পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। এই খাতে দেশটির উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখে অভিভূত হওয়ার পাশাপাশি নিজেকে গর্বিত মনে করছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। সোমবার (১১ মে) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত পাকিস্তান-বাংলাদেশ জ্ঞান বিনিময় করিডোর ও অ্যাডুকেশন এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমন মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এহসানুল হক মিলন বলেন, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি ৫৫ বছর, আর পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছে ৭০ বছর। স্টলগুলো ঘুরে আমার মনে হলো— সমগ্র পাকিস্তান ঘুরে এসেছি। তাদের শিক্ষায় যে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি। আমি গর্বিত মনে করছি যে তারা অনেক এগিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি তাদের স্বাগত জানাই, যে তারা বাংলাদেশে এসে আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীদের তাদের দেশে ফুল স্কলারশিপ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে গেছে এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল স্কলারশিপের সুযোগ তৈরি হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষা-ব্যবস্থা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অত্যন্ত চমৎকার। সেই জায়গায় আমাদের শিক্ষার্থীরা যাবে, এ জন্য আমি তাদেরকে আন্তরিকভাবে মোবারকবাদ জানাই। এহসানুল হক মিলন বলেন, আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কালচারের মিল রয়েছে। খাবার-ধর্মে মিল রয়েছে; অতএব আমাদের শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে সুন্দর থাকতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস রয়েছে। যে পরিমাণ স্কলারশিপ তারা দিচ্ছে—শিক্ষার্থীরা সেখানে সুন্দরভাবে লেখাপড়া করতে পারবে। মন্ত্রী বলেন, আমি বাংলাদেশি হিসেবে চাইবো আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এইভাবে উন্নতি সাধন করুক এবং বিদেশি শিক্ষার্থীরা আসুক আমাদের দেশে। এই গ্লোবাল ভিলেজে আমরা যেন সকলেই শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে পারি এবং এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারি। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশ সম্পদে ভরপুর। আমাদের এই তরুণরা রয়েছে ৬৫ শতাংশের বেশি। আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড তাদের পরিশোধ করতে হবে। অতএব, বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা অবদান রাখবো। এই অঙ্গীকার আজকে এখানে এসে আবারো করছি। এহসানুল হক মিলন বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যথাসাধ্য কাজ করছি। তবে, পাকিস্তানের উন্নয়ন দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। এবং আমি গর্বিত মনে করছি যে তারা অনেক এগিয়ে গিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, আমাদের যে শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানে যাবে, তারা সেখানে গিয়ে আমাদের মানসম্মান রক্ষা করবে এবং সুন্দরভাবে লেখাপড়া শেষ করে আসবে। সারা বিশ্বে শিক্ষার মানদণ্ডে তারা নিজেদের শীর্ষস্থান অধিকার করবে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হঠাৎ গণহারে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানি শ্রমিকদেরকে। এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সংকটের হুমকিতে পড়ে গেছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। মঙ্গলবার (১২ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে গিয়ে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বড় ধরনের কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তান। এই টানাপোড়েনের জেরেই মূলত পাকিস্তানিদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকেই এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ফলে পাকিস্তানের সাধারণ শ্রমিকরা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, যাদের আয়ের ওপর দেশে থাকা লক্ষাধিক মানুষ নির্ভরশীল। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির চেষ্টা করলেও আমিরাতের ওপর ইরানি হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান যথেষ্ট কঠোর ছিল না। যুদ্ধের শুরু থেকেই হাজার হাজার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে আমিরাত। মূলত, পাকিস্তানের এই নমনীয় অবস্থানেই ক্ষুব্ধ হয়েছে আবুধাবি। সম্প্রতি আমিরাতের বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত ২০ জনের বেশি পাকিস্তানি শিয়া কর্মীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। তারা সবাই জানিয়েছেন, গত এক মাসে তাদের হঠাৎ করে গ্রেপ্তার, আটক ও পরে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানের শিয়া ধর্মীয় নেতাদের দাবি, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার পাকিস্তানি শিয়া কর্মীকে আমিরাত থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে। পাকিস্তানে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ শিয়া মুসলিমের বসবাস, যাদের সঙ্গে ইরানের গভীর আধ্যাত্মিক যোগসূত্র রয়েছে। যদিও বিতাড়নের সুনির্দিষ্ট কারণ কোনও পক্ষই স্পষ্ট করেনি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি গণহারে বিতাড়নের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, যারা আমিরাতে অপরাধ করেছে কেবল তাদেরই ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে শিয়াদের আলাদা করে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে, আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ আমিরাতি-লেবানিজ ভাষ্যকার নাদিম কোটেইচ বলেন, আমিরাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত সমন্বয় না করেই পাকিস্তান এই শান্তি উদ্যোগ শুরু করেছিল। আমিরাতের ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা গেছে আর্থিক খাতেও। গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের কাছ থেকে তাদের ৩৫০ কোটি ডলারের ঋণ ফেরত চেয়েছে, যা পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। তবে, এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এগিয়ে এসে পাকিস্তানের রিজার্ভ সচল রাখতে ৩০০ কোটি ডলার জমা রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। আবুধাবিতে অবস্থিত আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাকাডেমির সিনিয়র ফেলো হুসেইন হাক্কানি বলেন, আমিরাত অবাক হয়েছে যে ইরান ইস্যুতে পাকিস্তান তাদের সমর্থন দেয়নি, আর পাকিস্তান অবাক হয়েছে এটা দেখে যে আমিরাত কেন অবাক হলো! উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ লাখের বেশি পাকিস্তানি বসবাস করেন, যারা গত বছর প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেন, আমিরাতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, এই যুদ্ধে পাকিস্তান আর কোন পথ বেছে নিতে পারত, তাও আমার জানা নেই। বিতাড়িত শ্রমিকদের অভিযোগ, কোনও ধরনের ব্যাখ্যা বা নিজেদের মালামাল গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২৫ বছর বয়সী আলী হামজা জানান, গত ১৩ এপ্রিল এক সাদাপোশাকের কর্মকর্তা তাকে অফিস থেকে তুলে নিয়ে আল-আউইর আটক কেন্দ্রে নিয়ে যান এবং ২১ এপ্রিল তাকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের শের কোট গ্রামের ট্যাক্সিচালক হায়দার আলী বঙ্গশ বলেন, তারা আমাদের কোনও কারণ বলেনি। কিন্তু আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমাদের একমাত্র অপরাধ আমরা শিয়া। দুবাইয়ের পাকিস্তানি কনস্যুলেট থেকে দেওয়া নথিতে বিতাড়নের কারণ হিসেবে ‘জেলে থাকা বা পলাতক’ লিখে দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্তত ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জানিয়েছেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানি কর্মীদের ভিসা নবায়ন করা বন্ধ করে দিয়েছে অথবা সরাসরি বিতাড়নের নির্দেশ দিচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে নতুন ভিসা ইস্যু করাও স্থগিত রাখা হয়েছে। আবুধাবিতে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, গত মাসে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার এক শিয়া পাকিস্তানি টেকনিশিয়ানকে আটক কেন্দ্রে নিয়ে যেতে বাধ্য করে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান এখন একদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অন্যদিকে সৌদি আরবের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দূরত্বের মাঝে আটকা পড়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে সম্প্রতি সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে বিভেদ বাড়ছে। এর মধ্যে পাকিস্তান গত বছর সৌদির সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, যেকোনও এক দেশে হামলা হলে তা অন্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আমিরাত মোটেও খুশি নয়।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। এমনকি রেজিম পরিবর্তনের পর থেকে এদেশের ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই আছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখানে রেজিম চেঞ্জ করেছে, তারাই এখন ক্ষমতায় রয়েছে; ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের ‘শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ’–শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে এ মন্তব্য করেন তিনি। ফরহাদ মজহার বলেন, শাপলা হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। হাসিনাহীন হাসিনা ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছি আমরা। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হাসিনাকে উৎখাত করেছি। কিন্তু, আমরা গাঠনিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি। যুক্তরাষ্ট্র এখানে রেজিম চেঞ্জ করেছে, তারাই এখন ক্ষমতায় রয়েছে, ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। এরপর তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে অনেক বড় বিপদ। বাইরে হিন্দুত্ববাদী বিপদ। আমাদের বিপ্লবী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সভায় বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, কিছুক্ষণ আগে একজন বক্তা বলেছেন, হেফাজতের ৫ মের আন্দোলনে বিএনপি ছিল। কিন্তু, সে সময় তাদের ভূমিকা কেমন ছিল, সেটি বিশ্লেষণের দাবি রাখে। রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। গুলির মুখে মাদরাসার ছাত্রদের ঠেলে দেওয়ার দায় রাজনৈতিক দলগুলোরও রয়েছে। কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, শাপলা চত্বর ছিল কালচার ফাইটের অংশ। এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর এই ফাইট জারি রাখতে হবে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, অন্য হত্যার সঙ্গে শাপলা গণহত্যার পার্থক্য রয়েছে। একটি জনগোষ্ঠীকে আলাদা করে হত্যা করা হয়েছে, সেটি যেন আমরা ভুলে না যাই। তাদের শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ও এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, সুনির্দিষ্ট অপরাধীদের আসামি করে মামলা করতে হবে। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে অনেক বছর পরেও এই বিচারের দাবি তুলতে হবে আমাদের। ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের (এনইউএ) আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, চিন্তক ও গবেষক মুসা আল হাফিজ, এনইউএ’র সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান প্রমুখ।
ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র তিনদিন আগে শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তা বাতিলে ঝুঁকি আছে বলে মনে করছে বর্তমান সরকার। এ অবস্থায় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে চাইছে তারা। মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে ৬০ দিনের নোটিশের মাধ্যমে তা বাতিলের সুযোগ থাকলেও সরকার আপাতত সেই পথে যাচ্ছে না। বরং আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞ মহলে চুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যা সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শুল্কসংক্রান্ত বিষয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সরকার চুক্তির প্রভাব, স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপট এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে মূল্যায়ন করবে। তিনি আরও জানান, কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। সরকার এমন কিছু ধারা শনাক্ত করতে চায়, যেগুলো দেশের স্বার্থের পরিপন্থি বা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনাও রয়েছে। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সব ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রকৃতি এক নয়। কিছু চুক্তি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হওয়ায় সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসা কখনো কখনো বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে সমঝোতা স্মারক বা অনুরূপ কাঠামোর চুক্তি তুলনামূলক সহজে পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব। তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে এমন অতীতের সব চুক্তি বা সমঝোতা মূল্যায়নের আওতায় আনবে সরকার। তবে, রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ক্ষমতা ছাড়ার মাত্র তিনদিন আগে শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বিতর্কিত বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তা বাতিলে ঝুঁকি আছে বলে মনে করছে বর্তমান সরকার। এ অবস্থায় চুক্তি পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে চাইছে তারা। মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য চুক্তিতে ৬০ দিনের নোটিশের মাধ্যমে তা বাতিলের সুযোগ থাকলেও সরকার আপাতত সেই পথে যাচ্ছে না। বরং আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির বিভিন্ন শর্ত পুনর্বিবেচনা ও সংশোধনের সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও বিশেষজ্ঞ মহলে চুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যা সরকার পর্যবেক্ষণ করছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শুল্কসংক্রান্ত বিষয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে সরকার চুক্তির প্রভাব, স্বাক্ষরের প্রেক্ষাপট এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বিবেচনায় রেখে ধাপে ধাপে মূল্যায়ন করবে। তিনি আরও জানান, কিছু ক্ষেত্রে চুক্তির নির্দিষ্ট শর্ত পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। সরকার এমন কিছু ধারা শনাক্ত করতে চায়, যেগুলো দেশের স্বার্থের পরিপন্থি বা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনাও রয়েছে। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, সব ধরনের আন্তর্জাতিক চুক্তির প্রকৃতি এক নয়। কিছু চুক্তি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হওয়ায় সেগুলো থেকে বেরিয়ে আসা কখনো কখনো বেশি ক্ষতির কারণ হতে পারে। অন্যদিকে সমঝোতা স্মারক বা অনুরূপ কাঠামোর চুক্তি তুলনামূলক সহজে পুনর্বিবেচনা করা সম্ভব। তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, জনগণের স্বার্থের পরিপন্থি হতে পারে এমন অতীতের সব চুক্তি বা সমঝোতা মূল্যায়নের আওতায় আনবে সরকার। তবে, রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পাকিস্তানের শিক্ষাব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। এই খাতে দেশটির উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখে অভিভূত হওয়ার পাশাপাশি নিজেকে গর্বিত মনে করছেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। সোমবার (১১ মে) রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত পাকিস্তান-বাংলাদেশ জ্ঞান বিনিময় করিডোর ও অ্যাডুকেশন এক্সপো ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমন মন্তব্য করেন মন্ত্রী। এহসানুল হক মিলন বলেন, আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি ৫৫ বছর, আর পাকিস্তান স্বাধীন হয়েছে ৭০ বছর। স্টলগুলো ঘুরে আমার মনে হলো— সমগ্র পাকিস্তান ঘুরে এসেছি। তাদের শিক্ষায় যে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটেছে, তাতে আমি সত্যিই অভিভূত হয়েছি। আমি গর্বিত মনে করছি যে তারা অনেক এগিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি তাদের স্বাগত জানাই, যে তারা বাংলাদেশে এসে আমাদের মেধাবী শিক্ষার্থীদের তাদের দেশে ফুল স্কলারশিপ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক মানে এগিয়ে গেছে এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল স্কলারশিপের সুযোগ তৈরি হওয়া অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। মন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শিক্ষা-ব্যবস্থা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অত্যন্ত চমৎকার। সেই জায়গায় আমাদের শিক্ষার্থীরা যাবে, এ জন্য আমি তাদেরকে আন্তরিকভাবে মোবারকবাদ জানাই। এহসানুল হক মিলন বলেন, আমাদের সঙ্গে পাকিস্তানের কালচারের মিল রয়েছে। খাবার-ধর্মে মিল রয়েছে; অতএব আমাদের শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়ে সুন্দর থাকতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস রয়েছে। যে পরিমাণ স্কলারশিপ তারা দিচ্ছে—শিক্ষার্থীরা সেখানে সুন্দরভাবে লেখাপড়া করতে পারবে। মন্ত্রী বলেন, আমি বাংলাদেশি হিসেবে চাইবো আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোও এইভাবে উন্নতি সাধন করুক এবং বিদেশি শিক্ষার্থীরা আসুক আমাদের দেশে। এই গ্লোবাল ভিলেজে আমরা যেন সকলেই শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে পারি এবং এই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারি। তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশ সম্পদে ভরপুর। আমাদের এই তরুণরা রয়েছে ৬৫ শতাংশের বেশি। আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড তাদের পরিশোধ করতে হবে। অতএব, বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা অবদান রাখবো। এই অঙ্গীকার আজকে এখানে এসে আবারো করছি। এহসানুল হক মিলন বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা যথাসাধ্য কাজ করছি। তবে, পাকিস্তানের উন্নয়ন দেখে আমি অভিভূত হয়েছি। এবং আমি গর্বিত মনে করছি যে তারা অনেক এগিয়ে গিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি, আমাদের যে শিক্ষার্থীরা পাকিস্তানে যাবে, তারা সেখানে গিয়ে আমাদের মানসম্মান রক্ষা করবে এবং সুন্দরভাবে লেখাপড়া শেষ করে আসবে। সারা বিশ্বে শিক্ষার মানদণ্ডে তারা নিজেদের শীর্ষস্থান অধিকার করবে।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। এমনকি রেজিম পরিবর্তনের পর থেকে এদেশের ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই আছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখানে রেজিম চেঞ্জ করেছে, তারাই এখন ক্ষমতায় রয়েছে; ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের ‘শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ’–শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে এ মন্তব্য করেন তিনি। ফরহাদ মজহার বলেন, শাপলা হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। হাসিনাহীন হাসিনা ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছি আমরা। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হাসিনাকে উৎখাত করেছি। কিন্তু, আমরা গাঠনিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি। যুক্তরাষ্ট্র এখানে রেজিম চেঞ্জ করেছে, তারাই এখন ক্ষমতায় রয়েছে, ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। এরপর তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে অনেক বড় বিপদ। বাইরে হিন্দুত্ববাদী বিপদ। আমাদের বিপ্লবী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সভায় বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, কিছুক্ষণ আগে একজন বক্তা বলেছেন, হেফাজতের ৫ মের আন্দোলনে বিএনপি ছিল। কিন্তু, সে সময় তাদের ভূমিকা কেমন ছিল, সেটি বিশ্লেষণের দাবি রাখে। রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। গুলির মুখে মাদরাসার ছাত্রদের ঠেলে দেওয়ার দায় রাজনৈতিক দলগুলোরও রয়েছে। কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, শাপলা চত্বর ছিল কালচার ফাইটের অংশ। এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর এই ফাইট জারি রাখতে হবে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, অন্য হত্যার সঙ্গে শাপলা গণহত্যার পার্থক্য রয়েছে। একটি জনগোষ্ঠীকে আলাদা করে হত্যা করা হয়েছে, সেটি যেন আমরা ভুলে না যাই। তাদের শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ও এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, সুনির্দিষ্ট অপরাধীদের আসামি করে মামলা করতে হবে। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে অনেক বছর পরেও এই বিচারের দাবি তুলতে হবে আমাদের। ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের (এনইউএ) আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, চিন্তক ও গবেষক মুসা আল হাফিজ, এনইউএ’র সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান প্রমুখ।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর পোস্ট করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন— সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন শিক্ষকদের চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১২ মে) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বিদ্যালয়-১) রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক পোস্ট দিচ্ছেন। তারা সরকার, সরকারি দপ্তর ও সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার ও আপত্তিকর পোস্ট করছেন। কেউ কেউ আবার এ ধরনের পোস্ট শেয়ারও করছেন। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আদেশে আরও বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯’ সব সরকারি কর্মচারীর জন্য প্রযোজ্য। এ নির্দেশিকা অমান্য করা সরকারি চাকরি বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একই সঙ্গে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী এটি অসদাচরণের পর্যায়ের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তি, অপপ্রচার বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন— এমন শিক্ষকদের জরুরি ভিত্তিতে চিহ্নিত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতেও বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে হঠাৎ গণহারে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে পাকিস্তানি শ্রমিকদেরকে। এ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কর্মসংস্থান সংকটের হুমকিতে পড়ে গেছে পাকিস্তানের অর্থনীতি। মঙ্গলবার (১২ মে) মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে গিয়ে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বড় ধরনের কূটনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তান। এই টানাপোড়েনের জেরেই মূলত পাকিস্তানিদের জন্য শ্রমবাজার বন্ধ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে আমিরাত কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর থেকেই এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর ফলে পাকিস্তানের সাধারণ শ্রমিকরা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন, যাদের আয়ের ওপর দেশে থাকা লক্ষাধিক মানুষ নির্ভরশীল। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তির চেষ্টা করলেও আমিরাতের ওপর ইরানি হামলার বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান যথেষ্ট কঠোর ছিল না। যুদ্ধের শুরু থেকেই হাজার হাজার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে আমিরাত। মূলত, পাকিস্তানের এই নমনীয় অবস্থানেই ক্ষুব্ধ হয়েছে আবুধাবি। সম্প্রতি আমিরাতের বিভিন্ন কোম্পানিতে কর্মরত ২০ জনের বেশি পাকিস্তানি শিয়া কর্মীর সাক্ষাৎকার নিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। তারা সবাই জানিয়েছেন, গত এক মাসে তাদের হঠাৎ করে গ্রেপ্তার, আটক ও পরে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পাকিস্তানের শিয়া ধর্মীয় নেতাদের দাবি, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার পাকিস্তানি শিয়া কর্মীকে আমিরাত থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে। পাকিস্তানে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ শিয়া মুসলিমের বসবাস, যাদের সঙ্গে ইরানের গভীর আধ্যাত্মিক যোগসূত্র রয়েছে। যদিও বিতাড়নের সুনির্দিষ্ট কারণ কোনও পক্ষই স্পষ্ট করেনি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি গণহারে বিতাড়নের বিষয়টি অস্বীকার করে দাবি করেছেন, যারা আমিরাতে অপরাধ করেছে কেবল তাদেরই ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তবে শিয়াদের আলাদা করে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি। অন্যদিকে, আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ আমিরাতি-লেবানিজ ভাষ্যকার নাদিম কোটেইচ বলেন, আমিরাতের সঙ্গে পর্যাপ্ত সমন্বয় না করেই পাকিস্তান এই শান্তি উদ্যোগ শুরু করেছিল। আমিরাতের ক্ষোভের প্রতিফলন দেখা গেছে আর্থিক খাতেও। গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানের কাছ থেকে তাদের ৩৫০ কোটি ডলারের ঋণ ফেরত চেয়েছে, যা পাকিস্তানের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। তবে, এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরব এগিয়ে এসে পাকিস্তানের রিজার্ভ সচল রাখতে ৩০০ কোটি ডলার জমা রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। আবুধাবিতে অবস্থিত আনোয়ার গারগাশ ডিপ্লোম্যাটিক অ্যাকাডেমির সিনিয়র ফেলো হুসেইন হাক্কানি বলেন, আমিরাত অবাক হয়েছে যে ইরান ইস্যুতে পাকিস্তান তাদের সমর্থন দেয়নি, আর পাকিস্তান অবাক হয়েছে এটা দেখে যে আমিরাত কেন অবাক হলো! উল্লেখ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০ লাখের বেশি পাকিস্তানি বসবাস করেন, যারা গত বছর প্রায় ৮০০ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন। পাকিস্তানের সাবেক অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল বলেন, আমিরাতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু, এই যুদ্ধে পাকিস্তান আর কোন পথ বেছে নিতে পারত, তাও আমার জানা নেই। বিতাড়িত শ্রমিকদের অভিযোগ, কোনও ধরনের ব্যাখ্যা বা নিজেদের মালামাল গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২৫ বছর বয়সী আলী হামজা জানান, গত ১৩ এপ্রিল এক সাদাপোশাকের কর্মকর্তা তাকে অফিস থেকে তুলে নিয়ে আল-আউইর আটক কেন্দ্রে নিয়ে যান এবং ২১ এপ্রিল তাকে পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের শের কোট গ্রামের ট্যাক্সিচালক হায়দার আলী বঙ্গশ বলেন, তারা আমাদের কোনও কারণ বলেনি। কিন্তু আমরা বুঝতে পেরেছি যে, আমাদের একমাত্র অপরাধ আমরা শিয়া। দুবাইয়ের পাকিস্তানি কনস্যুলেট থেকে দেওয়া নথিতে বিতাড়নের কারণ হিসেবে ‘জেলে থাকা বা পলাতক’ লিখে দেওয়া হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্তত ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জানিয়েছেন, অভিবাসন কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানি কর্মীদের ভিসা নবায়ন করা বন্ধ করে দিয়েছে অথবা সরাসরি বিতাড়নের নির্দেশ দিচ্ছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে নতুন ভিসা ইস্যু করাও স্থগিত রাখা হয়েছে। আবুধাবিতে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, গত মাসে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তার এক শিয়া পাকিস্তানি টেকনিশিয়ানকে আটক কেন্দ্রে নিয়ে যেতে বাধ্য করে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাকিস্তান এখন একদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অন্যদিকে সৌদি আরবের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দূরত্বের মাঝে আটকা পড়েছে। ইয়েমেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ইস্যুতে সম্প্রতি সৌদি ও আমিরাতের মধ্যে বিভেদ বাড়ছে। এর মধ্যে পাকিস্তান গত বছর সৌদির সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে, যেখানে বলা হয়েছে, যেকোনও এক দেশে হামলা হলে তা অন্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, পাকিস্তান সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখা এবং একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তাতে আমিরাত মোটেও খুশি নয়।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সারা দেশে মার্কেট, বিপণি বিতান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধের বাধ্যবাধকতা জারি করেছিল সরকার। তবে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ মে) থেকে কার্যকর এই নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঈদের দিন পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এদিন বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সরকার দোকানপাট খোলার রাখার সময় বর্ধিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় মার্কেট, বিপণিবিতান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, আমাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতিকে অবহিত করেন যে, ১২ মে থেকে ঈদুল আজহা পর্যন্ত মার্কেট, বিপণি বিতান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সময় বর্ধিত করা হয়েছে। তবে, কোনো আলোকসজ্জা ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে না বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায় দোকান মালিক সমিতি।
২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। এমনকি রেজিম পরিবর্তনের পর থেকে এদেশের ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই আছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখানে রেজিম চেঞ্জ করেছে, তারাই এখন ক্ষমতায় রয়েছে; ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। মঙ্গলবার (১২ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে এনসিপি সমর্থিত সংগঠন ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের ‘শাপলা গণহত্যা; বিচারহীনতার এক যুগ’–শীর্ষক আলোচনা সভা ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনীতে এ মন্তব্য করেন তিনি। ফরহাদ মজহার বলেন, শাপলা হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। হাসিনাহীন হাসিনা ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখেছি আমরা। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে হাসিনাকে উৎখাত করেছি। কিন্তু, আমরা গাঠনিক ক্ষমতা অর্জন করতে পারিনি। যুক্তরাষ্ট্র এখানে রেজিম চেঞ্জ করেছে, তারাই এখন ক্ষমতায় রয়েছে, ক্ষমতা আমাদের হাতে নেই। এরপর তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে অনেক বড় বিপদ। বাইরে হিন্দুত্ববাদী বিপদ। আমাদের বিপ্লবী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সভায় বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, কিছুক্ষণ আগে একজন বক্তা বলেছেন, হেফাজতের ৫ মের আন্দোলনে বিএনপি ছিল। কিন্তু, সে সময় তাদের ভূমিকা কেমন ছিল, সেটি বিশ্লেষণের দাবি রাখে। রাজনৈতিক দলগুলো অনেক সময় আলেম-ওলামা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করেছে। গুলির মুখে মাদরাসার ছাত্রদের ঠেলে দেওয়ার দায় রাজনৈতিক দলগুলোরও রয়েছে। কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মুজাহিদ বলেন, শাপলা চত্বর ছিল কালচার ফাইটের অংশ। এই অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর এই ফাইট জারি রাখতে হবে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, অন্য হত্যার সঙ্গে শাপলা গণহত্যার পার্থক্য রয়েছে। একটি জনগোষ্ঠীকে আলাদা করে হত্যা করা হয়েছে, সেটি যেন আমরা ভুলে না যাই। তাদের শহীদ হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ও এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, সুনির্দিষ্ট অপরাধীদের আসামি করে মামলা করতে হবে। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে অনেক বছর পরেও এই বিচারের দাবি তুলতে হবে আমাদের। ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের (এনইউএ) আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, চিন্তক ও গবেষক মুসা আল হাফিজ, এনইউএ’র সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান প্রমুখ।
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান। মঙ্গলবার (০৪ মে) রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নাদিমুর রহমানের যোগদানের ঘোষণা দেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এদিন ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এমএইচ আরিফসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এনসিপিতে যোগ দেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’-এর নেতারাও দলটিতে শামিল হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মো. সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান জিসান এবং সহ-সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম গাজী। সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়াও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্য নেতারা। এ সময় যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপির বর্তমান রাজনীতিতে অসন্তোষ বাড়ছে, যা তাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যেও প্রতিফলিত হচ্ছে। বিএনপির অনেক বড় নেতার সন্তানরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এমনকি স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সন্তানরাও জানাচ্ছেন, তাদের কাছে বর্তমান রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে তাদের কাউকে কাউকে এনসিপিতে দেখা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ করেনি। এতে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। অতীতে যারা এমন প্রতারণা করেছে, তারা টিকতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা চলছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান তিনি। আসিফ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে উগ্রপন্থিদের উত্থান ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শঙ্কা তৈরি করতে পারে। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান তিনি।
‘আমরা হাওয়ার সঙ্গে নয় রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি’ বলে মন্তব্য করেছেন ভোলা-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা যাবে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যখন বলতে হবে, তখন কার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি? হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছে মুক্তিবাহিনী? আমরা রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। পার্থ বলেন, আওয়ামী লীগ ফিরে আসা নিয়ে আমি একটা পরিস্কার কথা বলে দিতে চাই, জুলাইকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই। জুলাইকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই এবং এই বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই। এদিন দুপুরে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নিয়ে বক্তব্যে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধীদলের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সংসদে জামায়াত আমির ডা.শফিকুর রহমান ফজলুর রহমানের উদ্দেশ্যে বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সবকিছুই বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের উপরে হাতুড়ি পিটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন। তিনি বলেন, কোন মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামাতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে উনাকে জিজ্ঞেস করে করা লাগবে। এরপর জামায়াত আমির বলেন, এটি আমার নাগরিক অধিকার। আমি কোন দল করব? আদর্শ আমি অনুসরণ করব। এর উপর হস্তক্ষেপ করার নূন্যতম কোন অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধানে কাউকে দেয়নি। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে এটা গুরুতর অপরাধ করেছেন উনি। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন। এটা তিনি বাড়তি অপরাধ করেছেন।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ–কে ফ্লোর ক্রসিং ইস্যুতে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। প্রশ্নোত্তর পর্বে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বক্তব্য দেওয়ার পরই হান্নান মাসউদকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তোলেন স্পিকার। স্পিকার বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আপনি কি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন? এই পর্যায়ে ফ্লোর ক্রসিং অনুমোদিত নয়।” তবে ঠিক কী কারণে তাকে এভাবে সতর্ক করা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫