ইসলামের আইন ও জীবনব্যবস্থা এক অনন্য প্রজ্ঞার ধারায় বিকশিত হয়েছে, যেখানে মানবসমাজের বাস্তবতা, নৈতিক পরিপক্বতা এবং আল্লাহপ্রদত্ত নির্দেশনা ধাপে ধাপে পূর্ণতা পেয়েছে। এই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘মুতা বিবাহ’। ইসলামের শুরুর সময়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রেক্ষাপটে এটি সীমিতভাবে অনুমোদিত থাকলেও পরবর্তীতে তা স্পষ্টভাবে ও স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। জাহেলিয়াতের যুগে বিবাহ ও সম্পর্কের কোনো সুসংগঠিত কাঠামো ছিল না; নৈতিক বিশৃঙ্খলাই ছিল স্বাভাবিক চিত্র। ইসলাম সেই বাস্তবতাকে হঠাৎ ভেঙে না দিয়ে ধীরে ধীরে একটি সুশৃঙ্খল, মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পারিবারিক ব্যবস্থার দিকে পরিচালিত করে। সে প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সফর, যুদ্ধাবস্থা বা সামাজিক সীমাবদ্ধতার সময় মুতা বিবাহ একটি অস্থায়ী সমাধান হিসেবে অনুমোদিত ছিল—চূড়ান্ত বিধান হিসেবে নয়। পরবর্তীতে যখন ইসলামী বিধান পূর্ণতা লাভ করে, তখন এই সাময়িক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আর থাকে না। বরং এটি স্থায়ী বিবাহব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। ফলে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই এটিকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। মুতা বিবাহ কী? মুতা বিবাহ (نكاح المتعة) হলো নির্দিষ্ট সময় ও মোহরের বিনিময়ে সম্পাদিত একটি অস্থায়ী বিয়ে, যার মেয়াদ শেষে সম্পর্কটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়। ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে এর অনুমতি থাকলেও পরে তা চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, সাহাবি সাবরা আল-জুহানী (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে মুতা অনুমোদন করেছিলেন, পরে তা নিষিদ্ধ করেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, “আমি তোমাদের মুতা করার অনুমতি দিয়েছিলাম, এখন আল্লাহ তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম করে দিয়েছেন।” — যা এ বিষয়ে ইসলামের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করে। ফিকহশাস্ত্রের চার মাযহাবের ইমামগণও এ বিষয়ে একমত। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল—সকলেই মুতা বিবাহকে অবৈধ ও হারাম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর সময় এ নিষেধাজ্ঞা প্রশাসনিকভাবে আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। তিনি ঘোষণা করেন, রাসুল (সা.)-এর যুগে প্রচলিত দুটি মুতা তিনি নিষিদ্ধ করছেন এবং এ বিষয়ে শাস্তির ব্যবস্থাও করবেন। আলেমদের মতে, এটি নতুন কোনো বিধান নয়; বরং নববী নির্দেশনার কার্যকর প্রয়োগ। কেন মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ হলো? ইসলামে বিবাহ কেবল সাময়িক চাহিদা পূরণের মাধ্যম নয়; এটি একটি স্থায়ী, দায়িত্বশীল ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক। এর মাধ্যমে পরিবার গড়ে ওঠে, বংশধারা সংরক্ষিত হয় এবং নারী-পুরুষ উভয়ের অধিকার নিশ্চিত হয়। মুতা বিবাহ এই স্থিতিশীল কাঠামোর বিপরীতে একটি অস্থায়ী ও অনিশ্চিত সম্পর্ক তৈরি করে, যা ইসলামের সামগ্রিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই চূড়ান্তভাবে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমান সময়ে কিছু ক্ষেত্রে মুতা বিবাহকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা দেখা গেলেও তা মূলত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে শরীয়তের চূড়ান্ত বিধান থেকে বিচ্যুতি। ইসলামের শিক্ষা স্পষ্ট—যা রহিত হয়েছে, তা আর অনুসরণযোগ্য নয়। সার্বিকভাবে, মুতা বিবাহ ইসলামের আইনগত বিবর্তনের একটি উদাহরণ, যা দেখায়—ইসলাম ধাপে ধাপে মানবসমাজকে একটি পরিপূর্ণ, নৈতিক ও সুশৃঙ্খল জীবনের দিকে পরিচালিত করেছে। আজ এটি ইতিহাসের অংশ, শিক্ষা নেওয়ার বিষয়—অনুসরণের নয়।
সারাদেশে আজ থেকে একযোগে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভির পাশাপাশি সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক জরুরি চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, অনেক কেন্দ্রে সিসিটিভির সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটরিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই কেন্দ্রগুলোর DVR/NVR-এ সবসময় ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখতে বলা হয়েছে। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। এবার সারা দেশে সাড়ে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। প্রথম দিনে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদরাসা বোর্ডে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি বোর্ডে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১৪ লাখের বেশি, মাদরাসায় ৩ লাখের বেশি এবং কারিগরি বোর্ডে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। সারাদেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশ নিচ্ছে ৩০ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, সুষ্ঠু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভিজিল্যান্স টিমসহ সংশ্লিষ্টরা মাঠপর্যায়ে সতর্ক রয়েছেন এবং কোনো ধরনের অসদুপায় বরদাশত করা হবে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একক প্রার্থী হওয়ায় তার সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়া প্রায় নিশ্চিত। ছয় বছর বয়সী জাবির ইব্রাহিম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। সে উত্তরার কেসি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারির শিক্ষার্থী ছিল। সেদিন বাবার সঙ্গে মিছিলে গিয়ে প্রাণ হারায় সে। রোকেয়া বেগম একজন গৃহিণী। তার তিন সন্তানের মধ্যে জাবির ছিল সবার ছোট। তার স্বামী কবির হোসাইন একটি বেসরকারি মোবাইল রিটেইল প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। জানা যায়, জাবির মিছিলে অংশ নিতে আগ্রহী ছিল এবং সেদিন পরিবারের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেয়। শেখ হাসিনার পতনের পর বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে মায়ের হাত ধরে থাকা অবস্থায় আহত হয় সে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে জামায়াত জোট মোট ১৩টি আসন পাচ্ছে। এর মধ্যে দলটি নিজে ১২টি পাওয়ার কথা থাকলেও জোটের শরিকদের মধ্যে কিছু আসন ছেড়ে দিয়েছে। একটি আসনে নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ ১৩ জন নারী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ ও শামছুন্নাহার নাহার। এছাড়া জোটের অংশ হিসেবে এনসিপি থেকেও দুইজন নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন—মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম মিতু। জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিমও জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন। জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিনিময়ে এসব মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনও যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন এবং ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে তিনি কোনো সফর শুরু করেননি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার অনিশ্চয়তার কারণেই তার সফর আপাতত স্থগিত রয়েছে। একই সূত্র আরও জানায়, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধিদলই পাকিস্তানের রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়নি। অন্যদিকে, ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, তেহরান শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে, তবে এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আরেক মার্কিন সূত্রের দাবি, প্রতিনিধিদল এখনো যাত্রা না করলেও খুব শিগগিরই ইসলামাবাদ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্য ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেই বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেই জানা গেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) ভ্যান্স প্রায় ২১ ঘণ্টা ইসলামাবাদে অবস্থান করলেও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। ওই আলোচনার ব্যর্থতার দায় নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করে—আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখায়নি। বর্তমানে ইরান পরবর্তী বৈঠকে বসতে অনাগ্রহী থাকলেও সম্ভাব্য মার্কিন সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদে এ সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্যারেড কুশনার ও জেডি ভ্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে, ট্রাম্প প্রশাসন এই সংকটের সমাধানে যথেষ্ট আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ইরান আবার আলোচনার টেবিলে ফেরে কি না।
সারাদেশে আজ থেকে একযোগে শুরু হচ্ছে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা। পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভির পাশাপাশি সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড। সোমবার (২০ এপ্রিল) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের এক জরুরি চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, অনেক কেন্দ্রে সিসিটিভির সঙ্গে ইন্টারনেট সংযোগ না থাকায় কন্ট্রোল রুম থেকে মনিটরিং কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই কেন্দ্রগুলোর DVR/NVR-এ সবসময় ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখতে বলা হয়েছে। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে পরীক্ষা শুরু হয়ে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। এবার সারা দেশে সাড়ে ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। প্রথম দিনে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র, মাদরাসা বোর্ডে কোরআন মাজিদ ও তাজভিদ এবং কারিগরি বোর্ডে বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, এবার মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ১৪ লাখের বেশি, মাদরাসায় ৩ লাখের বেশি এবং কারিগরি বোর্ডে প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার শিক্ষার্থী রয়েছে। সারাদেশে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অংশ নিচ্ছে ৩০ হাজারেরও বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, সুষ্ঠু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভিজিল্যান্স টিমসহ সংশ্লিষ্টরা মাঠপর্যায়ে সতর্ক রয়েছেন এবং কোনো ধরনের অসদুপায় বরদাশত করা হবে না।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে ও পারমাণবিক ইস্যুতে আজকেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ‘আজই’ ইরানের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ফক্স নিউজের প্রতিবেদক মারিয়া বার্টিরোমোকে এ কথা বলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঠিক কোন সময়সীমার কথা বলছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না। কারণ বার্টিরোমোর সঙ্গে ফোনকলটি কখন হয়েছিল, সেটিও পরিষ্কার নয়। এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আলোচনার জন্য ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও মার্কিন প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। তারও আগে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত না হলে তিনি ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতু উড়িয়ে দেবেন। ইরান এই দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেনি কিংবা ইসলামাবাদে প্রতিনিধিদল পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্তও ঘোষণা করেনি। তবে, পাকিস্তানি সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, তেহরান ‘দ্বিতীয় দফা বৈঠকের জন্য ইচ্ছুক’। কিন্তু এ বিষয়ে ‘এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি’। ট্রাম্প রোববার ঘোষণা করেছেন, জেডি ভ্যান্স, দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারসহ মার্কিন প্রতিনিধিরা নতুন দফা আলোচনার জন্য ইসলামাবাদ সফর করবেন। ১৯৭৯ সালে দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর প্রথম সরাসরি উচ্চ-পর্যায়ের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক হয় ১১-১২ এপ্রিল। পাকিস্তান এই সংলাপের আয়োজন করেছিল। কিন্তু সেই আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একক প্রার্থী হওয়ায় তার সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়া প্রায় নিশ্চিত। ছয় বছর বয়সী জাবির ইব্রাহিম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। সে উত্তরার কেসি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারির শিক্ষার্থী ছিল। সেদিন বাবার সঙ্গে মিছিলে গিয়ে প্রাণ হারায় সে। রোকেয়া বেগম একজন গৃহিণী। তার তিন সন্তানের মধ্যে জাবির ছিল সবার ছোট। তার স্বামী কবির হোসাইন একটি বেসরকারি মোবাইল রিটেইল প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। জানা যায়, জাবির মিছিলে অংশ নিতে আগ্রহী ছিল এবং সেদিন পরিবারের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেয়। শেখ হাসিনার পতনের পর বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে মায়ের হাত ধরে থাকা অবস্থায় আহত হয় সে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে জামায়াত জোট মোট ১৩টি আসন পাচ্ছে। এর মধ্যে দলটি নিজে ১২টি পাওয়ার কথা থাকলেও জোটের শরিকদের মধ্যে কিছু আসন ছেড়ে দিয়েছে। একটি আসনে নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ ১৩ জন নারী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ ও শামছুন্নাহার নাহার। এছাড়া জোটের অংশ হিসেবে এনসিপি থেকেও দুইজন নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন—মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম মিতু। জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিমও জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন। জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিনিময়ে এসব মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের তীর্থস্থান ঋষিকেশে সানিউর রহমান নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনে সক্রিয় থাকা এই ব্লগার দীর্ঘদিন ধরে সাধুর পরিচয় নিয়ে অবৈধভাবে বসবাস করছিলেন দেশটিতে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঋষিকেশের লক্ষ্মণ ঝুলা এলাকার পুলিশ সানিউর রহমান নামে ওই ব্যক্তিকে আটক করে। তিনি নিজেকে ‘সত্যনিষ্ঠা আর্য’ বলে পরিচয় দিতেন এবং ধর্মীয় বক্তৃতার মাধ্যমে ভক্তদের প্রভাবিত করতেন। রাজ্য সরকারের বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন কালনামী’-র অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তদন্তে জানা যায়, এই সানিউর রহমান ওরফে সত্যসাধু বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি ২০১৬ সালে নেপাল হয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন এবং তখন থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে বসবাস করছিলেন। পরিচয় লুকাতে তিনি নাম বদলে ‘সত্যনিষ্ঠা আর্য’ রাখেন এবং একটি ভুয়া আধার কার্ড তৈরি করেন। জানা যায়, তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় ও দার্শনিক বক্তৃতা দিতেন। ঋষিকেশ ও লক্ষ্মণ ঝুলা এলাকায় তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল এবং অনেকের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। সম্প্রতি তিনি লক্ষ্মণ ঝুলার একটি আশ্রমে যান। সেখানে নিয়মিত পুলিশ চেকিংয়ের সময় তাকে সন্দেহজনক মনে হয়। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ বেশ কিছু আপত্তিকর নথি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধি ও বিদেশি আইন ২০২৫-এর প্রাসঙ্গিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে। তার কার্যক্রম ও যোগাযোগের বিস্তার জানতে তদন্ত চলছে। সানিউর রহমান ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনে সক্রিয় একজন ব্লগার ছিলেন। তবে, ২০১৬ সালের দিকে তিনি ভারতে পাড়ি জমান। সেখানে পরিচয় বদলে উগ্র হিন্দুত্ববাদীতে পরিণত হন। গত বছর বড়দিনের সময় স্থানীয় একটি চার্চে গিয়ে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের উৎসবে বাধা দিয়ে আলোচনায় আসেন তিনি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এখনও যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করছেন এবং ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে তিনি কোনো সফর শুরু করেননি। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনার অনিশ্চয়তার কারণেই তার সফর আপাতত স্থগিত রয়েছে। একই সূত্র আরও জানায়, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিনিধিদলই পাকিস্তানের রাজধানীর উদ্দেশ্যে রওনা দেয়নি। অন্যদিকে, ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, তেহরান শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে, তবে এ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আরেক মার্কিন সূত্রের দাবি, প্রতিনিধিদল এখনো যাত্রা না করলেও খুব শিগগিরই ইসলামাবাদ সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার ইতোমধ্যেই আলোচনার জন্য ইসলামাবাদের পথে রয়েছেন। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সেই বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেই জানা গেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) ভ্যান্স প্রায় ২১ ঘণ্টা ইসলামাবাদে অবস্থান করলেও ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। ওই আলোচনার ব্যর্থতার দায় নিয়ে দুই পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, ইরান অভিযোগ করে—আলোচনার পরিবেশ তৈরিতে যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট আন্তরিকতা দেখায়নি। বর্তমানে ইরান পরবর্তী বৈঠকে বসতে অনাগ্রহী থাকলেও সম্ভাব্য মার্কিন সফর ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ইসলামাবাদে এ সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্যারেড কুশনার ও জেডি ভ্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করে, ট্রাম্প প্রশাসন এই সংকটের সমাধানে যথেষ্ট আগ্রহী। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ইরান আবার আলোচনার টেবিলে ফেরে কি না।
ইসলামের আইন ও জীবনব্যবস্থা এক অনন্য প্রজ্ঞার ধারায় বিকশিত হয়েছে, যেখানে মানবসমাজের বাস্তবতা, নৈতিক পরিপক্বতা এবং আল্লাহপ্রদত্ত নির্দেশনা ধাপে ধাপে পূর্ণতা পেয়েছে। এই ধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ‘মুতা বিবাহ’। ইসলামের শুরুর সময়ে নির্দিষ্ট কিছু প্রেক্ষাপটে এটি সীমিতভাবে অনুমোদিত থাকলেও পরবর্তীতে তা স্পষ্টভাবে ও স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। জাহেলিয়াতের যুগে বিবাহ ও সম্পর্কের কোনো সুসংগঠিত কাঠামো ছিল না; নৈতিক বিশৃঙ্খলাই ছিল স্বাভাবিক চিত্র। ইসলাম সেই বাস্তবতাকে হঠাৎ ভেঙে না দিয়ে ধীরে ধীরে একটি সুশৃঙ্খল, মর্যাদাপূর্ণ ও দায়িত্বশীল পারিবারিক ব্যবস্থার দিকে পরিচালিত করে। সে প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ সফর, যুদ্ধাবস্থা বা সামাজিক সীমাবদ্ধতার সময় মুতা বিবাহ একটি অস্থায়ী সমাধান হিসেবে অনুমোদিত ছিল—চূড়ান্ত বিধান হিসেবে নয়। পরবর্তীতে যখন ইসলামী বিধান পূর্ণতা লাভ করে, তখন এই সাময়িক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা আর থাকে না। বরং এটি স্থায়ী বিবাহব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে। ফলে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই এটিকে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। মুতা বিবাহ কী? মুতা বিবাহ (نكاح المتعة) হলো নির্দিষ্ট সময় ও মোহরের বিনিময়ে সম্পাদিত একটি অস্থায়ী বিয়ে, যার মেয়াদ শেষে সম্পর্কটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায়। ইসলামের প্রাথমিক পর্যায়ে এর অনুমতি থাকলেও পরে তা চিরতরে নিষিদ্ধ করা হয়। সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আছে, সাহাবি সাবরা আল-জুহানী (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমে মুতা অনুমোদন করেছিলেন, পরে তা নিষিদ্ধ করেন। অন্য বর্ণনায় এসেছে, “আমি তোমাদের মুতা করার অনুমতি দিয়েছিলাম, এখন আল্লাহ তা কিয়ামত পর্যন্ত হারাম করে দিয়েছেন।” — যা এ বিষয়ে ইসলামের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করে। ফিকহশাস্ত্রের চার মাযহাবের ইমামগণও এ বিষয়ে একমত। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল—সকলেই মুতা বিবাহকে অবৈধ ও হারাম হিসেবে ঘোষণা করেছেন। খলিফা হযরত উমর (রা.)-এর সময় এ নিষেধাজ্ঞা প্রশাসনিকভাবে আরও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। তিনি ঘোষণা করেন, রাসুল (সা.)-এর যুগে প্রচলিত দুটি মুতা তিনি নিষিদ্ধ করছেন এবং এ বিষয়ে শাস্তির ব্যবস্থাও করবেন। আলেমদের মতে, এটি নতুন কোনো বিধান নয়; বরং নববী নির্দেশনার কার্যকর প্রয়োগ। কেন মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ হলো? ইসলামে বিবাহ কেবল সাময়িক চাহিদা পূরণের মাধ্যম নয়; এটি একটি স্থায়ী, দায়িত্বশীল ও মর্যাদাপূর্ণ সম্পর্ক। এর মাধ্যমে পরিবার গড়ে ওঠে, বংশধারা সংরক্ষিত হয় এবং নারী-পুরুষ উভয়ের অধিকার নিশ্চিত হয়। মুতা বিবাহ এই স্থিতিশীল কাঠামোর বিপরীতে একটি অস্থায়ী ও অনিশ্চিত সম্পর্ক তৈরি করে, যা ইসলামের সামগ্রিক উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই চূড়ান্তভাবে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। বর্তমান সময়ে কিছু ক্ষেত্রে মুতা বিবাহকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা দেখা গেলেও তা মূলত ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে শরীয়তের চূড়ান্ত বিধান থেকে বিচ্যুতি। ইসলামের শিক্ষা স্পষ্ট—যা রহিত হয়েছে, তা আর অনুসরণযোগ্য নয়। সার্বিকভাবে, মুতা বিবাহ ইসলামের আইনগত বিবর্তনের একটি উদাহরণ, যা দেখায়—ইসলাম ধাপে ধাপে মানবসমাজকে একটি পরিপূর্ণ, নৈতিক ও সুশৃঙ্খল জীবনের দিকে পরিচালিত করেছে। আজ এটি ইতিহাসের অংশ, শিক্ষা নেওয়ার বিষয়—অনুসরণের নয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া শিশু জাবির ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগমকে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। একক প্রার্থী হওয়ায় তার সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়া প্রায় নিশ্চিত। ছয় বছর বয়সী জাবির ইব্রাহিম ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট উত্তরায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। সে উত্তরার কেসি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের নার্সারির শিক্ষার্থী ছিল। সেদিন বাবার সঙ্গে মিছিলে গিয়ে প্রাণ হারায় সে। রোকেয়া বেগম একজন গৃহিণী। তার তিন সন্তানের মধ্যে জাবির ছিল সবার ছোট। তার স্বামী কবির হোসাইন একটি বেসরকারি মোবাইল রিটেইল প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। জানা যায়, জাবির মিছিলে অংশ নিতে আগ্রহী ছিল এবং সেদিন পরিবারের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেয়। শেখ হাসিনার পতনের পর বিজয় মিছিলে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের গুলিতে মায়ের হাত ধরে থাকা অবস্থায় আহত হয় সে। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টনে জামায়াত জোট মোট ১৩টি আসন পাচ্ছে। এর মধ্যে দলটি নিজে ১২টি পাওয়ার কথা থাকলেও জোটের শরিকদের মধ্যে কিছু আসন ছেড়ে দিয়েছে। একটি আসনে নারী অধিকার আন্দোলনের নেত্রী প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় জামায়াত কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ ১৩ জন নারী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন। মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, মারজিয়া বেগম, সাবিকুন নাহার মুন্নি, নাজমুন নাহার নীলু, মাহফুজা সিদ্দিকা, সাজেদা সামাদ ও শামছুন্নাহার নাহার। এছাড়া জোটের অংশ হিসেবে এনসিপি থেকেও দুইজন নারী প্রার্থী মনোনয়ন পেয়েছেন—মনিরা শারমিন ও মাহমুদা আলম মিতু। জাগপার চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সদস্য প্রকৌশলী মাহবুবা হাকিমও জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন। জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে বিভিন্ন দল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর বিনিময়ে এসব মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার কার্যক্রম শেষ হয়েছে। সাক্ষাৎকার শেষে গভীর রাতেও রাজধানীর গুলশানে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাত ২টা ৫৫ মিনিটে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, কার্যালয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিনিয়র নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ গুলশান কার্যালয়ের কর্মকর্তারাও সেখানে অবস্থান করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকাল থেকে শুরু হওয়া সাক্ষাৎকারে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা অংশ নেন। সাক্ষাৎকার শেষে বর্তমানে দলীয় ও দাপ্তরিক বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছেন তারেক রহমান।
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় পরিবর্তন এলেও বাস্তবে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে শুধু আওয়ামী লীগের জায়গায় বিএনপি সরকার এসেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর রূপায়ন টাওয়ারে এনসিপির কার্যালয়ে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, দেশ আবারও আগের ব্যবস্থায় ফিরে যাচ্ছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা দেশটাকে আগের কোনো বন্দোবস্তে ফেরত যেতে দিতে পারি না। এখন প্রায় আগের মতোই দেশ পরিচালিত হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, ঐক্যমত কমিশনে যে সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং গণভোটের মাধ্যমে যে পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা নষ্ট করে দিচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আপ বাংলাদেশ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাসহ মোট ৪৭ জন এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। এ সময় তাদের নামও ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কারও অতীত পরিচয় মুখ্য নয়, এনসিপিতে যোগ দেওয়ার পর সবাই দলের কর্মী হিসেবে বিবেচিত হবেন। তবে চাঁদাবাজ, অপরাধী এবং আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দলে নেওয়া হবে না।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অতীতে কেউ ছাত্রদল, ছাত্রশিবির বা ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তা এনসিপিতে যোগদানের ক্ষেত্রে বাধা নয়। তবে ফ্যাসিবাদে সম্পৃক্ত, গণহত্যায় অংশগ্রহণকারী, চাঁদাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দলে জায়গা হবে না। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নেতাদের যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম জানান, যারা এনসিপির গঠনতন্ত্র মেনে দায়িত্বশীল ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে আগ্রহী, তাদের নিয়েই দল সামনে এগোতে চায়। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই ভবিষ্যতের পথচলা নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, আজ যারা এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন, তারা আগে থেকেই একই আদর্শের অংশ ছিলেন—শুধু প্ল্যাটফর্ম ভিন্ন ছিল। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে একত্রিত হয়ে সারাদেশের তরুণসহ সব বয়সি মানুষকে এনসিপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। নাহিদের মতে, দেশে নতুন করে কোনো স্বৈরতন্ত্রের উত্থান ঠেকাতে তরুণদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি গণভোটে জনগণের দেওয়া সংস্কারের পক্ষে রায় বাস্তবায়ন এবং মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫