Live update news
জ্বালানি সংকটে ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

চট্টগ্রামে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। উৎপাদন কেন্দ্র চালু থাকলেও চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না, ফলে নগরী থেকে গ্রাম—সবখানেই বেড়েছে লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ।   জানা গেছে, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৬টি বন্ধ রয়েছে। বাকি ২২টি সচল থাকলেও উৎপাদন কম হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। নগর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), আর গ্রামাঞ্চলে দায়িত্বে রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)।   তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। নগরীর অনেক এলাকায় একটানা এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে বাসাবাড়িতে পানির সংকটও দেখা দিয়েছে, কারণ বিদ্যুৎ না থাকলে ওয়াসার পানি তোলা সম্ভব হচ্ছে না।   গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি কৃষি ও সেচ কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক ইউনিট বন্ধ আছে, পাশাপাশি রাউজানের দুটি বড় কেন্দ্রও উৎপাদনের বাইরে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।   ১৫ এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামে অফ-পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৩৮৫ মেগাওয়াট এবং পিক সময়ে ১৪৩৩ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে অফ-পিকে ১১১ মেগাওয়াট এবং পিক সময়ে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। বাস্তবে এই ঘাটতি ২০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। জেনারেটর চালিয়েও পুরো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।   অন্যদিকে, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের অজুহাতে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানানো হলেও ভুক্তভোগীদের দাবি, বাস্তবে এটি লোডশেডিংকেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।   বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামনে আরও কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।

৩৫ মিনিট Ago
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিল ইরান

লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘছি।   শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দিয়েছেন আরাঘচি।   আব্বাস আরাঘচি বলেন, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ পুরোপুরি খোলা থাকবে।   এক্স পোস্টে আরাঘচি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির বাকি দিনগুলোতে এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে।   তবে এই চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুট বা পথ আগে থেকেই নির্ধারণ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল এই নির্ধারিত পথ অনুসরণ করেই জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে।   আরাঘচির ঘোষণার পরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ পুরোপুরি খোলা থাকেলেও নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।   ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা। বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে না যাওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধ বলবৎ থাকবে।   ট্রাম্প আরও বলেন, চুক্তির এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুতই সম্পন্ন হবে। তার মতে, চুক্তির অধিকাংশ শর্ত ও বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ফলে এখন কেবল আনুষ্ঠানিক সমঝোতার অপেক্ষা।

৪২ মিনিট Ago
হরমুজ খোলার ঘোষণায় তেলের দামে ধস

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এক ধাক্কায় দিনের ব্যবধানে অপরিশোধিত তেলের দাম ১১ শতাংশেরও বেশি কমেছে।   শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।   বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মজুতকৃত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১ দশমিক ১২ ডলার বা ১১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) দাম ১২ শতাংশ বা ১১ দশমিক ৪০ ডলার কমে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ২৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।   বাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউবিএস-এর বিশেষজ্ঞ জিওভানি স্টাউনোভো এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমতে যাচ্ছে। তবে তেলের বাজার দীর্ঘস্থায়ীভাবে স্থিতিশীল হবে কি না, তা নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারের সংখ্যা কতটা বৃদ্ধি পায় তার ওপর।   রয়টার্স বলছে, শুক্রবার লেনদেনের শুরু থেকেই তেলের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে—এমন প্রত্যাশা থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে এই নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   এর আগে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘছি। শুক্রবার সামাজিক যোগযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   আরাঘচি বলেন, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ পুরোপুরি খোলা থাকবে। যুদ্ধবিরতির বাকি দিনগুলোতে এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে।   তবে এই চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুট বা পথ আগে থেকেই নির্ধারণ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল এই নির্ধারিত পথ অনুসরণ করেই জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে।   তবে হরমুজ পুরোপুরি খোলা থাকেলেও নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা। বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে না যাওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধ বলবৎ থাকবে।   ট্রাম্প আরও বলেন, চুক্তির এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুতই সম্পন্ন হবে। তার মতে, চুক্তির অধিকাংশ শর্ত ও বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ফলে এখন কেবল আনুষ্ঠানিক সমঝোতার অপেক্ষা।

৪৪ মিনিট Ago
পাম্পে তেল পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার চায় পুলিশ

দেশজুড়ে জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে পাম্পগুলোতে অগ্রাধিকার চাইছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। জ্বালানি পাম্পগুলোতে পুলিশের জন্য পৃথক লাইনের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের দাবি জানিয়ে আইজিপি বরাবর এক চিঠি পাঠিয়েছে সংগঠনটি।     বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে জরুরি অভিযান, টহল ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে গতি আসবে এবং জনসেবা আরও কার্যকর হবে।   শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আইজিপি বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে সই করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ভাবলু।   চিঠিতে বলা হয়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, জরুরি অভিযান পরিচালনা, ভিআইপি নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন জনসেবা প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বাস্তব প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, সরকারি যানবাহন এবং রিকুইজিশনকৃত যানবাহন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন জ্বালানি পাম্পে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য পুলিশ সদস্যদের সাধারণ জনগণের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ সদস্যদের মূল্যবান কর্মঘণ্টার একটি বড় অংশ পাম্পে অপেক্ষমাণ অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।   এতে বলা হয়, বিশেষ করে আসামি ধরতে অভিযান, জরুরি টহল, মামলার তদন্তে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিতি, দুর্যোগ ও দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত সাড়া প্রদানসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সময়মতো সম্পাদনে বিলম্ব ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে লাইনের বাইরে গিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশ সদস্যরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, জনঅসন্তোষ এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানারও সম্মুখীন হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।   বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে এবং এর জরুরি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে, সারা দেশের সব সরকারি/বেসরকারি জ্বালানি পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সরকারি পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৃথক লাইন/বিশেষ বুথের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও কার্যকর নির্দেশনা একান্তভাবে কামনা করছি। আপনার সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সমগ্র পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপকৃত হবেন এবং জনসাধারণ আরও দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা লাভ করবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

৪ ঘন্টা Ago
মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস হার্ডার। ফাইল ছবি
জাতীয়
ঢাকায় আসছেন মার্কিন বিশেষ দূত চার্লস হার্ডার, উদ্দেশ্য কী?

তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ বিষয়ক বিশেষ দূত চার্লস জে হার্ডার। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রঃ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পা রাখার কথা রয়েছে তার।    শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক মিডিয়া নোটে এ তথ্য জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।   মা‌র্কিন দূতাবাস জানায়, জে হার্ডারের ঢাকায় আসার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষা এবং শিশুদের কল্যাণে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের কৌশলগত সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়া। এ লক্ষ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীনস্ত চার্লস জে. হার্ডারের ‘বেস্ট ফিউচার জেনারেশনস’ কার্যালয়ের প্রধান কাজ হলো বিশ্বব্যাপী শূন্য থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের স্বার্থ রক্ষা, কল্যাণ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।   তিন দিনের এই সফরে হার্ডার সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং শিক্ষা খাতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও মতবিনিময় করবেন। কীভাবে দুই দেশের সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, সেটিই হবে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।   ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতি অনুযায়ী, সফরকালে মার্কিন এই বিশেষ দূত বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।    এসব বৈঠকে হার্ডার শিক্ষা, শিশুস্বাস্থ্য, পুষ্টি, নিরাপদ পানি, স্যানিটেশন এবং শিশু অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।   পেশায় আইনজীবী হার্ডার ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আইন পেশায় যুক্ত আছেন। ব্যবসা, গণমাধ্যম ও সাংবিধানিক আইনে বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি বিভিন্ন উচ্চপ্রোফাইল ক্লায়েন্টের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং আইন ক্ষেত্রে  একাধিক সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছেন।

এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
পাম্পে তেল পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার চায় পুলিশ

দেশজুড়ে জ্বালানি তেল নিয়ে চলমান অস্থিরতার মধ্যে পাম্পগুলোতে অগ্রাধিকার চাইছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। জ্বালানি পাম্পগুলোতে পুলিশের জন্য পৃথক লাইনের মাধ্যমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তেল সরবরাহের দাবি জানিয়ে আইজিপি বরাবর এক চিঠি পাঠিয়েছে সংগঠনটি।     বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে জরুরি অভিযান, টহল ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে গতি আসবে এবং জনসেবা আরও কার্যকর হবে।   শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) আইজিপি বরাবর পাঠানো ওই চিঠিতে সই করেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ভাবলু।   চিঠিতে বলা হয়, দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ দমন, মামলা তদন্ত, আসামি গ্রেপ্তার, জরুরি অভিযান পরিচালনা, ভিআইপি নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগকালীন সহায়তা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন জনসেবা প্রদানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। বাস্তব প্রেক্ষাপটে দেখা যাচ্ছে যে, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অধিকাংশ পুলিশ সদস্যকে ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল, সরকারি যানবাহন এবং রিকুইজিশনকৃত যানবাহন ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন জ্বালানি পাম্পে জ্বালানি তেল সংগ্রহের জন্য পুলিশ সদস্যদের সাধারণ জনগণের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এর ফলে পুলিশ সদস্যদের মূল্যবান কর্মঘণ্টার একটি বড় অংশ পাম্পে অপেক্ষমাণ অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে এবং জরুরি সেবা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে।   এতে বলা হয়, বিশেষ করে আসামি ধরতে অভিযান, জরুরি টহল, মামলার তদন্তে ঘটনাস্থলে দ্রুত উপস্থিতি, দুর্যোগ ও দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত সাড়া প্রদানসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সময়মতো সম্পাদনে বিলম্ব ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে জরুরি প্রয়োজনে লাইনের বাইরে গিয়ে জ্বালানি সংগ্রহ করতে গেলে পুলিশ সদস্যরা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি, জনঅসন্তোষ এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানারও সম্মুখীন হচ্ছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত।   বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে আরও বলা হয়, জনস্বার্থে এবং এর জরুরি দায়িত্ব পালনের স্বার্থে, সারা দেশের সব সরকারি/বেসরকারি জ্বালানি পাম্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সরকারি পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পৃথক লাইন/বিশেষ বুথের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও কার্যকর নির্দেশনা একান্তভাবে কামনা করছি। আপনার সদয় বিবেচনা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সমগ্র পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপকৃত হবেন এবং জনসাধারণ আরও দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা লাভ করবে বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।

হরমুজ খোলার ঘোষণায় তেলের দামে ধস
হরমুজ খোলার ঘোষণায় তেলের দামে ধস

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এ ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। এক ধাক্কায় দিনের ব্যবধানে অপরিশোধিত তেলের দাম ১১ শতাংশেরও বেশি কমেছে।   শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।   বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মজুতকৃত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১ দশমিক ১২ ডলার বা ১১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৮৮ দশমিক ২৭ ডলারে নেমেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) দাম ১২ শতাংশ বা ১১ দশমিক ৪০ ডলার কমে বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ৮৩ দশমিক ২৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।   বাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউবিএস-এর বিশেষজ্ঞ জিওভানি স্টাউনোভো এই পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে বলেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমতে যাচ্ছে। তবে তেলের বাজার দীর্ঘস্থায়ীভাবে স্থিতিশীল হবে কি না, তা নির্ভর করবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকারের সংখ্যা কতটা বৃদ্ধি পায় তার ওপর।   রয়টার্স বলছে, শুক্রবার লেনদেনের শুরু থেকেই তেলের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া এবং চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পুনরায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে—এমন প্রত্যাশা থেকেই বিশ্ববাজারে তেলের দামে এই নাটকীয় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   এর আগে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘছি। শুক্রবার সামাজিক যোগযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।   আরাঘচি বলেন, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ পুরোপুরি খোলা থাকবে। যুদ্ধবিরতির বাকি দিনগুলোতে এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে।   তবে এই চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুট বা পথ আগে থেকেই নির্ধারণ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল এই নির্ধারিত পথ অনুসরণ করেই জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে।   তবে হরমুজ পুরোপুরি খোলা থাকেলেও নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা। বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে না যাওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধ বলবৎ থাকবে।   ট্রাম্প আরও বলেন, চুক্তির এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুতই সম্পন্ন হবে। তার মতে, চুক্তির অধিকাংশ শর্ত ও বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ফলে এখন কেবল আনুষ্ঠানিক সমঝোতার অপেক্ষা।

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিল ইরান
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দিল ইরান

লেবাননে যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘছি।   শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সামাজিক যোগযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দিয়েছেন আরাঘচি।   আব্বাস আরাঘচি বলেন, লেবাননে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলাকালীন হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরণের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের পথ পুরোপুরি খোলা থাকবে।   এক্স পোস্টে আরাঘচি আরও বলেন, যুদ্ধবিরতির বাকি দিনগুলোতে এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করতে পারবে।   তবে এই চলাচলের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ শর্ত জুড়ে দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের পোর্টস অ্যান্ড মেরিটাইম অর্গানাইজেশন জাহাজ চলাচলের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুট বা পথ আগে থেকেই নির্ধারণ করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কেবল এই নির্ধারিত পথ অনুসরণ করেই জাহাজগুলো যাতায়াত করতে পারবে।   আরাঘচির ঘোষণার পরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ পুরোপুরি খোলা থাকেলেও নৌ-অবরোধ বহাল থাকবে।   ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খোলা। বাণিজ্যের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু ইরানের সঙ্গে চুক্তিতে না যাওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের নৌ-অবরোধ বলবৎ থাকবে।   ট্রাম্প আরও বলেন, চুক্তির এই প্রক্রিয়াটি খুব দ্রুতই সম্পন্ন হবে। তার মতে, চুক্তির অধিকাংশ শর্ত ও বিষয় নিয়ে ইতোমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চূড়ান্ত হয়ে গেছে। ফলে এখন কেবল আনুষ্ঠানিক সমঝোতার অপেক্ষা।

জ্বালানি সংকটে ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ
জ্বালানি সংকটে ৬ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

চট্টগ্রামে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। উৎপাদন কেন্দ্র চালু থাকলেও চাহিদা পূরণ করা যাচ্ছে না, ফলে নগরী থেকে গ্রাম—সবখানেই বেড়েছে লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ।   জানা গেছে, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ৬টি বন্ধ রয়েছে। বাকি ২২টি সচল থাকলেও উৎপাদন কম হওয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। নগর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), আর গ্রামাঞ্চলে দায়িত্বে রয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি (পবিস)।   তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। নগরীর অনেক এলাকায় একটানা এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে বাসাবাড়িতে পানির সংকটও দেখা দিয়েছে, কারণ বিদ্যুৎ না থাকলে ওয়াসার পানি তোলা সম্ভব হচ্ছে না।   গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। কোথাও কোথাও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ মিলছে না। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি কৃষি ও সেচ কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।   বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকটের কারণে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক ইউনিট বন্ধ আছে, পাশাপাশি রাউজানের দুটি বড় কেন্দ্রও উৎপাদনের বাইরে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং জ্বালানি তেলের ঘাটতির কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোও পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।   ১৫ এপ্রিলের হিসাব অনুযায়ী, চট্টগ্রামে অফ-পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৩৮৫ মেগাওয়াট এবং পিক সময়ে ১৪৩৩ মেগাওয়াট। কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে অফ-পিকে ১১১ মেগাওয়াট এবং পিক সময়ে প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। বাস্তবে এই ঘাটতি ২০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   শিল্প খাতেও এর প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। জেনারেটর চালিয়েও পুরো পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।   অন্যদিকে, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের অজুহাতে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হচ্ছে বলে জানানো হলেও ভুক্তভোগীদের দাবি, বাস্তবে এটি লোডশেডিংকেই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।   বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সামনে আরও কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।

তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
সংকট মোকাবিলায় ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০’ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার সহায়তা চেয়েছেন।  বুধবার (১৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেডইসি) প্লাস অনলাইন সামিটে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি জরুরি পদক্ষেপ, ঐক্যবদ্ধ এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি রাখে।  সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত এজেন্ডার শীর্ষে থাকা উচিত।’ তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আহ্বানে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ারও অনুরোধ জানাই। চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই সংকট আমাদের পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। কোনো দেশ এককভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না।  আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা সমাধানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রয়োজন। জ্বালানি সংকট বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রভাব মোকাবিলায় সরকার বেশ কিছু স্বল্পমেয়াদী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।  সেগুলোর মধ্যে রয়েছে : সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি পরিবর্তনের মাধ্যমে চাহিদা ব্যবস্থাপনা; জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি ও বিকল্প উৎসের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তা নিয়ন্ত্রণে জ্বালানি রেশনিং ও খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ। এছাড়া মজুতদারি ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা রোধে ‘ফুয়েল অ্যাপ’-এর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই সংকটের মাত্রা ও পরিণতি ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে, যা ১৯৮০ এর দশকের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির করে দিয়েছিল।     তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। তবে বর্তমান সংকট সেই অর্জনকে পিছিয়ে দেওয়ার বাস্তব ঝুঁকি তৈরি করেছে।  তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একা এমন সংকটে পড়েনি; তাই একক প্রচেষ্টায় এটি মোকাবিলা করা সম্ভব না। চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে এর ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে সুরক্ষায় একটি দৃঢ় ও সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন।   তারেক রহমান সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ এ সম্মেলন আয়োজনের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে ধন্যবাদ জানান।   ভার্চুয়ালি আয়োজিত এই সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমসহ জাপান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুরের পর সংসদ ভবন থেকে সম্মেলনে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা এম হুমায়ুন কবির সেখানে উপস্থিত ছিলেন।  

জাতীয়

Recommended posts

রাজনীতি

View more
তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তারেক রহমানের নাম
এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নাম। বুধবার ২০২৬ সালের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির ওই তালিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত সাময়িকী টাইম। এতে ‘লিডারস’ ক্যাটাগরিতে ১৬তম অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।   টাইমের এ বছরের বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছেন খ্রিস্টান ধর্মের রোমান ক্যাথলিক শাখার সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ।    এরপর লিডারস ক্যাটাগরির এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আছেন যথাক্রমে মেক্সিকোর মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাউম ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আর এরপরই চতুর্থ স্থানে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   লিডারস ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায় বেছে নেওয়ার বিষয়ে টাইম ম্যাগাজিনের এডিটর অ্যাট-লার্জ ক্যাম্পবেল বলেছেন, মাত্র কয়েক মাস পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায়, তারেক রহমান দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের গাছপালায় ঘেরা নিরিবিলি পরিবেশে চিন্তামুক্ত এক নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন।    কিন্তু ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন ৫৭ বছর বয়সী এই রাজনীতিককে বিরোধী দলের আন্দোলনকারী থেকে দেশের প্রতীক্ষিত এক জাতীয় নেতায় পরিণত করেছে; স্বদেশ থেকে দীর্ঘ ১৭ বছর দূরে থাকার পর গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে তার সেই নিয়তি পূরণ হয়েছে।   টাইমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে লেখা প্রোফাইলে বলা হয়েছে, নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান তার মা খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করেন, যিনি ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমানের ঢাকা ফেরার মাত্র পাঁচ দিন পর মারা যান বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী।   গত জানুয়ারিতে ‘টাইম’ ম্যাগাজিনকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তারেক রহমান। সেই সময় তার মাকে হারানোর শোক ছিল একদম টাটকা। তবে তিনি এই শোককে সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ ও দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে আবারও চাঙা করার কাজে ব্যবহারের অঙ্গীকার করেন।    বাংলাদেশ বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও তরুণ বেকারত্বের সমস্যায় জর্জরিত এবং আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। এ সবকিছুরই দ্রুত প্রতিকার প্রয়োজন।   টাইম লিখেছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বা প্রাথমিক স্বস্তির সময়টুকু হয়তো অন্যদের তুলনায় সংক্ষিপ্ত হবে। কিন্তু অনেক বছর রাজনৈতিক নির্বাসনে থাকার পর তিনি আর বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।    টাইম ম্যাগাজিনকে তারেক রহমান বলেছেন, ‘আমাদের একসাথে কাজ করা ও ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন; যাতে মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পায়।  

সরকারের কাঁধে শেখ হাসিনার ভূত চেপেছে: মামুনুল হক
সরকারের কাঁধে শেখ হাসিনার ভূত চেপেছে: মামুনুল হক
এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, সরকারের আচরণে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–এর শাসনামলের প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে। তার ভাষায়, এটি “জনগণকে অপমান করার পুরনো ধারা”রই ধারাবাহিকতা।   সোমবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোটের এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক ওই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডা. শফিকুর রহমান।   মামুনুল হক বলেন, গত ১৫ বছরের শাসনামলে জনগণকে উপেক্ষা ও অপমান করার একটি প্রবণতা গড়ে উঠেছিল। তার দাবি, উন্নয়নকে সামনে রেখে গণতন্ত্রের নতুন সংজ্ঞা দাঁড় করানো হয়েছিল, যেখানে জনগণের মতামতের গুরুত্ব কমিয়ে দেখা হয়।   তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সময়েও জনগণের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ–এর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণকে অবমূল্যায়ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এ ধরনের মনোভাব পরিহার করা উচিত।   বক্তারা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জনগণের অধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন কিনলেন যেসব তারকা
নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন কিনলেন যেসব তারকা
এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিনোদন অঙ্গনের একঝাঁক তারকা ছিলেন মনোয়নপ্রত্যাশীর তালিকায়। তবে শেষ পর্যন্ত দলের টিকিট পাননি তারা। এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মনোয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় দেখা যাচ্ছে তারকাদের।   শনিবার (১১ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কনকচাঁপা, বেবী নাজনীন, রিজিয়া পারভীন ও নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী।   মননোয়ন ফরম সংগ্রহ করে কনকচাঁপা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মহান সংসদে দাঁড়িয়ে জনগণের কথা বলতে চাই। জনগণের দুঃখের কথা বলতে চাই।’   এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-১ আসনে থেকে দলীয় প্রতীকে ভোটের মাঠে লড়তে মননোয়ন কিনেছিলেন এই গায়িকা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই আসন থেকে দলটি মননোয়ন দেন সেলিম রেজাকে।   অন্যদিকে বেবী নাজনীন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ) আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।   রিজিয়া পারভীন ফরম জমা দেওয়ার পর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দল ত্যাগীদের মূল্যায়ন করবে। ত্যাগীদের পাশাপাশি মেধাবী ও যোগ্যতা সবকিছু মিলায়ে আমি আশাবাদী।’   মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বিএনপির বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ময়মনসিংহ-১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আমান উল্লাহ চৌধুরীর মেয়ে ফারহানা চৌধুরী বেবী। বর্তমানে তিনি জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

গ্রেফতার হওয়ার আগে দেড় বছর কোথায় ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী?
গ্রেফতার হওয়ার আগে দেড় বছর কোথায় ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী?
এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দুপুরে তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। এসময় পুলিশ দুই দিনের রিমান্ডের আবেদন জানালেও আদালত তা নাকচ করে দেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।   প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে গ্রেফতার হলেন তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা এই সাবেক স্পিকার। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং পরে মিন্টো রোড কার্যালয়ে নেওয়া হয়।   পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঢাকা ও রংপুরে সংঘটিত জুলাইয়ের কয়েকটি হত্যা মামলায় তার নাম রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকার লালবাগ থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে তোলা হয়েছে বলে জানান ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।   ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কিছুদিন পরই স্পিকারের পদ থেকে সরে দাঁড়ান শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি জনসমক্ষে আসেননি, ফলে তার অবস্থান নিয়ে নানা আলোচনা তৈরি হয়।   গণঅভ্যুত্থানের সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি সপরিবারে ঢাকা সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে পরে প্রকাশিত একটি তালিকা থেকে জানা যায়। পরবর্তীতে সেনানিবাস থেকে বের হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপনে অবস্থান করছিলেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।   পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়, যা তার স্বামীর নামে বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে তার গতিবিধি সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   গোয়েন্দা কর্মকর্তারা আরও জানান, গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় তার নাম রয়েছে। এর মধ্যে রংপুরে এক শ্রমিক হত্যার মামলাও রয়েছে, যেখানে তাকে আসামি করা হয়েছে।   ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে সংসদে প্রবেশ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। পরে তিনি মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৩ সালে দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিন মেয়াদে এ দায়িত্ব পালন করেন।

Follow us

Trending

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ, বেতন ৪৫ হাজার
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে চাকরির সুযোগ, বেতন ৪৫ হাজার

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।   এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত   প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা   আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫

অক্টোবর ১১, ২০২৫
দেশজুড়ে
আন্তর্জাতিক
বিনোদন
খেলা

ধর্ম
লাইফস্টাইল
আবহাওয়া
ফিচার
মিডিয়া
প্রবাস
সোশ্যাল মিডিয়া
বিজ্ঞান
স্বাস্থ্য
শিক্ষা
তথ্যপ্রযুক্তি
আইন-বিচার
চাকরি
অর্থনীতি
রাজধানী