০ বছর বেতন ও চাকরির ধরন বেতন: ৫০,০০০ টাকা চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন কর্মস্থল: কুড়িগ্রাম আবেদন প্রক্রিয়া আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ওয়েবসাইটে ক্লিক করুন।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করা প্রতিদিনের ঘটনা। তবে ট্রাফিক আইন নিয়ে আরও কঠোর হচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করছে ডিএমপি। এখন আইন ভাঙলে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বা স্থিরচিত্রের মাধ্যমে অটো নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির বা জরিমানা না দিলে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। রোববার (৩ মে) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তিতে জারি করেছে সংস্থাটি। গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, লালবাতি অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং বাঁ লেন দখলের মতো অপরাধগুলো ভিডিও বা স্থিরচিত্রের মাধ্যমে শনাক্ত করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকের ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। নোটিশ প্রাপ্তির পর মালিক বা চালকদের ডিএমপি সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে উপস্থিত হয়ে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে নোটিশ পাওয়ার পরও যদি কেউ হাজির না হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মতো পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। ডিএমপি সতর্ক করে বলেছে, এই প্রক্রিয়ার বাইরে সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মামলার নামে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান না করতে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র প্রতারণার উদ্দেশ্যে টাকা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা বা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্রসিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলাপ্রক্রিয়া শুরু করছে। সেই সঙ্গে নগরবাসীর কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করেছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
রাজধানীর পল্টন এলাকায় শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনার আগের রাতে হামলাকারী ফয়সাল তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমাকে জানিয়েছিলেন, পরদিন এমন কিছু ঘটবে যা “সারাদেশ কাঁপাবে”। গত শুক্রবার দুপুর ২টা ২০ মিনিটে পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে হামলা ঘটে। অস্ত্রোপচারের পর হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, হামলার পরিকল্পনা বহু আগে থেকে করা হয়েছিল এবং এর জন্য কয়েক কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে। র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, মোটরসাইকেলের মালিক মো. কবির, ফয়সালের বাবা-মা এবং আরও অনেকে। উদ্ধার করা হয়েছে অগ্নেয়াস্ত্র, গুলি, ম্যাগাজিন এবং কয়েক কোটি টাকার চেক। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, হামলার পূর্বদিন ফয়সাল ও মারিয়া সাভারের একটি রিসোর্টে রাত কাটিয়েছিলেন। পরদিন সকালে ঢাকায় এসে হামলা ঘটানো হয়। হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেট ভুয়া ছিল, যা পরে আসল নম্বর দিয়ে পরিবর্তন করা হয়। তদন্তে মোহাম্মদপুরের এক সাবেক কাউন্সিলরকে হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। অন্তত ২০ সদস্যের সুসংগঠিত চক্র হত্যাচেষ্টায় জড়িত ছিল। মানবপাচার ও অস্ত্র সরবরাহের সহযোগীও রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফয়সালের বাসা থেকে কয়েক কোটি টাকার চেক উদ্ধার হয়েছে। তার বাবা-মা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা গ্রেপ্তার হয়েছেন। হামলার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে কর্নেল গলির বোনের বাসা ও তরুয়ার বিল থেকে। মোটরসাইকেল মালিক কবির সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। ডিএমপি গোয়েন্দা বিভাগের সহযোগিতায় তদন্ত ত্বরান্বিত হচ্ছে, সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের অবস্থান চিহ্নিত করা হচ্ছে। ময়মনসিংহে প্রাইভেটকার চালকসহ আরও সহযোগীদের খোঁজ চলছে, যাদের ধরা পড়লে আরও তথ্য মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে। তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার পিছনে অর্থায়ন এবং সুসংগঠিত সহযোগী রয়েছে। মামলার তদন্ত ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং পরবর্তী দিনগুলোতে আরও গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা রয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নিজের বাসায় মা-মেয়ে খুন হওয়ার ঘটনায় পুলিশের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না অভিযুক্ত গৃহকর্মীকে। তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার চার দিন ধরে ওই নারী বোরকা পরে বা মুখ ঢেকে বাসায় কাজ করছিলেন, যার ফলে সিসিটিভিতে তার চেহারা ধরা পড়েনি। খুনের শিকার মা-মেয়ে ছাড়া কেউ তাকে শনাক্ত করতে পারেননি। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের চার দিন আগে ওই নারী বাসায় কাজ শুরু করেছিলেন। চার দিন ধরে বোরকা বা মুখ ঢেকে বাসায় আসা-যাওয়া করার কারণে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি ঘটে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বহুতল ভবনের সপ্তম তলায়, যেখানে লায়লা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে খুন হন। ঘটনার সময় লায়লা আফরোজের স্বামী আজিজুল ইসলাম বাসায় ছিলেন না। আজিজুল ইসলাম, যিনি একজন শিক্ষক, সকাল ৭টার দিকে কর্মস্থলে যান। কর্মস্থলে অবস্থানকালে স্ত্রীকে ফোন করার চেষ্টা ব্যর্থ হলে তিনি ১১টার দিকে বাসায় ফেরেন। তখন দেখেন স্ত্রীর গলাসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম অবস্থায় মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। মেয়ে গুরুতর অবস্থায় বাসার প্রধান ফটকে পড়ে ছিল, দ্রুত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলায় বাদী লিখেছেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হয়েছেন যে অজ্ঞাত কারণে আসামি তার স্ত্রী ও মেয়েকে ছুরি বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছেন। আজ শিকার মা-মেয়েকে নাটোরে দাফন করা হয়েছে। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানাজার সময় উপস্থিত ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তির দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।