ধর্ম

মুতা বিয়ে কি ইসলামে জায়েজ?

এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
মুতা বিয়ে কি ইসলামে জায়েজ?
মুতা বিয়ে কি ইসলামে জায়েজ?

ইসলামের আইন ও জীবনব্যবস্থা এক অনন্য প্রজ্ঞার ধারায় বিকশিত হয়েছে, যেখানে মানবসমাজের বাস্তবতা, নৈতিক পরিপক্বতা এবং আল্লাহপ্রদত্ত নির্দেশনা ধাপে ধাপে পূর্ণতা পেয়েছে।

 

এই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘মুতা বিবাহ’। ইসলামের শুরুর সময়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রেক্ষাপটে এটি সীমিতভাবে অনুমোদিত থাকলেও পরবর্তীতে তা স্পষ্টভাবে ও স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।

 

জাহেলিয়াতের যুগে বিবাহ ও সম্পর্কের কোনো সুসংগঠিত কাঠামো ছিল না; নৈতিক বিশৃঙ্খলাই ছিল স্বাভাবিক চিত্র। ইসলাম সেই বাস্তবতাকে হঠাৎ ভেঙে না দিয়ে ধীরে ধীরে একটি সুশৃঙ্খল, মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পারিবারিক ব্যবস্থার দিকে পরিচালিত করে। সে প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সফর, যুদ্ধাবস্থা বা সামাজিক সীমাবদ্ধতার সময় মুতা বিবাহ একটি অস্থায়ী সমাধান হিসেবে অনুমোদিত ছিল—চূড়ান্ত বিধান হিসেবে নয়।

 

পরবর্তীতে যখন ইসলামী বিধান পূর্ণতা লাভ করে, তখন এই সাময়িক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আর থাকে না। বরং এটি স্থায়ী বিবাহব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। ফলে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই এটিকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

 

মুতা বিবাহ কী?


মুতা বিবাহ (نكاح المتعة) হলো নির্দিষ্ট সময় ও মোহরের বিনিময়ে সম্পাদিত একটি অস্থায়ী বিয়ে, যার মেয়াদ শেষে সম্পর্কটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়। ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে এর অনুমতি থাকলেও পরে তা চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়।

 

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, সাহাবি সাবরা আল-জুহানী (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে মুতা অনুমোদন করেছিলেন, পরে তা নিষিদ্ধ করেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, “আমি তোমাদের মুতা করার অনুমতি দিয়েছিলাম, এখন আল্লাহ তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম করে দিয়েছেন।” — যা এ বিষয়ে ইসলামের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করে।

 

ফিকহশাস্ত্রের চার মাযহাবের ইমামগণও এ বিষয়ে একমত। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল—সকলেই মুতা বিবাহকে অবৈধ ও হারাম হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

 

খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর সময় এ নিষেধাজ্ঞা প্রশাসনিকভাবে আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। তিনি ঘোষণা করেন, রাসুল (সা.)-এর যুগে প্রচলিত দুটি মুতা তিনি নিষিদ্ধ করছেন এবং এ বিষয়ে শাস্তির ব্যবস্থাও করবেন। আলেমদের মতে, এটি নতুন কোনো বিধান নয়; বরং নববী নির্দেশনার কার্যকর প্রয়োগ।

 

কেন মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ হলো?


ইসলামে বিবাহ কেবল সাময়িক চাহিদা পূরণের মাধ্যম নয়; এটি একটি স্থায়ী, দায়িত্বশীল ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক। এর মাধ্যমে পরিবার গড়ে ওঠে, বংশধারা সংরক্ষিত হয় এবং নারী-পুরুষ উভয়ের অধিকার নিশ্চিত হয়।

 

মুতা বিবাহ এই স্থিতিশীল কাঠামোর বিপরীতে একটি অস্থায়ী ও অনিশ্চিত সম্পর্ক তৈরি করে, যা ইসলামের সামগ্রিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই চূড়ান্তভাবে এটি নিষিদ্ধ করা হয়।

 

বর্তমান সময়ে কিছু ক্ষেত্রে মুতা বিবাহকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা দেখা গেলেও তা মূলত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে শরীয়তের চূড়ান্ত বিধান থেকে বিচ্যুতি। ইসলামের শিক্ষা স্পষ্ট—যা রহিত হয়েছে, তা আর অনুসরণযোগ্য নয়।

 

সার্বিকভাবে, মুতা বিবাহ ইসলামের আইনগত বিবর্তনের একটি উদাহরণ, যা দেখায়—ইসলাম ধাপে ধাপে মানবসমাজকে একটি পরিপূর্ণ, নৈতিক ও সুশৃঙ্খল জীবনের দিকে পরিচালিত করেছে। আজ এটি ইতিহাসের অংশ, শিক্ষা নেওয়ার বিষয়—অনুসরণের নয়।

Tags

মুতা-বিয়ে ইসলাম
Popular post
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ, বেতন ৪৫ হাজার

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।   এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত   প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা   আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫

বৃত্তি পাবেন ৮০০ শিক্ষার্থী, আবেদন করবেন যেভাবে

দেশের মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ‘স্পন্দনবি’। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইমদাদ সিতারা খান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবারও বৃত্তি প্রদান করবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান।   ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ুয়া প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী এই বৃত্তির সুযোগ পাবেন। আগ্রহীরা আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ডাক, কুরিয়ার বা সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন।   বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   কারা আবেদন করতে পারবেন? বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ এবং বর্তমানে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত নিম্নোক্ত বিষয়ের মেধাবী, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন— বিএসসি অনার্স বিএসসি অনার্স (কৃষি, পশুপালনসহ সব অনুষদ) এমবিবিএস বিডিএস বিএসসি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বিএ অনার্স বিএসএস অনার্স বিবিএ আবেদনপত্র সংগ্রহ আবেদনকারীরা নিচের যেকোনো মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন— 🔗 https://spaandanb.org/projects/imdad-sitara-khan-scholarship/ 🔗 https://www.facebook.com/share/g/1FXJc2NhHe   অথবা ই-মেইলে যোগাযোগ করেও ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে— mostafiz14@yahoo.com rajib.bd@spaandanb.org tuhin.bd@spaandanb.org sajedul1233@gmail.com zabbarbd5493@gmail.com আবেদন পাঠানোর ঠিকানা   স্পন্দনবি বাংলাদেশ অফিস বাসা-৭/২, শ্যামলছায়া-১, ফ্ল্যাট-বি/২, গার্ডেন স্ট্রিট, রিং রোড, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ঢাকা।   যোগাযোগ বৃত্তি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য অফিস সময়ে যোগাযোগ— ☎️ ০২-৪৮১১৪৪৯৯ 📱 ০১৭১৩-০৩৬৩৬০ 📱 ০১৭৭৩-৬১০০০৯ 📱 ০১৯৩৩-৫৬০৬৬৫ 📱 ০১৭৯৬-১০২৭০০

নানান সুবিধাসহ আড়ংয়ে চাকরির সুযোগ

পোশাক প্রস্তুতকারক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান আড়ং নতুন কিছু পদে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।   পদের বিবরণ: পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট বিভাগ: হেলথ সিকিউরিটি স্কিম (HSS), সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড প্রোডিউসার ডেভেলপমেন্ট (SCPD) পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অন্য যোগ্যতা: এমএস এক্সেল এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে দক্ষতা ডকুমেন্টেশন ও ফাইল ব্যবস্থাপনায় পারদর্শিতা অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১–২ বছর চাকরির ধরণ ও অন্যান্য তথ্য: চাকরির ধরন: ফুলটাইম কর্মক্ষেত্র: অফিসে প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: উল্লেখ নেই কর্মস্থল: ময়মনসিংহ (ত্রিশাল) বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে অন্যান্য সুবিধা: প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, উৎসব বোনাস, স্বাস্থ্য ও জীবন বিমা এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা আবেদন করার নিয়ম:   আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে আবেদন করতে পারেন।

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ১০০ জনকে নিয়োগ দেবে যমুনা গ্রুপ

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্লাজা সেলস বিভাগে ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে ১০০ জন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ৮ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।   পদসংক্রান্ত তথ্য   প্রতিষ্ঠানের নাম: যমুনা গ্রুপ বিভাগ: প্লাজা সেলস পদের নাম: এক্সিকিউটিভ পদসংখ্যা: ১০০টি   যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা   প্রার্থীকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। এ পদে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নেই, তাই নবীন প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন।   অন্যান্য তথ্য চাকরির ধরন: ফুল-টাইম বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে প্রার্থীর ধরন: নারী ও পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: ন্যূনতম ২২ বছর কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য   আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ সময়: ৮ নভেম্বর ২০২৫।

৫০ হাজার টাকা বেতনে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে নিয়োগ   দেশের অন্যতম মানবিক সংগঠন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে একজন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।   পদসংক্রান্ত তথ্য   প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পদের নাম: টেকনিক্যাল অফিসার পদসংখ্যা: ১ জন   যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি বা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ২ বছর বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪০ বছর   বেতন ও চাকরির ধরন বেতন: ৫০,০০০ টাকা চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন কর্মস্থল: কুড়িগ্রাম   আবেদন প্রক্রিয়া   আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ওয়েবসাইটে ক্লিক করুন।

ধর্ম

View more
মুতা বিয়ে কি ইসলামে জায়েজ?
মুতা বিয়ে কি ইসলামে জায়েজ?

ইসলামের আইন ও জীবনব্যবস্থা এক অনন্য প্রজ্ঞার ধারায় বিকশিত হয়েছে, যেখানে মানবসমাজের বাস্তবতা, নৈতিক পরিপক্বতা এবং আল্লাহপ্রদত্ত নির্দেশনা ধাপে ধাপে পূর্ণতা পেয়েছে।   এই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘মুতা বিবাহ’। ইসলামের শুরুর সময়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রেক্ষাপটে এটি সীমিতভাবে অনুমোদিত থাকলেও পরবর্তীতে তা স্পষ্টভাবে ও স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়।   জাহেলিয়াতের যুগে বিবাহ ও সম্পর্কের কোনো সুসংগঠিত কাঠামো ছিল না; নৈতিক বিশৃঙ্খলাই ছিল স্বাভাবিক চিত্র। ইসলাম সেই বাস্তবতাকে হঠাৎ ভেঙে না দিয়ে ধীরে ধীরে একটি সুশৃঙ্খল, মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পারিবারিক ব্যবস্থার দিকে পরিচালিত করে। সে প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সফর, যুদ্ধাবস্থা বা সামাজিক সীমাবদ্ধতার সময় মুতা বিবাহ একটি অস্থায়ী সমাধান হিসেবে অনুমোদিত ছিল—চূড়ান্ত বিধান হিসেবে নয়।   পরবর্তীতে যখন ইসলামী বিধান পূর্ণতা লাভ করে, তখন এই সাময়িক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আর থাকে না। বরং এটি স্থায়ী বিবাহব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। ফলে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই এটিকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।   মুতা বিবাহ কী? মুতা বিবাহ (نكاح المتعة) হলো নির্দিষ্ট সময় ও মোহরের বিনিময়ে সম্পাদিত একটি অস্থায়ী বিয়ে, যার মেয়াদ শেষে সম্পর্কটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়। ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে এর অনুমতি থাকলেও পরে তা চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়।   সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, সাহাবি সাবরা আল-জুহানী (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে মুতা অনুমোদন করেছিলেন, পরে তা নিষিদ্ধ করেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, “আমি তোমাদের মুতা করার অনুমতি দিয়েছিলাম, এখন আল্লাহ তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম করে দিয়েছেন।” — যা এ বিষয়ে ইসলামের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করে।   ফিকহশাস্ত্রের চার মাযহাবের ইমামগণও এ বিষয়ে একমত। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল—সকলেই মুতা বিবাহকে অবৈধ ও হারাম হিসেবে ঘোষণা করেছেন।   খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর সময় এ নিষেধাজ্ঞা প্রশাসনিকভাবে আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। তিনি ঘোষণা করেন, রাসুল (সা.)-এর যুগে প্রচলিত দুটি মুতা তিনি নিষিদ্ধ করছেন এবং এ বিষয়ে শাস্তির ব্যবস্থাও করবেন। আলেমদের মতে, এটি নতুন কোনো বিধান নয়; বরং নববী নির্দেশনার কার্যকর প্রয়োগ।   কেন মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ হলো? ইসলামে বিবাহ কেবল সাময়িক চাহিদা পূরণের মাধ্যম নয়; এটি একটি স্থায়ী, দায়িত্বশীল ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক। এর মাধ্যমে পরিবার গড়ে ওঠে, বংশধারা সংরক্ষিত হয় এবং নারী-পুরুষ উভয়ের অধিকার নিশ্চিত হয়।   মুতা বিবাহ এই স্থিতিশীল কাঠামোর বিপরীতে একটি অস্থায়ী ও অনিশ্চিত সম্পর্ক তৈরি করে, যা ইসলামের সামগ্রিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই চূড়ান্তভাবে এটি নিষিদ্ধ করা হয়।   বর্তমান সময়ে কিছু ক্ষেত্রে মুতা বিবাহকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা দেখা গেলেও তা মূলত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে শরীয়তের চূড়ান্ত বিধান থেকে বিচ্যুতি। ইসলামের শিক্ষা স্পষ্ট—যা রহিত হয়েছে, তা আর অনুসরণযোগ্য নয়।   সার্বিকভাবে, মুতা বিবাহ ইসলামের আইনগত বিবর্তনের একটি উদাহরণ, যা দেখায়—ইসলাম ধাপে ধাপে মানবসমাজকে একটি পরিপূর্ণ, নৈতিক ও সুশৃঙ্খল জীবনের দিকে পরিচালিত করেছে। আজ এটি ইতিহাসের অংশ, শিক্ষা নেওয়ার বিষয়—অনুসরণের নয়।

এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

দেশের আকাশে পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি

পবিত্র শবে মিরাজের তারিখ জানা গেল

পবিত্র শবে মিরাজের তারিখ জানা গেল

কেয়ামতের বড় ১০ আলামত

কেয়ামতের বড় ১০ আলামত

রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা
রোজা ও ঈদের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

আর মাত্র চার মাস বাদেই শুরু হতে যাচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। ২০২৬ সালে রমজান কবে শুরু হতে পারে, সেই সম্ভাব্য তারিখ জ্যোতির্বিদরা ইতোমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন।   আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির সভাপতি ইব্রাহিম আল-জারওয়ান জানিয়েছেন, আগামী বছরের রমজান শুরু হতে পারে ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যম আল-আরাবিয়াকে তিনি বলেন, ১৪৪৭ হিজরির রমজানের চাঁদ আকাশে উঠবে ১৭ ফেব্রুয়ারি, কিন্তু সূর্যাস্তের মাত্র এক মিনিট পর চাঁদ অস্ত হয়ে যাবে। তাই খালি চোখে দেখা সম্ভব হবে না এবং রমজান শুরু হবে ১৮ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ১৯ ফেব্রুয়ারি।   তিনি আরও বলেন, ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ হবে ২০ মার্চ ২০২৬ (শুক্রবার)।   মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশে—সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং কুয়েত—রমজানের শুরুতে প্রায় ১২ ঘণ্টা রোজা রাখতে হবে, যা শেষের দিকে ধীরে ধীরে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।   আল-আরাবিয়া জানিয়েছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের চাঁদ দেখা কমিটি বৈঠকে বসবে। তবে সৌদি আরব সাধারণত তাদের নিজস্ব উম আল-কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী রমজান ও ঈদের তারিখ ঘোষণা করে থাকে।   যেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পর বাংলাদেশে রোজা শুরু হয়, তাই বাংলাদেশে রমজান শুরু হতে পারে ২০ ফেব্রুয়ারি এবং ঈদুল ফিতর পালিত হবে ২১ মার্চ ২০২৬।

অক্টোবর ১৭, ২০২৫ 0
স্বপ্নে সাপ দেখলে কী হয়? হাদিসে যা বলা আছে

স্বপ্নে সাপ দেখলে কী হয়? হাদিসে যা বলা আছে

কিয়ামতের দিন দিতে হবে যে ৫ প্রশ্নের জবাব

কিয়ামতের দিন দিতে হবে যে ৫ প্রশ্নের জবাব

মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট দিয়ে করা যাবে হজযাত্রী নিবন্ধন

যে ২ পাপের কারণে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মানুষ
যে ২ পাপের কারণে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মানুষ

মুমিন জীবনের আজন্ম লালিত স্বপ্ন জান্নাতে যাওয়া। মুমিন জীবনের সফলতা রয়েছে জান্নাতে যাওয়ার মধ্যে। মানুষের কিছু কিছু অঙ্গ এমন যে এগুলো মানুষের জান্নাত কিংবা জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হতে পারে। যদি কেউ এই অঙ্গের সঠিক ব্যবহার করে তাহলে এই অঙ্গগুলো তাদের জান্নাতে যাওয়ার মাধ্যম হবে, আর যদি কেউ এই অঙ্গগুলো গুনাহের কাজে ব্যবহার করে, তবে এই অঙ্গগুলো তাদের জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হবে।   পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে তাদের সুসংবাদ দাও, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নহরসমূহ প্রবাহিত হবে।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৫)।  আল্লাহ বলেন, ‘আর যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তারা জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ৮২) দুটি কাজ রয়েছে যার জন্য মানুষ সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আল্লাহভীতি (তাকওয়া) ও উত্তম চরিত্র।’ আবার তাকে প্রশ্ন করা হলো, কোন কাজটি সবচেয়ে বেশি পরিমাণ মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘মুখ ও লজ্জাস্থান।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২০০৪) উল্লিখিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জাহান্নামে যাওয়ার মৌলিক দুটি কাজের কথা উল্লেখ করেছেন, যা অধিক পরিমাণ মানুষকে জাহান্নামে নিয়ে যাবে।  এক. মুখ। দুই. লজ্জাস্থান।   সাহাল ইবনে সাদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মাঝের বস্তু (জিহ্বা) এবং দুই উরুর মাঝখানের বস্তুর (লজ্জাস্থান) জামানত আমাকে দেবে, আমি তাঁর জান্নাতের জিম্মাদার।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৪)। উল্লিখিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দুটি অঙ্গের ব্যাপারে তাঁর  উম্মতদের সতর্ক করেছেন।  প্রত্যেক মানুষের উচিত কথা বলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত, তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, নিশ্চয়ই বান্দা পরিণাম চিন্তা করা ছাড়াই এমন কথা বলে, যে কথার কারণে সে ঢুকে যাবে জাহান্নামের এমন গভীরে, যার দূরত্ব পূর্ব (পশ্চিম)-এর দূরত্বের চেয়েও বেশি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬৪৭৭) লজ্জাস্থানের হেফাজত করতে হবে। অন্যথায় জাহান্নামে যেতে হবে। আল্লাহ বলেন, ‘(অবশ্যই সফল হয়েছে মুমিনগণ)... আর যারা তাদের লজ্জাস্থানকে সংরক্ষিত রাখে।’ (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৫)

সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ 0
জায়নামাজ পা দিয়ে ঠিক করা যাবে কিনা ? শায়খ আহমাদুল্লাহ

জায়নামাজ পা দিয়ে সোজা করলে কি গোনাহ হয়?

গোসল ফরজ হলে নারী-পুরুষের জন্য যে ৫ কাজ নিষিদ্ধ

গোসল ফরজ হলে নারী-পুরুষের জন্য যে ৫ কাজ নিষিদ্ধ

যে ৫ ব্যক্তির দোয়া কখনো কবুল হয় না

যে ৫ ব্যক্তির দোয়া কখনো কবুল হয় না