ইরানকে দেওয়া সতর্কবার্তা আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটিই চূড়ান্ত—এবার আর বাড়ানো হবে না। চলমান সংকট নিরসনে ইরানের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব এসেছে, সেটিকে ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে স্বীকার করলেও তিনি মনে করেন, তা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। এর আগে একাধিকবার ইরানকে শর্ত পূরণের জন্য সময় দিলেও পরে তা বাড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এবার তিনি আগের অবস্থান থেকে সরে না এসে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের প্রস্তাবে কিছু অগ্রগতি থাকলেও তা এখনো প্রত্যাশিত মানে পৌঁছায়নি। তিনি আরও বলেন, ইরান যদি নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করে, তাহলে দ্রুতই এই সংঘাতের অবসান সম্ভব। তার মতে, তেহরান ভালোভাবেই জানে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে আলোচনা নিয়ে পুরোপুরি নেতিবাচক নন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরান এখন পর্যন্ত আলোচনায় আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছে বলেই তার ধারণা। বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটানো এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন নির্ধারিত সময়সীমার দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়নি তেহরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকা পাকিস্তানের কাছে ইতোমধ্যে তাদের অবস্থান জানানো হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধুমাত্র সাময়িক যুদ্ধবিরতি এই সংকটের সমাধান নয়। বরং স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটানোর বিষয়টিকেই তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে অস্থায়ী সমঝোতার প্রস্তাব তারা গ্রহণ করেনি। এদিকে আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও হামলা-পাল্টা হামলা থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আক্রমণের জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যতদিন প্রয়োজন মনে করবে, ততদিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের গতি ও সমাপ্তি পুরোপুরি নির্ভর করছে দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, জাতীয় নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইরান পিছু হটবে না। আকরামিনিয়া আরও জানান, ইরানের লক্ষ্য এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে দেশের নিরাপত্তা স্থায়ীভাবে নিশ্চিত থাকবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান আগ্রাসনের জন্য প্রতিপক্ষকে মূল্য দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন সংঘাত আর না ঘটে, সে ধরনের একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের উদ্দেশ্য।
দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি মানবিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ সেবা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। সোমবার (৬ এপ্রিল) ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ৭ এপ্রিল ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’। তিনি ব্যাখ্যা করেন, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। এদের সুস্থতা পারস্পরিকভাবে নির্ভরশীল। এই ধারণাকেই ‘One Health’ বলা হয়, যেখানে মানুষের পাশাপাশি পরিবেশ ও অন্যান্য প্রাণীর সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এজন্য চিকিৎসা, কৃষি, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞান—সব ক্ষেত্রকে সমন্বিত করে গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানের অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত ও সমতা ভিত্তিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মেশিন লার্নিং (ML)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার ‘প্রতিরোধই উত্তম চিকিৎসা’ এই নীতিতে বিশ্বাস করে। সবার জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। কারণ স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী; প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালু; জটিল রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) ব্যবস্থা চালু; স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন; চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখা; স্বাস্থ্যবিমা চালু ও সম্প্রসারণ; চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতার জন্য ন্যায়সংগত আইন প্রণয়ন। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী জাতি গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং দিবসের সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশের মধ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইতোমধ্যে আইনে পরিণত হয়েছে। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ১০টি বিলের মধ্যে ৭টি কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে, আর বাকি ৩টি আরও আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলগুলো উত্থাপন করেন। পরে একে একে ভোটে দিলে অধিকাংশ বিলই অনুমোদন পায়। ওইদিন মোট ১০টি বিল উত্থাপন করা হলেও আপত্তির কারণে তিনটি বিল তাৎক্ষণিকভাবে পাস হয়নি। সেগুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। একই দিনে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা (সংশোধন) বিল’ সংসদে উত্থাপন করলে সেটি বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। যে ৭টি বিল সংসদে অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচনী আইন, নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো এবং জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন। এছাড়াও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একটি বিশেষ বিধান বাতিল এবং বাংলাদেশ ল অফিসার্স সংশোধনী আইনও পাস হয়েছে। অন্যদিকে, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আপত্তি ওঠায় সেগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন সংক্রান্ত আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের প্রস্তাব এবং বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব বিল নিয়ে আলোচনা শেষে পুনরায় সংসদে তোলা হবে। জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টিকে আইনে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই প্রথম ধাপে ১০টি বিল সংসদে আনা হয়েছে। বাকি অধ্যাদেশগুলোও ধাপে ধাপে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিপুল সংখ্যক অধ্যাদেশের মধ্যে থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইতোমধ্যে আইনে পরিণত হয়েছে। জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ১০টি বিলের মধ্যে ৭টি কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে, আর বাকি ৩টি আরও আলোচনার জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলগুলো উত্থাপন করেন। পরে একে একে ভোটে দিলে অধিকাংশ বিলই অনুমোদন পায়। ওইদিন মোট ১০টি বিল উত্থাপন করা হলেও আপত্তির কারণে তিনটি বিল তাৎক্ষণিকভাবে পাস হয়নি। সেগুলো পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। একই দিনে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিজমি সুরক্ষা (সংশোধন) বিল’ সংসদে উত্থাপন করলে সেটি বিস্তারিত পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। যে ৭টি বিল সংসদে অনুমোদন পেয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকা সংশোধন, নির্বাচনী আইন, নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো এবং জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন। এছাড়াও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের একটি বিশেষ বিধান বাতিল এবং বাংলাদেশ ল অফিসার্স সংশোধনী আইনও পাস হয়েছে। অন্যদিকে, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আপত্তি ওঠায় সেগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন পুনর্গঠন সংক্রান্ত আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের প্রস্তাব এবং বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ রহিত করার বিষয়টি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব বিল নিয়ে আলোচনা শেষে পুনরায় সংসদে তোলা হবে। জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টিকে আইনে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই প্রথম ধাপে ১০টি বিল সংসদে আনা হয়েছে। বাকি অধ্যাদেশগুলোও ধাপে ধাপে বিল আকারে উপস্থাপন করা হবে।
দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, একটি মানবিক ও কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে শহর ও গ্রাম—দুই জায়গাতেই মানসম্মত চিকিৎসা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ সেবা এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে। সোমবার (৬ এপ্রিল) ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এসব কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ৭ এপ্রিল ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্যসেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’। তিনি ব্যাখ্যা করেন, মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। এদের সুস্থতা পারস্পরিকভাবে নির্ভরশীল। এই ধারণাকেই ‘One Health’ বলা হয়, যেখানে মানুষের পাশাপাশি পরিবেশ ও অন্যান্য প্রাণীর সুরক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। এজন্য চিকিৎসা, কৃষি, প্রাণিবিজ্ঞান ও পরিবেশবিজ্ঞান—সব ক্ষেত্রকে সমন্বিত করে গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী বিজ্ঞানের অগ্রগতি স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। বিশেষ করে দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত ও সমতা ভিত্তিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত রোগ নির্ণয় ও উন্নত চিকিৎসার জন্য ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR), অগমেন্টেড রিয়েলিটি (AR), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মেশিন লার্নিং (ML)-এর মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, সরকার ‘প্রতিরোধই উত্তম চিকিৎসা’ এই নীতিতে বিশ্বাস করে। সবার জন্য সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। কারণ স্বাস্থ্যসেবা কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। প্রধানমন্ত্রী জানান, স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দেশব্যাপী ধাপে ধাপে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, যাদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী; প্রতিটি নাগরিকের জন্য ই-হেলথ কার্ড চালু; জটিল রোগের চিকিৎসায় পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) ব্যবস্থা চালু; স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন; চিকিৎসা ব্যয় সহনীয় রাখা; স্বাস্থ্যবিমা চালু ও সম্প্রসারণ; চিকিৎসা শিক্ষা ও গবেষণা জোরদার এবং সেবাদাতা ও সেবাগ্রহীতার জন্য ন্যায়সংগত আইন প্রণয়ন। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতে পর্যায়ক্রমে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সততা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও শক্তিশালী জাতি গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং দিবসের সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু লক্ষ্য করে আবারও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ ইস্যুতে খুব বেশি দূর পর্যন্ত যেতে চায় না। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি আত্মসমর্পণে রাজি না হয়, তাহলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আঘাত অব্যাহত থাকবে। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যেখানে ইরানের সেতু কিংবা বিদ্যুৎকেন্দ্র—কিছুই অক্ষত থাকবে না। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, বিষয়টি নিয়ে তিনি অতিরিক্ত আগ্রাসী অবস্থানে যেতে চান না, কারণ এর চেয়েও বড় কিছু বিষয় সামনে রয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, সুযোগ পেলে তিনি ইরানের তেল সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতেন। তার দাবি, ইরানের কাছে থাকা তেল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনতে পারে। এমনকি তিনি বলেন, এতে বিপুল অর্থ আয় করার পাশাপাশি ইরানের জনগণের জন্যও সহায়তা করা সম্ভব হতো। তিনি আরও মন্তব্য করেন, আমেরিকার জনগণের একটি বড় অংশ বিদেশি সংঘাত থেকে সরে এসে দেশে মনোযোগ দিতে চায়। তবে সিদ্ধান্ত যদি পুরোপুরি তার হাতে থাকত, তাহলে ইরানের তেল সম্পদ দখল করে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করতেন। ইরানে চলমান হামলার প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, এই বোমাবর্ষণ বন্ধ হয়ে গেলে বরং ইরানের ভেতরের কিছু মানুষই অসন্তুষ্ট হতে পারে। পারমাণবিক ইস্যুতে কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। তার মতে, এমন অস্ত্র ভুল মানুষের হাতে গেলে তা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করবে। এছাড়া ইরানে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা নিয়ে তিনি বলেন, এটি মূলত একটি আকস্মিক বা ভাগ্যের বিষয় ছিল। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, মার্কিন কিছু হেলিকপ্টারেও হামলার চিহ্ন থাকতে পারে।
ইরানকে দেওয়া সতর্কবার্তা আবারও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) যে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটিই চূড়ান্ত—এবার আর বাড়ানো হবে না। চলমান সংকট নিরসনে ইরানের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব এসেছে, সেটিকে ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে স্বীকার করলেও তিনি মনে করেন, তা বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে প্রস্তাবটি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। এর আগে একাধিকবার ইরানকে শর্ত পূরণের জন্য সময় দিলেও পরে তা বাড়িয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে এবার তিনি আগের অবস্থান থেকে সরে না এসে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। হোয়াইট হাউসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ইরানের প্রস্তাবে কিছু অগ্রগতি থাকলেও তা এখনো প্রত্যাশিত মানে পৌঁছায়নি। তিনি আরও বলেন, ইরান যদি নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ করে, তাহলে দ্রুতই এই সংঘাতের অবসান সম্ভব। তার মতে, তেহরান ভালোভাবেই জানে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। তবে আলোচনা নিয়ে পুরোপুরি নেতিবাচক নন ট্রাম্প। তিনি জানান, ইরান এখন পর্যন্ত আলোচনায় আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছে বলেই তার ধারণা। বর্তমান পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা কাটানো এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন নির্ধারিত সময়সীমার দিকেই নিবদ্ধ রয়েছে। সূত্র: আলজাজিরা।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়নি তেহরান। দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকা পাকিস্তানের কাছে ইতোমধ্যে তাদের অবস্থান জানানো হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধুমাত্র সাময়িক যুদ্ধবিরতি এই সংকটের সমাধান নয়। বরং স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটানোর বিষয়টিকেই তারা গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কারণে অস্থায়ী সমঝোতার প্রস্তাব তারা গ্রহণ করেনি। এদিকে আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও হামলা-পাল্টা হামলা থেমে নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আক্রমণের জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে, ইরানের সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, রাজনৈতিক নেতৃত্ব যতদিন প্রয়োজন মনে করবে, ততদিন এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া হবে। সোমবার (৬ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনিয়া এ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের গতি ও সমাপ্তি পুরোপুরি নির্ভর করছে দেশের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, জাতীয় নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইরান পিছু হটবে না। আকরামিনিয়া আরও জানান, ইরানের লক্ষ্য এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে দেশের নিরাপত্তা স্থায়ীভাবে নিশ্চিত থাকবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান আগ্রাসনের জন্য প্রতিপক্ষকে মূল্য দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে যেন এমন সংঘাত আর না ঘটে, সে ধরনের একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাদের উদ্দেশ্য।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নারী সেজে ভিডিও তৈরি করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক রেদোয়ান ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে জেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে রেদোয়ান ইসলাম এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি লিঙ্গ পরিবর্তন করেননি; কেবল বিনোদনের উদ্দেশ্যে নারী সেজে টিকটক ভিডিও তৈরি করতেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তিনি সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। রেদোয়ান ‘রিহিয়া রিহি’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। সেখানে এক পোস্টে তিনি লেখেন, তার কিছু ভিডিও অনেককে কষ্ট দিয়েছে এবং তিনি বিষয়টি বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করছেন। তিনি জানান, এসব কনটেন্ট শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ভবিষ্যতে এমন কাজ থেকে বিরত থাকবেন বলেও প্রতিশ্রুতি দেন। আরেকটি পোস্টে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি ট্রান্সজেন্ডার নন এবং এ সংক্রান্ত প্রচারিত তথ্য সম্পূর্ণ গুজব। তিনি নিজেকে একজন সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত আছেন। ইতোমধ্যে বিতর্কিত কনটেন্টগুলো সরিয়ে ফেলেছেন এবং ভবিষ্যতে আরও সতর্ক থাকবেন। এছাড়া তিনি সবাইকে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানান, কারণ এতে একজন মানুষের সম্মান ক্ষুণ্ন হতে পারে। ঘটনার পর তিনি তার টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করেছেন। এ বিষয়ে রেদোয়ানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ছেলে থেকে মেয়েতে রূপান্তরের বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। তিনি জানান, রেদোয়ান ঢাকায় কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটরের সঙ্গে মিলেই ভিডিও তৈরি করতেন। পরিবার থেকে এসব কাজে সমর্থন ছিল না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বর্তমানে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর রেদোয়ান বাড়িতে নেই। এর আগে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সমীর চক্রবর্তী জানান, কমিটি ঘোষণার আগে রেদোয়ান তার জীবনবৃত্তান্তে নিজেকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে পরে জানা যায়, তিনি লিঙ্গ পরিবর্তন করেছেন এমন অভিযোগ উঠে, যা গোপন করার কারণে সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে তাকে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত পরিচয়ের স্বাধীনতার দৃষ্টিতে দেখছেন, আবার কেউ তথ্য গোপনের বিষয়টিকেই মূল সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করছেন।
জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে বিএনপি টিকে থাকতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড় সরকারি অডিটোরিয়াম চত্বরের মুক্তমঞ্চে কিশোরকন্ঠ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি। সারজিস আলম বলেন, আগামীতে বাংলাদেশের মানুষকে বিএনপি ভালো বার্তা দিল না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন অনুযায়ী সংসদে স্পিকার সরকারি দল থেকে হলেও ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডেপুটি স্পিকার দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে, যিনি বিএনপি সমর্থিত একজন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, আজকে আপনারা দেখবেন স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়িয়েছেন ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতি। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমাদের যে সীমাবদ্ধতা ছিল পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে এতদিন পরে যখন একটা নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট সরকারের রাষ্ট্রপতির দ্বারা শপথ পড়ে আমাদের এই যে বিএনপি সরকার বা নতুন সরকার তারা তাদের কার্যক্রম শুরু করে। আবার তারা পূর্বের যেই স্বৈরাচারী লেজ, সেই স্বৈরাচারী লেজ টেনে ধরে কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি আমাদেরকে মর্মাহত করেছে। এনসিপির এ নেতা আরও বলেন, জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে বিএনপি যদি মনে করে, তারা এই বাংলাদেশে জনগণের বিপক্ষে গিয়ে রাজনীতি করে টিকে থাকতে পারবে, সংসদ স্বাভাবিকভাবে ফাংশন করবে— এটা কখনোই সম্ভব না। কোনো একটা দল যদি তাদের দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়ন করতে চায়, ক্ষমতার মোহে ডুবে স্বৈরাচারের পথে হাটতে চায়, তাহলে জনগণ এবং আমরা বিরোধী দল একসাথে প্রতিরোধ করবো। আমরা সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই রাষ্ট্রপতির অভিশংসন চেয়েছি, কারণ এই রাষ্ট্রপতির হাত ধরে নতুন সরকার চলতে পারে না।
দেশকে আবারও সংকট থেকে উদ্ধার করতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বিএনপি দেশকে ধ্বংসের কিনারা থেকে রক্ষা করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, অতীতেও বিএনপি দেশকে ধ্বংসের প্রান্ত থেকে ফিরিয়ে এনেছে, এবারও তা করবে। তবে সামনে সময়টা কঠিন হতে পারে—এ কথা মাথায় রেখে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। রোববার (২১ ডিসেম্বর) বিকেলে বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে জেলা বিএনপির আয়োজনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। বক্তব্যের শুরুতে গুলিতে নিহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির স্মৃতিচারণ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদি গণতন্ত্র ও ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন এবং আগামী নির্বাচনের একজন প্রার্থী ছিলেন। তার এই অবস্থান প্রমাণ করে যে তিনি গণতান্ত্রিক পথেই রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। তাই শহীদ ওসমান হাদি, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধা এবং একাত্তরের শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে দেশের মানুষের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়াই হতে হবে একমাত্র লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, দেশ এখন স্বৈরাচারের হাত থেকে মুক্ত। এই স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকেই নতুন করে দেশ গড়ে তুলতে হবে। এর আগে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত ডিজিটাল স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা মূলত এই প্রজন্মের তরুণ সদস্য। বর্তমান প্রজন্মের সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে ইন্টারনেট এখনো অনেকের জন্য ব্যয়বহুল, যা সহজলভ্য করা জরুরি। ইন্টারনেট সুবিধা তরুণদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহর রহমতে আগামী নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ইন্টারনেট সেবা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করা হবে। বিশেষ করে তরুণদের জন্য। আজিজুল হক কলেজে দেওয়া ফ্রি ইন্টারনেট সংযোগের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এখানে একজন শিক্ষার্থী এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর্যন্ত বিনা মূল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবে এবং পুনরায় লগইন করেও একই সুবিধা নিতে পারবে। দেশের আইটি পার্কগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে জনগণের অর্থ অপচয় করে যে ডিজিটাল পার্কগুলো গড়ে তোলা হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এসব পার্ক সংস্কার ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, তরুণদের ভাষা শিক্ষা ও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা বিদেশে সহজেই চাকরির সুযোগ পায়। এ লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বক্তব্যের শেষাংশে বিএনপির ৩১ দফা ও নতুন স্লোগানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এখন আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই—‘করবো কাজ, গড়বো দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ’। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই সবাইকে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি জিয়াউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে দলটি। তার জন্য বাসভবন, রাজনৈতিক কার্যালয় ও নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার আলাদা ব্যবস্থাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে উঠবেন তারেক রহমান। এই বাড়ির পাশেই ভাড়া করা বাসা ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। পাশাপাশি গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের জন্য আলাদা একটি চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গুলশানে আরেকটি বাসা ভাড়া নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর গুলশান ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি ভবনে বিএনপির নতুন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতা কর্মসূচির ঘোষণা দেন তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। আগামী ২৫ ডিসেম্বর টানা ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে ঢাকায় ফিরছেন তারেক রহমান। এ উপলক্ষে বিএনপি ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। সেদিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে সংবর্ধনা জানাতে উপস্থিত থাকবেন। গুলশান এভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িটি মূলত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রিসভার সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। কয়েক মাস আগে গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম রিজু আনুষ্ঠানিকভাবে বাড়িটির দলিল বিএনপি চেয়ারপারসনের কাছে হস্তান্তর করেন। বর্তমানে সেই বাড়িতেই উঠতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। বাসভবনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে নিরাপত্তা ছাউনি এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মীরা জানিয়েছেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বসবাস নিশ্চিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে চেয়ারপারসনের চেম্বারের পাশেই তারেক রহমানের জন্য আলাদা চেম্বার প্রস্তুত করা হয়েছে। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তার জন্য একটি পৃথক চেম্বার রাখা হয়েছে। সেখানে আগে থেকেই চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের চেম্বার রয়েছে। গুলশান ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি ভবনটি বিএনপির অফিস হিসেবে ভাড়া নেওয়া হয়েছে। চারতলা এই ভবনে রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দ্বিতীয় তলায় রয়েছে ব্রিফিং রুম, অন্য তলাগুলোতে বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বসার ব্যবস্থা এবং একটি গবেষণা সেলও রাখা হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা এই দিনের অপেক্ষায় আছি। আমাদের বিশ্বাস, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তাকে ঘিরেই আমাদের সব প্রস্তুতি।” সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিহউল্লাহ, তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, জিয়া উদ্দিন হায়দার, চেয়ারপারসনের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য সাইমুম পারভেজসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে পঞ্চগড় জেলা নির্বাচন অফিসারের কার্যালয় থেকে তার পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা এনসিপির যুগ্ম সমন্বয়কারী শিশির আসাদ, তানবীরুল বারী নয়ন এবং তেঁতুলিয়া উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী হাবিবুর রহমান হাবিব। মনোনয়নপত্র ক্রয়ের বিষয়টি মুঠোফোনে নিশ্চিত করে সারজিস আলম বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে পঞ্চগড়-১ আসনের প্রার্থী হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী আজ মনোনয়ন ফরম কেনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সবাইকে সজাগ ও দায়িত্বশীল থাকতে হবে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগোনো সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫