দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার নতুন ধারা সূচনা করেছে উইটন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও গাইডেন্স ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। প্রচলিত মুখস্থনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের পাঠ্যক্রমে যুক্ত করেছে অ্যাবাকাস ও মেন্টাল ম্যাথ (মানসাঙ্ক), যা শিক্ষার্থীদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু গণিত শেখে না, বরং দ্রুত চিন্তা, বিশ্লেষণ এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করে। বর্তমান বিশ্বে গণিতকে কেবল একটি বিষয় হিসেবে নয়, বরং চিন্তাশক্তি ও যুক্তিবোধ গড়ে তোলার মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। এই লক্ষ্যেই স্কুল দুটি তাদের শিক্ষাকাঠামোতে বাস্তবভিত্তিক শেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। অ্যাবাকাস ও মেন্টাল ম্যাথ চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা, স্মৃতিশক্তি ও পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির। বাংলাদেশে সাধারণত অ্যাবাকাস বা মেন্টাল ম্যাথ শেখার জন্য আলাদা কোচিংয়ের প্রয়োজন হয়। তবে এই দুই প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত ব্যয় ও সময়ের চাপ কমছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। জানা যায়, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামিক মূল্যবোধের সমন্বয়। এখানে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি হিফজুল কুরআন প্রোগ্রাম ও আরবি ভাষা শিক্ষা চালু রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের আত্মিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ক্যাম্পিং, পাবলিক স্পিকিং, লিডারশিপ ট্রেনিংসহ বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এতে তাদের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বগুণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নতুন মানদণ্ড তৈরি করতে পারে। দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে যেতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন। প্রতিষ্ঠান দুটির অধ্যক্ষ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ জামান বলেন, ‘গণিত মানে শুধু সূত্র মুখস্থ করা নয়, এটি চিন্তার একটি প্রক্রিয়া। আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা বাস্তব জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে।’
পুলিশের ১৭ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী। রোববার (৩ মে) মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী এসব কর্মকর্তাকে অবসর দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সকল সুবিধা প্রাপ্য হবেন। অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৬ ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা হলেন— ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ (অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট), ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ (হাইওয়ে পুলিশ), ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান (সিআইডি), ডিআইজি সালেহ মোহাম্মদ তানভীর (পুলিশ অধিদপ্তর), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ, ডিআইজি এস এম আখতারুজ্জামান (পুলিশ স্টাফ কলেজ), ডিআইজি হায়দার আলী খান (কমান্ড্যান্ট, পিটিসি, নোয়াখালী)। ডিআইজি মো. মাহবুব রহমান ভূইয়া (কমান্ড্যান্ট, পিটিসি, খুলনা), ডিআইজি রুহুল আমিন (ট্যুরিস্ট পুলিশ), ডিআইজি মো. রফিকুল হাসান গনি (হাইওয়ে পুলিশ), ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান (পুলিশ অধিদপ্তর), ডিআইজি মো. মজিদ আলী (সিআইডি), ডিআইজি কাজী জিয়া উদ্দিন (পুলিশ অধিদপ্তর)। ডিআইজি মো. গোলাম রউফ খান (রেলওয়ে পুলিশ), ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার (কমান্ড্যান্ট, পিটিসি, রংপুর) ও ডিআইজি রাখফার সুলতানা খানম (হাইওয়ে পুলিশ)। আরেকজন সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি ও রেলওয়ে পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জন সংসদ সদস্য (এমপি) শপথ নিয়েছেন। রোববার (৩ মে) রাত ৯টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম শপথ পাঠ করান। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল তাদের নাম ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনগুলোয় রাজনৈতিক দল ও জোটের অনুকূলে বণ্টন করা আসনের ভিত্তিতে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোট থেকে ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট থেকে ১২ জন এবং স্বতন্ত্র একজন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা হলেন—সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জিবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবীবা, মোসা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা। জামায়াত জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা হলেন—নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার, নাজমুন নাহার, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও মাহবুবা হাকিম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সুলতানা জেসমিন। অপরদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গতকাল শনিবার বৈধ ঘোষণা করা হলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় তিনি শপথ নিতে পারেননি।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করা প্রতিদিনের ঘটনা। তবে ট্রাফিক আইন নিয়ে আরও কঠোর হচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করছে ডিএমপি। এখন আইন ভাঙলে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বা স্থিরচিত্রের মাধ্যমে অটো নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির বা জরিমানা না দিলে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। রোববার (৩ মে) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তিতে জারি করেছে সংস্থাটি। গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, লালবাতি অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং বাঁ লেন দখলের মতো অপরাধগুলো ভিডিও বা স্থিরচিত্রের মাধ্যমে শনাক্ত করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকের ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। নোটিশ প্রাপ্তির পর মালিক বা চালকদের ডিএমপি সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে উপস্থিত হয়ে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে নোটিশ পাওয়ার পরও যদি কেউ হাজির না হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মতো পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। ডিএমপি সতর্ক করে বলেছে, এই প্রক্রিয়ার বাইরে সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মামলার নামে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান না করতে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র প্রতারণার উদ্দেশ্যে টাকা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা বা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্রসিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলাপ্রক্রিয়া শুরু করছে। সেই সঙ্গে নগরবাসীর কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করেছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
চিফ প্রসিকউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, রাজধানীর শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার তদন্ত প্রায় শেষের দিকে। শুধু ঢাকাতেই ৩২ জনকে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে। রোববার (৩ মে) চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এমন তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ৭ জুনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল হবে। এর আগে, গত ৫ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১- এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় দুই মাস বাড়িয়েছিলেন। শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে তারিখের ওই ঘটনা নিয়ে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর অভিযোগ করেছিলেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। হেফাজত নেতা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে করা এ অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। প্রসঙ্গত, ১৩ বছর আগে ঢাকার শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে আলোচনায় এসেছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। কয়েকজন ব্লগারের বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগ ও নারী নীতির বিরোধিতা করাসহ ১৩ দফা দাবি তুলে হেফাজতে ইসলাম ওই কর্মসূচি নিয়েছিল। ২০১৩ সালের ৫ মে দিনভর উত্তেজনা ও সহিংসতা ছড়িয়েছিল ওই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। সেই রাতে রাজধানীর অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিলের শাপলা চত্বর ঘিরে তৈরি হয়েছিল এক ভীতিকর পরিবেশ। শেষ পর্যন্ত পুলিশ–র্যাব ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির অভিযানে খালি করা হয়েছিল শাপলা চত্বর। সেই অভিযানে নিহত হয়েছিল ৩২ জন মানুষ এমনটাই তদন্তে বের হয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৪৯ জন সংসদ সদস্য (এমপি) শপথ নিয়েছেন। রোববার (৩ মে) রাত ৯টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম শপথ পাঠ করান। এর আগে গত ৩০ এপ্রিল তাদের নাম ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রকাশিত গেজেট অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনগুলোয় রাজনৈতিক দল ও জোটের অনুকূলে বণ্টন করা আসনের ভিত্তিতে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোট থেকে ৩৬ জন, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট থেকে ১২ জন এবং স্বতন্ত্র একজন নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা হলেন—সেলিমা রহমান, শিরীন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলোফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জিবা আমিনা খান, মাহমুদা হাবীবা, মোসা. সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আরা আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা। জামায়াত জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা হলেন—নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন্নাহার, নাজমুন নাহার, মাহফুজা হান্নান, সাজেদা সামাদ, শামছুন্নাহার বেগম, মারদিয়া মমতাজ, রোকেয়া বেগম, মাহমুদা আলম মিতু, তাসমিয়া প্রধান ও মাহবুবা হাকিম। এ ছাড়া স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সুলতানা জেসমিন। অপরদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী এনসিপি নেত্রী নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র গতকাল শনিবার বৈধ ঘোষণা করা হলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় তিনি শপথ নিতে পারেননি।
পুলিশের ১৭ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঞ্জুর মোর্শেদ চৌধুরী। রোববার (৩ মে) মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারার বিধান অনুযায়ী এসব কর্মকর্তাকে অবসর দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়েছে, এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সকল সুবিধা প্রাপ্য হবেন। অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৬ ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা হলেন— ডিআইজি মফিজ উদ্দিন আহমেদ (অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিট), ডিআইজি ইমতিয়াজ আহমেদ (হাইওয়ে পুলিশ), ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান (সিআইডি), ডিআইজি সালেহ মোহাম্মদ তানভীর (পুলিশ অধিদপ্তর), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. হারুন-অর-রশীদ, ডিআইজি এস এম আখতারুজ্জামান (পুলিশ স্টাফ কলেজ), ডিআইজি হায়দার আলী খান (কমান্ড্যান্ট, পিটিসি, নোয়াখালী)। ডিআইজি মো. মাহবুব রহমান ভূইয়া (কমান্ড্যান্ট, পিটিসি, খুলনা), ডিআইজি রুহুল আমিন (ট্যুরিস্ট পুলিশ), ডিআইজি মো. রফিকুল হাসান গনি (হাইওয়ে পুলিশ), ডিআইজি মো. মিজানুর রহমান (পুলিশ অধিদপ্তর), ডিআইজি মো. মজিদ আলী (সিআইডি), ডিআইজি কাজী জিয়া উদ্দিন (পুলিশ অধিদপ্তর)। ডিআইজি মো. গোলাম রউফ খান (রেলওয়ে পুলিশ), ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ রেজাউল হায়দার (কমান্ড্যান্ট, পিটিসি, রংপুর) ও ডিআইজি রাখফার সুলতানা খানম (হাইওয়ে পুলিশ)। আরেকজন সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি ও রেলওয়ে পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করা প্রতিদিনের ঘটনা। তবে ট্রাফিক আইন নিয়ে আরও কঠোর হচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা করছে ডিএমপি। এখন আইন ভাঙলে সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বা স্থিরচিত্রের মাধ্যমে অটো নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হাজির বা জরিমানা না দিলে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে। রোববার (৩ মে) ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তিতে জারি করেছে সংস্থাটি। গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অবৈধ পার্কিং, লালবাতি অমান্য, স্টপ লাইন অতিক্রম, উল্টো পথে চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং বাঁ লেন দখলের মতো অপরাধগুলো ভিডিও বা স্থিরচিত্রের মাধ্যমে শনাক্ত করে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মালিক বা চালকের ঠিকানায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। নোটিশ প্রাপ্তির পর মালিক বা চালকদের ডিএমপি সদর দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক বিভাগে উপস্থিত হয়ে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ অনুযায়ী নির্ধারিত জরিমানা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে নোটিশ পাওয়ার পরও যদি কেউ হাজির না হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আদালতের মাধ্যমে সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির মতো পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। ডিএমপি সতর্ক করে বলেছে, এই প্রক্রিয়ার বাইরে সিসি ক্যামেরা বা ভিডিও ফুটেজের মামলার নামে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন বা ব্যক্তিগত তথ্য আদান-প্রদান না করতে। কোনো ব্যক্তি বা চক্র প্রতারণার উদ্দেশ্যে টাকা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ থানা বা ট্রাফিক বিভাগে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সিগন্যাল ও ক্রসিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলাপ্রক্রিয়া শুরু করছে। সেই সঙ্গে নগরবাসীর কাছ থেকে সহযোগিতা কামনা করেছেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার।
মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে শুরু থেকে দাপট দেখিয়ে ৩৩ মিনিটের মধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল মায়ামি। তারপরও নিজেদের মাঠে জিততে পারেনি তারা। এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ লিওনেল মেসি। রোববার (৩ মে) নু স্টেডিয়ামে অরল্যান্ডো সিটির বিপক্ষে ৪-৩ গোলে হেরেছে ইন্টার মায়ামি। এদিন চতুর্থ মিনিটে মায়ামিকে এগিয়ে নেন ইয়ান ফ্রে। ২৫তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তেলাস্কো সেগোভিয়া। ৩৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে একজনকে কাটিয়ে দারুণ শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মেসি। এর কিছুক্ষণ পরই মায়ামির পথ হারানোর শুরু। ৩৯তম মিনিটে ব্যবধান কমান মার্তিন ওহেদা। ৬৮তম মিনিটে আবার জালের দেখা পান তিনি। ৭৮তম মিনিটে সফল স্পট কিকে হ্যাটট্রিকের পাশাপাশি ম্যাচে সমতা ফেরান এই আর্জেন্টাইন উইঙ্গার। আর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে অরল্যান্ডোকে তিন পয়েন্ট এনে দেন টাইরেস স্পাইসার। মেসির হতাশা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। ম্যাচ শেষ হতেই সোজা টানেলের দিকে চলে যান তিনি। সতীর্থদের কী বলেছিলেন তিনি, গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বললেন ফ্রে। তিনি বলেন, আমাদের অধিনায়ক কথা বলেছেন। অবশ্যই আমাদের অনেক কিছু বলেছেন তিনি। পরের ম্যাচের জন্য তিনি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছেন এবং বলেছেন, এটা অগ্রহণযোগ্য। আমরা সবাই তার সঙ্গে একমত। ফের এমন ঘটবে না, এটা নিশ্চিত। উল্লেখ্য, ইস্টার্ন কনফারেন্সে আপাতত তৃতীয় স্থানে আছে মায়ামি। আগামী শনিবার টরন্টোর মাঠে খেলবে তারা।
পুরো ক্রিকেট ক্যারিয়ার জুড়ে বিতর্ক ও আলোচনায় ছিলেন সাকিব আল হাসান। ক্রিকেটের বাইরে সবচেয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন শেয়ার বাজারে নাম লিখিয়ে। বর্তমানে তার দেশে ফিরের পথে যেসব কাটা রয়েছে তার মধ্যে একটি হলো শেয়ার মার্কেটের কারসাজির অভিযোগ। তবে দেশের ক্রিকেটের পোস্টারবয় খ্যাত এই তারকা অভিযোগ তুলেছেন, দুই বছরেও কেন তার শেয়ার বাজারের কারসাজির অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি? সম্প্রতি দেশের বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। সাকিব জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যে নিউজে আসে যে অনেক সমস্যা আছে, কিন্তু কেউ বিস্তারিত বলতে পারে না। কেউ বলল যে, ‘শেয়ার মার্কেটের কারসাজি আছে।’ তো সেটা কি? দুই বছর ধরে কেউ কিছু প্রমাণ করতে পেরেছে? রাজনৈতিক মামলা একটা আছে, হত্যা মামলা। সেটাও তো দেড় বছরে কিছু এগোয়নি! ‘আর একটা চেক বাউন্সের মামলা আছে, সেটা একদম বেসিক জিনিস, যদি আপনি ইনস্টলমেন্ট না দিতে পারেন, সাইন করা যে চেকগুলো থাকে, ওটা নিয়ে ব্যাংক মামলা করে। সেটা খুবই নরম্যাল ব্যাপার এবং এটা রিশিডিউলও করা যায়, টাকা দিলে সেই মামলা বন্ধ হয়ে যায়। আমি যে সেটা করব, আমার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রেখেছে ফ্রিজ করে।’ তিনি বলেন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ কেন? হয়তো তাদের মনে হয়েছে, তদন্তের স্বার্থে ফ্রিজ করা দরকার। এখন তো দেড় বছর হয়ে গেল সেই তদন্ত! কিছুই তো এখনও পর্যন্ত পায়নি! আমার বিশ্বাস, কিছুই পাওয়ার কোনো চান্স নাই। সাকিব জানিয়ে দ্রুত তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করা উচিত। তার ভাষ্য, লোকের কথা শুনলে মনে হয় যে, আমার কয়েক হাজার সমস্যা এবং সমস্যা সমাধান করতে কয়েক দশক লেগে যাবে। আসলে ইচ্ছে থাকলে কতদিন লাগতে পারে? তদন্ত করে দোষ প্রমাণিত হলে অ্যাকশন নিন। তদন্তে কিছু না পেলে ক্লিয়ারেন্স দিন, রিলিজ দিন। ‘আমার অ্যাকাউন্ট ওপেন হয়ে গেলে রিশিডিউল করে আমি কালকেই এটা জমা দিয়ে দিলে পরশুদিন ওরা মামলা তুলে নেবে!’ সাকিবের দেশে না ফেরার পেছনে বড় বাধা হলো হত্যা মামলা। ছাত্র আন্দোলনের সময় নিহত রুবেল হত্যায় সাকিবকে আসামী করে মামলা করা হয়েছে। যার ফলে দেশে ফিরে গ্রেপ্তার হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এ নিয়ে সাকিব বলেন, হত্যা মামলাটিও এখন সাধারণ অবস্থায় আছে। আইন মন্ত্রণালয় অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের কাছে একটা নির্দেশনা যাবে যে, মামলাটিতে তার যোগসূত্রতা আছে নাকি নাই। যেহেতু এখনও চার্জশিট হয়নি, আমার যোগসূত্রতা না পেলে ছেড়ে দেবে। আদাবর থানায় হওয়া মামলা নিয়ে তিনি বলেন, যেখানকার ঘটনায় মামলা, সেই আদাবরে তো জীবনেও গিয়েছি বলে মনে পড়ে না। আমার সম্পৃক্ততা যদি না থাকে, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দিতে পারে যে, এটাতে তার যোগসূত্র নাই। এটার জন্য কতদিন লাগতে পারে? দুই বছর হতে চলেছে! তিনি আরও বলেন, যদি তারা মনে করে, আমি কানাডায় বসে ফোনে ফোনে দুনিয়ার বিশাল একটা মাফিয়া গোষ্ঠী নিয়ে বিশাল একটা ইয়ে করেছি, সেটা যদি তারা প্রমাণ দেখায়, তাহলে ঠিক আছে, বিচার করুক! সদিচ্ছা থাকলেই সব হয়।
‘আমরা হাওয়ার সঙ্গে নয় রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি’ বলে মন্তব্য করেছেন ভোলা-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা যাবে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যখন বলতে হবে, তখন কার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি? হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছে মুক্তিবাহিনী? আমরা রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। পার্থ বলেন, আওয়ামী লীগ ফিরে আসা নিয়ে আমি একটা পরিস্কার কথা বলে দিতে চাই, জুলাইকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই। জুলাইকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই এবং এই বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই। এদিন দুপুরে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নিয়ে বক্তব্যে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধীদলের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সংসদে জামায়াত আমির ডা.শফিকুর রহমান ফজলুর রহমানের উদ্দেশ্যে বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সবকিছুই বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের উপরে হাতুড়ি পিটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন। তিনি বলেন, কোন মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামাতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে উনাকে জিজ্ঞেস করে করা লাগবে। এরপর জামায়াত আমির বলেন, এটি আমার নাগরিক অধিকার। আমি কোন দল করব? আদর্শ আমি অনুসরণ করব। এর উপর হস্তক্ষেপ করার নূন্যতম কোন অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধানে কাউকে দেয়নি। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে এটা গুরুতর অপরাধ করেছেন উনি। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন। এটা তিনি বাড়তি অপরাধ করেছেন।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ–কে ফ্লোর ক্রসিং ইস্যুতে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। প্রশ্নোত্তর পর্বে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বক্তব্য দেওয়ার পরই হান্নান মাসউদকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তোলেন স্পিকার। স্পিকার বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আপনি কি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন? এই পর্যায়ে ফ্লোর ক্রসিং অনুমোদিত নয়।” তবে ঠিক কী কারণে তাকে এভাবে সতর্ক করা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ১১ দলীয় জোটের অন্য ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে রিটার্নি কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান এই সিদ্ধান্ত দেন। মঈন উদ্দীন খান জানান, মনিরা শারমিন মনোনয়নপত্রের রিটার্নিং দাখিলের নথিতে সরকারি পে-স্কেলে বেতন উত্তোলনের তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু বিস্তারিত তথ্য—কবে, কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন, এর কোনো তথ্য দেননি। তাই তাকে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। জানা গেছে, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল পদে নিয়োগ পান। নিয়োগের পর তিনি ১১ নভেম্বর প্রথমে ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখায় যোগ দেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়াম লীগ সরকারের পতনের পর বদলি হয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার করপোরেট কার্যালয়ে আসেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায়ই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় পড়েন। সর্বশেষ গত বছর ডিসেম্বরে কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছেড়েছেন মনিরা শারমিন। তার ফেসবুক প্রোফাইলে ১১ নভেম্বর ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের অফিসার হিসেবে চাকরি করার তথ্য আছে। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিরোধীদলীয় জোট আসন পাচ্ছে ১৩টি। এর মধ্যে জামায়াতের আটজন, এনসিপির দুজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে একজন, জাগপা থেকে একজন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শিশু জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম।
সংসদ সদস্যদের জন্য গাড়ির ব্যবস্থা নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ এ বিষয়ে অনুরোধ জানালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে এ আলোচনা হয়। হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ইউএনওদের গাড়ি থাকলেও সংসদ সদস্যদের অনেক সময় ভাড়ায় গাড়ি ব্যবহার করতে হয়, যা তাদের জন্য অস্বস্তিকর। তাই জনগণের কাছে সহজে পৌঁছাতে গাড়ির ব্যবস্থা করলে সুবিধা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরই নির্দেশ দিয়েছেন—সংসদ সদস্যরা অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা, বিশেষ করে শুল্কমুক্ত গাড়ি নেবেন না। তবে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা যেতে পারে বলেও তিনি জানান। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ছোটদের ‘না’ বলতে নেই”—ইঙ্গিত করে তিনি হাসনাতের প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য আধুনিক সুবিধাসহ ‘পরিদর্শন কক্ষ’ তৈরি করা হবে, যেখানে তারা দাপ্তরিক কাজ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। বিষয়টি নিয়ে সংসদের সরকারি ও বিরোধী—উভয় দলের সদস্যরাই ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানান।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫