আপনি নফল নামাজ পড়ছেন, ওই দিকে আপনার মা ডাকছেন। ভাবছেন, এদিকে আমার নামাজ, ওই দিকে মা ডাকছেন; এ অবস্থায় কী করতে পারি। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এ বিষয়ের সমাধান দিয়েছেন। তিনি চান, আপনি নফল নামাজ ছেড়ে মায়ের ডাকে সাড়া দিন।
প্রখ্যাত সাহাবি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দোলনায় শুধু তিন ব্যক্তিই কথা বলেছে। মরিয়মের ছেলে ইসা (আ.) ও জুরাইজের সঙ্গী। জুরাইজ ছিল একজন ইবাদতকারী ও আল্লাহভীরু মানুষ। সে একটি গির্জা নির্মাণ করেছিল। একদিন গির্জায় নামাজরত ছিল। এমন সময় তার মা এসে ডাকলেন—জুরাইজ। জুরাইজ তখন মনে মনে ভাবতে লাগল, ‘হায় আল্লাহ! একদিকে আমার মা আরেক দিকে নামাজ।’ সে নামাজে মন দিল। তার মা ফিরে গেলেন।
পরদিন মা আবার এলেন। তখনও জুরাইজ নামাজে। মা ডাকলেন—জুরাইজ। জুরাইজ মনে মনে ভাবল, হায় আল্লাহ! আমার মা আমার নামাজ...।’ তারপর সে নামাজে মনোযোগী হলো। মা চলে গেলেন।
পরের দিন যথারীতি তিনি আবার এলেন। জুরাইজ তখনও নামাজে মশগুল। মা ডাকলেন—জুরাইজ।’ জুরাইজ মনে মনে বলল, হে আল্লাহ, আমার মা একদিকে অন্যদিকে আমার নামাজ...।’ (আমি কোন দিকে যাব!) এই ভেবে সে নামাজে মন দিল। তখন মা বললেন, হে আল্লাহ, কোনো বারাঙ্গনার মুখ না দেখা পর্যন্ত ওর মৃত্যু দিয়ো না।’
বনি ইসরায়েলের মধ্যে জুরাইজের ইবাদত-বন্দেগি বিপুল চর্চা পেল। মানুষের মুখে মুখে জুরাইজ। এদিকে এক গণিকা নারী ছিল প্রবাদতুল্য সুন্দরী। সে বলল, তোমরা চাইলে আমি জুরাইজকে পরীক্ষায় ফেলে দিতে পারি।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এরপর সেই গণিকা জুরাইজের কাছে এলো। জুরাইজ তার দিকে তাকাল না। এদিকে গির্জায় এক রাখালের যাতায়াত ছিল। অপরাধিনী তার কাছে গেল। তাকে পাপ কাজের সুযোগ দিল। রাখাল তার সঙ্গে মিলিত হলো। এরপর সে গর্ভধারণ করল। সন্তান প্রসব করে বলে বেড়াল, এটা জুরাইজের সন্তান।
গণিকার এ কথা শুনে বনি ইসরায়েলের লোকেরা ছুটে এল। জুরাইজকে গির্জা থেকে টেনে-হিঁচড়ে নামাল। গির্জা ভেঙে ফেলল। মারধর করল। বিস্মিত জুরাইজ জানতে চাইল, ‘তোমাদের কী হয়েছে?’
লোকেরা বলল, তুমি এই বারাঙ্গনার সঙ্গে পাপ কাজ করেছ। সে তোমার সন্তান প্রসব করেছে। জুরাইজ জিজ্ঞেস করল, প্রসবিত সেই শিশুটি কোথায়?
তারা শিশুকে নিয়ে এল। জুরাইজ বলল, আমাকে নামাজ পড়তে দাও। সে নামাজ আদায় করল। এরপর শিশুটির কাছে এসে পেটে খোঁচা দিয়ে বলল, ‘এই খোকন, তোমার বাবা কে?’
শিশুটি রাখালের নাম বলল। এরপর সবাই ছুটে এলো জুরাইজের দিকে। তার কপালে চুমো খেল। তাকে ছুঁয়ে বরকত নিতে নিতে বলল, ‘আমরা সোনা দিয়ে তোমার গির্জাঘরটি বানিয়ে দিই।’ জুরাইজ বলল, ‘না, মাটির ছিল, মাটি দিয়েই বানিয়ে দাও।’ তারা তাই করল।’ তৃতীয়জন বনি ইসরায়েলের এক শিশু। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৪৩৬)
মনীষী মুহাম্মাদ ইবনে মুনকাদির (রহ.) বলেন, ‘আপনি নামাজ (নফল) পড়াবস্থায় যদি আপনার বাবা ডাক দেন, তাহলে নামাজ ছেড়ে তার ডাকে সাড়া দেবেন।’
আমরা হয়তো মোবাইলে ব্যস্ত বা পড়াশোনা করছি কিংবা সামান্য কাজে লেগে আছি—ওই দিকে মা-বাবা আমাদের ডাকছেন—তখন অনেকেই বলি, একটু পরে আসছি। সাধারণত নিজেদের ব্যস্ততা বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকি। কখনো আবার ইচ্ছে করে না শোনার ভান করে থাকি বা সাড়া না দিয়ে এড়িয়ে যাই তাদের আহ্বান।
আমাদের কাছে শিক্ষকের আহ্বান, বন্ধু-বান্ধবের আড্ডা, খেলাধুলা মা-বাবার ডাকের চেয়ে বেশি প্রাধান্য পায়। তাদের ডাকে সাড়া দেওয়ার মতো সময় থাকে না। মনে রাখতে হবে, নফল নামাজের চেয়ে মা-বাবার ডাকে সাড়া দেওয়া, তাদের কথামতো চলা, তাদের জন্য সময় দেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ।
রাসুলুল্লাহ (সা.) তখন মসজিদে নববিতে বসে আছেন। এক সাহাবি মা-বাবাকে কাঁদিয়ে তাঁর কাছে এলেন। উদ্দেশ্য বাইয়াত নেবেন। নবী (সা.) জানতে পারলেন, লোকটি তার মা-বাবাকে কাঁদিয়ে এসেছে। তিনি বললেন, ‘তুমি তাদের কাছে ফিরে যাও। তাদের যেভাবে কাঁদিয়েছ, সেভাবে গিয়ে হাসাও।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫২৮)
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫
দেশের মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে ‘স্পন্দনবি’। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে অধ্যয়নরত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ইমদাদ সিতারা খান ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবারও বৃত্তি প্রদান করবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিষয়ে পড়ুয়া প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী এই বৃত্তির সুযোগ পাবেন। আগ্রহীরা আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে ডাক, কুরিয়ার বা সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন দফতরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মো. সাহাব উদ্দিন আহাম্মদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কারা আবেদন করতে পারবেন? বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের এইচএসসি উত্তীর্ণ এবং বর্তমানে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত নিম্নোক্ত বিষয়ের মেধাবী, আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন— বিএসসি অনার্স বিএসসি অনার্স (কৃষি, পশুপালনসহ সব অনুষদ) এমবিবিএস বিডিএস বিএসসি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং বিএ অনার্স বিএসএস অনার্স বিবিএ আবেদনপত্র সংগ্রহ আবেদনকারীরা নিচের যেকোনো মাধ্যমে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন— 🔗 https://spaandanb.org/projects/imdad-sitara-khan-scholarship/ 🔗 https://www.facebook.com/share/g/1FXJc2NhHe অথবা ই-মেইলে যোগাযোগ করেও ফর্ম সংগ্রহ করা যাবে— mostafiz14@yahoo.com rajib.bd@spaandanb.org tuhin.bd@spaandanb.org sajedul1233@gmail.com zabbarbd5493@gmail.com আবেদন পাঠানোর ঠিকানা স্পন্দনবি বাংলাদেশ অফিস বাসা-৭/২, শ্যামলছায়া-১, ফ্ল্যাট-বি/২, গার্ডেন স্ট্রিট, রিং রোড, শ্যামলী, মোহাম্মদপুর, ঢাকা। যোগাযোগ বৃত্তি সংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য অফিস সময়ে যোগাযোগ— ☎️ ০২-৪৮১১৪৪৯৯ 📱 ০১৭১৩-০৩৬৩৬০ 📱 ০১৭৭৩-৬১০০০৯ 📱 ০১৯৩৩-৫৬০৬৬৫ 📱 ০১৭৯৬-১০২৭০০
পোশাক প্রস্তুতকারক ও বিপণন প্রতিষ্ঠান আড়ং নতুন কিছু পদে কর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদের বিবরণ: পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট বিভাগ: হেলথ সিকিউরিটি স্কিম (HSS), সোশ্যাল কমপ্লায়েন্স অ্যান্ড প্রোডিউসার ডেভেলপমেন্ট (SCPD) পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয় যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: শিক্ষাগত যোগ্যতা: যেকোনো বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অন্য যোগ্যতা: এমএস এক্সেল এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে দক্ষতা ডকুমেন্টেশন ও ফাইল ব্যবস্থাপনায় পারদর্শিতা অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ১–২ বছর চাকরির ধরণ ও অন্যান্য তথ্য: চাকরির ধরন: ফুলটাইম কর্মক্ষেত্র: অফিসে প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: উল্লেখ নেই কর্মস্থল: ময়মনসিংহ (ত্রিশাল) বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে অন্যান্য সুবিধা: প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্রাচুইটি, উৎসব বোনাস, স্বাস্থ্য ও জীবন বিমা এবং প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা আবেদন করার নিয়ম: আগ্রহী প্রার্থীরা এখানে ক্লিক করে আবেদন করতে পারেন।
দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান যমুনা গ্রুপ নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্লাজা সেলস বিভাগে ‘এক্সিকিউটিভ’ পদে ১০০ জন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ৮ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদসংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম: যমুনা গ্রুপ বিভাগ: প্লাজা সেলস পদের নাম: এক্সিকিউটিভ পদসংখ্যা: ১০০টি যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা প্রার্থীকে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হতে হবে। এ পদে অভিজ্ঞতা প্রয়োজন নেই, তাই নবীন প্রার্থীরাও আবেদন করতে পারবেন। অন্যান্য তথ্য চাকরির ধরন: ফুল-টাইম বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে প্রার্থীর ধরন: নারী ও পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন বয়সসীমা: ন্যূনতম ২২ বছর কর্মস্থল: দেশের যেকোনো স্থানে আবেদন সংক্রান্ত তথ্য আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ সময়: ৮ নভেম্বর ২০২৫।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে নিয়োগ দেশের অন্যতম মানবিক সংগঠন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রকল্প কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘টেকনিক্যাল অফিসার’ পদে একজন যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেবে। আগ্রহীরা ২১ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। পদসংক্রান্ত তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি পদের নাম: টেকনিক্যাল অফিসার পদসংখ্যা: ১ জন যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা শিক্ষাগত যোগ্যতা: বিএসসি বা ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ২ বছর বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৪০ বছর বেতন ও চাকরির ধরন বেতন: ৫০,০০০ টাকা চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয়ই আবেদন করতে পারবেন কর্মস্থল: কুড়িগ্রাম আবেদন প্রক্রিয়া আগ্রহীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ওয়েবসাইটে ক্লিক করুন।
ইসলাম মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে শুধু বৈধতা-অবৈধতার সীমা নির্ধারণ করেনি, বরং অনেক বৈধ কাজকেও বিশেষ পরিস্থিতিতে অপছন্দনীয় বা নিরুৎসাহিত করেছে, যাতে মানুষ উত্তম ও দায়িত্বশীল পথে পরিচালিত হয়। নিচে এমন তিনটি বৈধ কিন্তু নিন্দনীয় হিসেবে বিবেচিত কাজ তুলে ধরা হলো— ভিক্ষাবৃত্তি ইসলামে ভিক্ষা চাওয়া একেবারে নিষিদ্ধ নয়; চরম অভাব, অসহায়ত্ব বা জরুরি প্রয়োজনে এটি অনুমোদিত। তবে অকারণে বা অভ্যাসে পরিণত করে ভিক্ষাবৃত্তিকে কঠোরভাবে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “তোমাদের কেউ যদি দড়ি নিয়ে বনে গিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করে, তা মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে উত্তম।” (সহিহ বুখারি) তিনি আরও বলেছেন— “উপরের হাত (দানকারী) নিচের হাত (গ্রহণকারী) থেকে উত্তম।” (সহিহ বুখারি) এছাড়া অতিরিক্ত ভিক্ষা সম্পর্কে সতর্ক করে বলা হয়েছে— “যে ব্যক্তি সম্পদ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মানুষের কাছে চায়, সে আসলে আগুনের অঙ্গার চায়।” (সহিহ মুসলিম) ঋণ গ্রহণ প্রয়োজনে ঋণ নেওয়া ইসলামে বৈধ হলেও এটি অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ বিষয়। ঋণ গ্রহণের পর তা যথাসময়ে পরিশোধ করা অপরিহার্য, কারণ এটি মানুষের অধিকার (হক্কুল ইবাদ) এর সঙ্গে সম্পর্কিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “যে ব্যক্তি ঋণমুক্ত অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (তিরমিজি) অন্য হাদিসে বলা হয়েছে— “শহীদের সব গুনাহ ক্ষমা করা হয়, কিন্তু ঋণ ক্ষমা করা হয় না।” (মুসনাদ আহমদ) এ থেকে বোঝা যায়, ঋণ নেওয়া বৈধ হলেও তা হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। তালাক (বিবাহবিচ্ছেদ) ইসলামে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তালাক বৈধ হলেও এটি আল্লাহর কাছে অপছন্দনীয় একটি বিষয়। পরিবার ও সম্পর্ক রক্ষা করাকে ইসলাম সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন— “তোমরা তাদের সঙ্গে সুন্দরভাবে জীবনযাপন করো।” (সূরা নিসা: ১৯) আরও বলা হয়েছে— “তোমরা উভয় পক্ষ থেকে একজন করে বিচারক নিয়োগ করো।” (সূরা নিসা: ৩৫) হাদিসে এসেছে— “তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে তার পরিবারের কাছে উত্তম আচরণ করে।” (মিশকাত) এছাড়া বর্ণিত আছে— “আল্লাহর কাছে হালাল কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে অপছন্দনীয় হলো তালাক।” (আবু দাউদ) ইসলাম শুধুমাত্র বৈধ-অবৈধ নির্ধারণে সীমাবদ্ধ নয়; বরং নৈতিক উন্নয়ন ও সামাজিক ভারসাম্যও নিশ্চিত করে। ভিক্ষা, ঋণ গ্রহণ ও তালাক—এই তিনটি কাজ বৈধ হলেও ইসলাম এগুলোকে যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে এবং দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করতে উৎসাহিত করেছে।
বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় শবে মেরাজ পালনের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। ১৪৪৭ হিজরি সনের রজব মাস শুরু হবে সোমবার (২২ ডিসেম্বর) থেকে। সে অনুযায়ী আগামী ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) দিনগত রাতে সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র শবে মেরাজ উদযাপিত হবে। রোববার (২১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। সভায় জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রধান কার্যালয় ও বিভাগীয়-জেলা কার্যালয়, আবহাওয়া অধিদফতর, মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে সোমবার থেকে রজব মাস গণনা শুরু হবে এবং ২৬ রজব দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র শবে মেরাজ। শবে মেরাজ উপলক্ষে দেশে সাধারণত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে থাকে ঐচ্ছিক ছুটি। তবে এবার শবে মেরাজ সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারে পড়ায় আলাদা ছুটির প্রয়োজন পড়ছে না। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খানসহ জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। উল্লেখ্য, ‘শবে মেরাজ’ অর্থ ঊর্ধ্বগমনের রাত। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, ২৬ রজব দিবাগত রাতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার সান্নিধ্য লাভ করেন। মুসলমানদের কাছে এই রাত অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ, ইবাদত-বন্দেগি ও দোয়ার মাধ্যমে এ রাত পালন করেন। অনেকেই এ উপলক্ষে নফল রোজা রাখেন।
কিয়ামতের বিভীষিকাময় দিন: সেদিন কেউ কারও কাজে আসবে না কিয়ামতের সেই ভয়াবহ দিনে মানুষ হবে সম্পূর্ণ একা। কেউ কারও পাশে দাঁড়াবে না, সবাই বলবে — “ইয়া নাফসি, ইয়া নাফসি” (হায়! আমার অবস্থা, আমার অবস্থা)। এমনকি বাবা-মা, সন্তান কিংবা প্রিয় স্বজন—কেউ কারও কথা ভাবারও সুযোগ পাবে না। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইরশাদ করেছেন— “সেদিন মানুষ পালিয়ে যাবে তার ভাই থেকে, তার মা ও তার বাবা থেকে, তার স্ত্রী ও তার সন্তান-সন্ততি থেকে। সেদিন প্রত্যেকে নিজ নিজ চিন্তায় মগ্ন থাকবে।” (সুরা আবাসা, আয়াত ৩৪-৩৭) সেদিন মানুষের একমাত্র ভরসা হবে তার আমল। সেই আমলই নির্ধারণ করবে তার চিরস্থায়ী গন্তব্য—জান্নাত না জাহান্নাম। আল্লাহ বলেন— “যেদিন তাদের জিহ্বা, হাত ও পা তাদের কৃতকর্মের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবে।” (সুরা নূর, আয়াত ২৪-২৫) অতএব, দুনিয়ার এই ক্ষণস্থায়ী জীবনে আল্লাহর আদেশ পালন ও রাসুল (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণ করাই পরকালে মুক্তির একমাত্র উপায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন— “কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের পদদ্বয় তার রবের সামনে থেকে সরবে না, যতক্ষণ না তাকে পাঁচ বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে: জীবন—সে কীভাবে অতিবাহিত করেছে, যৌবন—সে কী কাজে ব্যয় করেছে, সম্পদ—সে কোথা থেকে অর্জন করেছে, সম্পদ—সে কোথায় ব্যয় করেছে, জ্ঞান—সে কীভাবে তা অনুযায়ী আমল করেছে।” (তিরমিজি, হাদিস: ২৪১৬) তাই আমাদের উচিত এই পাঁচ প্রশ্নের জবাবের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। কারণ সেদিন কোনো অজুহাত বা সুপারিশ কাজে আসবে না—কাজে আসবে কেবল ঈমান ও সৎ আমল।