জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে দেশের আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাসের নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর রুটেও হালনাগাদ ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৩ এপ্রিল ভাড়া সমন্বয়ের প্রজ্ঞাপন জারি করা হলেও সেদিন বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরে ২৫ এপ্রিল বিআরটিএ তাদের ওয়েবসাইটে রুটভিত্তিক নির্ধারিত ভাড়া প্রকাশ করে।
নতুন তালিকা অনুযায়ী, সায়েদাবাদ থেকে চট্টগ্রাম রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ৭০৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৫৫২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা–কক্সবাজার রুটে ভাড়া ৯০০ টাকা ও ১,১৪৭ টাকা, সিলেট রুটে ৫৮০ ও ৭৪০ টাকা, বরিশাল রুটে ৪৬৪ ও ৫৯২ টাকা এবং খুলনা রুটে ৫৪১ ও ৬৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ সায়েদাবাদ–টেকনাফ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ১,০৪৭ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১,৩৩৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে।
গাবতলী থেকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের রুটগুলোতেও ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। পঞ্চগড় রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ১,০০৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ১,২৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। রংপুর রুটে ৭৫১ ও ৯১১ টাকা, দিনাজপুরে ৯৭৪ ও ১,২৪১ টাকা, ঝিনাইদহে ৫০১ ও ৬৩৯ টাকা, রাজশাহীতে ৭৭৭ ও ৯৯১ টাকা এবং মেহেরপুরে ৭৭৬ ও ৯৮১ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
মহাখালী থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও কিশোরগঞ্জ রুটেও নতুন ভাড়া কার্যকর হয়েছে। ময়মনসিংহ রুটে ৫১ আসনের বাসে ভাড়া ২৯৪ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসে ৩৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জামালপুরে ৩৮৬ ও ৪৯২ টাকা, শেরপুরে ৪২১ ও ৫৩৭ টাকা এবং কিশোরগঞ্জে ৪০১ ও ৫১১ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে ১৮ এপ্রিল জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়, যেখানে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা এবং পেট্রল ১৩৫ টাকা করা হয়। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবেই বাসভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন কাঠামো অনুযায়ী মহানগর এলাকায় বাসের প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৫৩ পয়সা হয়েছে। আন্তজেলায় তা ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে ২ টাকা ২৩ পয়সা এবং মিনিবাসে ২ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ন্যূনতম ভাড়া বাসে ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা আগের মতোই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫
দেশের মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ‘স্পন্দনবি’। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইমদাদ সিতারা খান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবারও বৃত্তি প্রদান করবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ুয়া প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী এই বৃত্তির সুযোগ পাবেন। আগ্রহীরা আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ডাক, কুরিয়ার বা সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কারা আবেদন করতে পারবেন? বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ এবং বর্তমানে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত নিম্নোক্ত বিষয়ের মেধাবী, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন— বিএসসি অনার্স বিএসসি অনার্স (কৃষি, পশুপালনসহ সব অনুষদ) এমবিবিএস বিডিএস বিএসসি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বিএ অনার্স বিএসএস অনার্স বিবিএ আবেদনপত্র সংগ্রহ আবেদনকারীরা নিচের যেকোনো মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন— 🔗 https://spaandanb.org/projects/imdad-sitara-khan-scholarship/ 🔗 https://www.facebook.com/share/g/1FXJc2NhHe অথবা ই-মেইলে যোগাযোগ করেও ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে— mostafiz14@yahoo.com rajib.bd@spaandanb.org tuhin.bd@spaandanb.org sajedul1233@gmail.com zabbarbd5493@gmail.com আবেদন পাঠানোর ঠিকানা স্পন্দনবি বাংলাদেশ অফিস বাসা-৭/২, শ্যামলছায়া-১, ফ্ল্যাট-বি/২, গার্ডেন স্ট্রিট, রিং রোড, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। যোগাযোগ বৃত্তি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য অফিস সময়ে যোগাযোগ— ☎️ ০২-৪৮১১৪৪৯৯ 📱 ০১৭১৩-০৩৬৩৬০ 📱 ০১৭৭৩-৬১০০০৯ 📱 ০১৯৩৩-৫৬০৬৬৫ 📱 ০১৭৯৬-১০২৭০০
পোশাক প্রস্তুতকারক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান আড়ং নতুন কিছু পদে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদের বিবরণ: পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট বিভাগ: হেলথ সিকিউরিটি স্কিম (HSS), সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড প্রোডিউসার ডেভেলপমেন্ট (SCPD) পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অন্য যোগ্যতা: এমএস এক্সেল এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে দক্ষতা ডকুমেন্টেশন ও ফাইল ব্যবস্থাপনায় পারদর্শিতা অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১–২ বছর চাকরির ধরণ ও অন্যান্য তথ্য: চাকরির ধরন: ফুলটাইম কর্মক্ষেত্র: অফিসে প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: উল্লেখ নেই কর্মস্থল: ময়মনসিংহ (ত্রিশাল) বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে অন্যান্য সুবিধা: প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, উৎসব বোনাস, স্বাস্থ্য ও জীবন বিমা এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা আবেদন করার নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে আবেদন করতে পারেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্লাজা সেলস বিভাগে ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে ১০০ জন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ৮ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদসংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম: যমুনা গ্রুপ বিভাগ: প্লাজা সেলস পদের নাম: এক্সিকিউটিভ পদসংখ্যা: ১০০টি যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রার্থীকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। এ পদে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নেই, তাই নবীন প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। অন্যান্য তথ্য চাকরির ধরন: ফুল-টাইম বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে প্রার্থীর ধরন: নারী ও পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: ন্যূনতম ২২ বছর কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ সময়: ৮ নভেম্বর ২০২৫।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে নিয়োগ দেশের অন্যতম মানবিক সংগঠন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে একজন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদসংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পদের নাম: টেকনিক্যাল অফিসার পদসংখ্যা: ১ জন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি বা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ২ বছর বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪০ বছর বেতন ও চাকরির ধরন বেতন: ৫০,০০০ টাকা চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন কর্মস্থল: কুড়িগ্রাম আবেদন প্রক্রিয়া আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ওয়েবসাইটে ক্লিক করুন।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগের সরকারের সময়ে আর্থিক খাতে অতিরিক্ত রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপের কারণে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো প্রায় শূন্য অবস্থায় পৌঁছে গেছে। তার মতে, শুধু আগের সরকারই নয়, পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময়কালও অর্থনীতির জন্য খুব বেশি ইতিবাচক ছিল না। শনিবার (২৫ এপ্রিল) সচিবালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আর্থিক খাতের বর্তমান সংকটের মূল কারণ হলো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিকীকরণ। এতে ব্যাংকগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং শেয়ারবাজারও কার্যত ভেঙে পড়ার অবস্থায় গেছে। ফলে এখন অর্থনীতি পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে হচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাত ও বেসরকারি খাত—দুটিই এখন মূলধনের ঘাটতিতে রয়েছে। পাশাপাশি মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়েছে। এতে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না এবং কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরকার এককভাবে সব খাতে পুনঃপুঁজিকরণ করতে পারছে না, কারণ রাষ্ট্রীয় তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ নেই। আমির খসরু আরও বলেন, অতীতে অর্থনীতি একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, যার ফলে প্রতিযোগিতা ও স্বচ্ছতা কমে যায়। এই অবস্থাকে তিনি “অলিগার্কিক নিয়ন্ত্রণ” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, অর্থনীতিকে পুনরায় সবার জন্য উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক করতে হবে। তিনি আরও জানান, সরকার এখন প্রান্তিক মানুষ পর্যন্ত সেবা পৌঁছাতে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মতো উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। মুদ্রানীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতিরিক্ত টাকা সরবরাহ বা ঋণ সম্প্রসারণ মূল্যস্ফীতি বাড়ায়, তাই নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতির দিকে যেতে হবে। তবে একইসঙ্গে বিনিয়োগ বাড়াতে নিয়ম-কানুন সহজ করার ওপরও জোর দেন তিনি। স্বাস্থ্য খাতে আউট-অফ-পকেট ব্যয় কমানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারলে মানুষের জীবনমান ও প্রকৃত আয় দুটোই বাড়বে। এসএমই ও স্টার্টআপ খাতকে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এই খাতগুলোই সবচেয়ে বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করবে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক টাকা ছাপিয়ে ঋণ দিচ্ছে—এ ধরনের খবরকে তিনি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর উভয়েই ভিত্তিহীন বলে নাকচ করেন। তাদের মতে, এমন নীতি বাস্তবে অনুসরণ করা হচ্ছে না এবং এটি অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। সব মিলিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের পরিকল্পনার দিকগুলোই উঠে এসেছে।
তেলের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি যেন কমছেই না—সরকার বলছে পর্যাপ্ত মজুত আছে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে চিত্র ভিন্ন। অকটেন পেতে এখনো রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিবিসি বাংলা–এর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই সংকটের পেছনে একক কোনো কারণ নয়, বরং তিনটি বড় বিষয় একসঙ্গে কাজ করছে— ১) আতঙ্কজনিত অতিরিক্ত চাহিদা ২) মজুতদারি ও কালোবাজারি ৩) সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থার দুর্বলতা ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই মানুষ অতিরিক্ত তেল কেনা শুরু করে। পরে রেশনিং তুলে নেওয়া হলেও সেই বাড়তি চাহিদা কমেনি। ফলে পাম্পে চাপ বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে, অভিযোগ রয়েছে—কিছু অসাধু চক্র তেল মজুত করে বেশি দামে বিক্রি করছে। এমনকি মোটরসাইকেল বা ছোট যানবাহনে তেল নিয়ে বাইরে বিক্রির ঘটনাও সামনে এসেছে। সরবরাহ ব্যবস্থাতেও অসামঞ্জস্য দেখা গেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন–এর তথ্য অনুযায়ী, কিছু পাম্প মাসের শুরুতেই বেশি তেল পেয়েছে, আবার অনেক পাম্প একেবারেই বরাদ্দ পায়নি। ফলে কোথাও অতিরিক্ত ভিড়, কোথাও বন্ধ পাম্প—এই বৈষম্য সংকট বাড়িয়েছে। সরকার বলছে, দেশে তেলের কোনো ঘাটতি নেই এবং অতিরিক্ত সরবরাহও দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে অনেক পাম্প সীমিত পরিমাণে তেল দিচ্ছে—মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট টাকার তেল, প্রাইভেটকারে সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মতে, “প্যানিক পারচেজ” বা আতঙ্কে বেশি কেনার প্রবণতাই বড় কারণ। তার দাবি, মজুত যথেষ্ট আছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরো সাপ্লাই চেইনে সমন্বয়ের অভাব এবং তথ্যের অস্বচ্ছতাই মূল সমস্যা। ভোক্তা সংগঠনগুলোর মতে, সব পাম্পে সমানভাবে সরবরাহ নিশ্চিত না করলে এই সংকট দ্রুত কাটবে না। সব মিলিয়ে—চাহিদা, সরবরাহ আর কালোবাজারির এই ত্রিমুখী চাপেই অকটেন সংকট এখনো পুরোপুরি কাটছে না।
দেশজুড়ে জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে পাম্পগুলোতে অগ্রাধিকার চাইছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। জ্বালানি পাম্পগুলোতে পুলিশের জন্য পৃথক লাইনের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের দাবি জানিয়ে আইজিপি বরাবর এক চিঠি পাঠিয়েছে সংগঠনটি। বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে জরুরি অভিযান, টহল ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে গতি আসবে এবং জনসেবা আরও কার্যকর হবে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আইজিপি বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে সই করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ভাবলু। চিঠিতে বলা হয়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, জরুরি অভিযান পরিচালনা, ভিআইপি নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন জনসেবা প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বাস্তব প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, সরকারি যানবাহন এবং রিকুইজিশনকৃত যানবাহন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন জ্বালানি পাম্পে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য পুলিশ সদস্যদের সাধারণ জনগণের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ সদস্যদের মূল্যবান কর্মঘণ্টার একটি বড় অংশ পাম্পে অপেক্ষমাণ অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। এতে বলা হয়, বিশেষ করে আসামি ধরতে অভিযান, জরুরি টহল, মামলার তদন্তে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিতি, দুর্যোগ ও দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত সাড়া প্রদানসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সময়মতো সম্পাদনে বিলম্ব ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে লাইনের বাইরে গিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশ সদস্যরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, জনঅসন্তোষ এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানারও সম্মুখীন হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে এবং এর জরুরি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে, সারা দেশের সব সরকারি/বেসরকারি জ্বালানি পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সরকারি পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৃথক লাইন/বিশেষ বুথের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও কার্যকর নির্দেশনা একান্তভাবে কামনা করছি। আপনার সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সমগ্র পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপকৃত হবেন এবং জনসাধারণ আরও দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা লাভ করবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।