আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতদিনের ছুটির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে শনিবার (২৩ মে) ও রোববার (২৪ মে) অফিস খোলা থাকবে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে (রোববার) পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ২৩ ও ২৪ মে (শনি ও রোববার) অফিস খোলা থাকবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’–এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য পাবলিক টয়লেট ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সারা দেশে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত পাবলিক টয়লেট সুবিধার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার মান উন্নত করা, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবহারবান্ধব টয়লেট–সুবিধা নিশ্চিত করা। এ ছাড়াও পাবলিক টয়লেট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও স্থায়িত্বের জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা মডেল এবং অর্থায়ন নিশ্চিত করা; নীতিমালার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এটিকে যুগোপযোগী করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার-বিধি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। ভৌত অবকাঠামো সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সকল টয়লেটের বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য সেফটি ট্যাংক নির্মাণ আবশ্যক, কোনোভাবেই টয়লেটের বর্জ্যসমূহ যাতে নদী, খাল-বিলসহ অন্যান্য জলাশয়ে পতিত হয়ে পানি দূষণ ঘটাতে না পারে। টয়লেট ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সমন্বিতভাবে সড়ক ও মহাসড়কের উপযুক্ত স্থানে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক পাবলিক টয়লেট স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করবে। নীতিমালাটি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় বা বিভাগভিত্তিক সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
রোগীর স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য নিয়ে নাগরিকদের জন্য সরকারের ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়াপ এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি। সময়ের ধ্বনির পাঠকদের জন্য পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো— থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে, পিতা-মাতা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক হলে তাঁদের সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়োপযোগী পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। এবারের থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘আর আড়াল নয়: রোগ নির্ণয়হীনদের খুঁজে বের করি, অলক্ষ্যে থাকা রোগীদের সহায়তা করি’। বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ দিবসটি থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক বলে ধারণা করা হয়। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ এই নীতি অবলম্বন করেছে। থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধে এই নীতি সবচেয়ে বেশি কার্যকর। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জনমুখী ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রোগীর স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য নিয়ে সরকার নাগরিকদের জন্য 'ই-হেলথ কার্ড' চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু হয়ে গেলে এই কার্ডের মাধ্যমেই নাগরিকগণ নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানতে সক্ষম হবেন। একইসঙ্গে একজন রোগী গ্রাম কিংবা শহর, যেখানেই চিকিৎসা গ্রহণ করুন না কেন, 'ই-হেলথ কার্ড'-এর মাধ্যমে চিকিৎসক সংশ্লিষ্ট রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য-তথ্য দ্রুত জানতে পারবেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ বলছেন, দুইজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক না হলে থ্যালাসেমিয়া রোগের বিস্তার হয় না। সুতরাং, থ্যালাসেমিয়ার মতো দুরারোগ্য রক্ত রোগ প্রতিরোধে, বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহকদের মধ্যে বিবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র- সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আমি সরকারের পাশাপাশি সকল পেশাজীবী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিক সমাজকে এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানাচ্ছি। আমি বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
কঠিন কিছু বাস্তবতার মধ্য দিয়ে সবশেষ বিপিএল আয়োজন করেছিলেন সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। যেখানে প্রায় ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকা লস হয়েছে। আর এই জন্য বুলবুলের কাছে জবাব চেয়েছেন বর্তমান সভাপতি তামিম ইকবাল। বৃহস্পতিবার (৭ মে) মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি। তামিম বলেন, দুইটা ফ্র্যাঞ্চাইজি একটা মৌসুম খেলে ফেলেছে অথচ চুক্তিই হয় নাই। এটাকে কী আপনি শুধু ভুল বলবেন? অবশ্যই, জবাবদিহিতা করতে হবে। ‘সে কী কারণে ১০ কোটি টাকার জায়গায় ৩ কোটি টাকা নিয়েছেন। একটা দলকে ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে না করেছে তাও কেন দিয়েছে। এসবের উত্তর দিতে হবে।’ তিনি বলেন, আমি কিন্তু কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে চাই না। আপনি ফ্যাক্ট নিয়ে আলোচনা করছি। কেউ যদি ভুল করে থাকে তাকে জবাবদিহিতা করতে হবে। সে যেই হোক। আমি যদি এখন কোনো ভুল করে যাই তাহলে আমাকেও জবাবদিহিতা করতে হবে। গেল বিপিএলে কত টাকা লস হয়েছে সে বিষয়ে সাবেক এই ক্রিকেটার বলেন, পুরোপুরি নিশ্চিত না আমি, তবে গত বিপিএলে ১৪-১৬ কোটি টাকা লস হতে পারে। দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে আপনি কালকে সকালে ঘুম থেকে উঠেও ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক হতে পারবেন।
প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইলেন বলিউড অভিনেত্রী ও জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহি। ‘সরকে চুনর তেরী সরকে’ গানটি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের অবসান ঘটাতেই এই পদক্ষেপ তারকার। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ভারতের দিল্লিতে জাতীয় নারী কমিশনের সামনে হাজিরা দিয়ে এই দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে অনাথ শিশুদের পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, বিতর্কিত এই গানের কথা ও দৃশ্যায়ন নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র আপত্তি ওঠার পর বিষয়টি আদালত ও কমিশন পর্যন্ত গড়ায়। হাজিরা শেষে নোরা ফাতেহি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, কাউকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। তবে একজন শিল্পী হিসেবে আমি এই ঘটনার দায় নিচ্ছি এবং সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি। পরিস্থিতি আমাকে এমন এক অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে যে আমি সত্যিই লজ্জিত। তিনি আরও জানান, এখন থেকে অনাথ মেয়েদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তাদের পড়াশোনার সব খরচ বহন করবেন তিনি । মূলত ‘কেডি: দ্য ডেভিল’ সিনেমার এই গানটি মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। গানের কথা ও নোরার নাচের ভঙ্গি অশালীন ও কুরুচিকর বলে দাবি করেন অনেকে। ব্যাপক বিতর্কের মুখে গানটি নিষিদ্ধও করা হয়েছিল। এই গানে নোরার সঙ্গে অভিনেতা সঞ্জয় দত্তকেও দেখা যায়, যার ফলে জাতীয় নারী কমিশন তাকেও তলব করে। এর আগে গত ২৭ এপ্রিল সঞ্জয় দত্ত কমিশনে হাজিরা দিয়েছিলেন। সেই সময় তার আইনজীবী হেমন্ত শাহ দাবি করেছিলেন, গানটি যে ভাষায় রেকর্ড করা হয়েছিল সেটি সঞ্জয় দত্ত বুঝতেন না। ফলে গানের কথা বা অর্থ সম্পর্কে অবগত না থেকেই তিনি সেখানে পারফর্ম করেছিলেন। দুই তারকার এমন বক্তব্যের পর আলোচিত এই গানটি নিয়ে জলঘোলা কিছুটা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রোগীর স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য নিয়ে নাগরিকদের জন্য সরকারের ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়াপ এক পোস্টে এ কথা জানান তিনি। সময়ের ধ্বনির পাঠকদের জন্য পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো— থ্যালাসেমিয়া একটি জটিল বংশগত রক্তরোগ, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে, পিতা-মাতা উভয়েই থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক হলে তাঁদের সন্তানের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তাই জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়োপযোগী পরীক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। এবারের থ্যালাসেমিয়া দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘আর আড়াল নয়: রোগ নির্ণয়হীনদের খুঁজে বের করি, অলক্ষ্যে থাকা রোগীদের সহায়তা করি’। বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ দিবসটি থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহক বলে ধারণা করা হয়। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় সরকার ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’ এই নীতি অবলম্বন করেছে। থ্যালাসেমিয়া রোগ প্রতিরোধে এই নীতি সবচেয়ে বেশি কার্যকর। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার একটি জনমুখী ও আধুনিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রোগীর স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য নিয়ে সরকার নাগরিকদের জন্য 'ই-হেলথ কার্ড' চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালু হয়ে গেলে এই কার্ডের মাধ্যমেই নাগরিকগণ নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানতে সক্ষম হবেন। একইসঙ্গে একজন রোগী গ্রাম কিংবা শহর, যেখানেই চিকিৎসা গ্রহণ করুন না কেন, 'ই-হেলথ কার্ড'-এর মাধ্যমে চিকিৎসক সংশ্লিষ্ট রোগীর প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য-তথ্য দ্রুত জানতে পারবেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগণ বলছেন, দুইজন থ্যালাসেমিয়া রোগীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক না হলে থ্যালাসেমিয়া রোগের বিস্তার হয় না। সুতরাং, থ্যালাসেমিয়ার মতো দুরারোগ্য রক্ত রোগ প্রতিরোধে, বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়ার জিন-বাহকদের মধ্যে বিবাহের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র- সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। আমি সরকারের পাশাপাশি সকল পেশাজীবী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, গণমাধ্যম, অভিভাবক এবং সচেতন নাগরিক সমাজকে এ বিষয়ে জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানাচ্ছি। আমি বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতদিনের ছুটির অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। তবে শনিবার (২৩ মে) ও রোববার (২৪ মে) অফিস খোলা থাকবে। বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে (রোববার) পর্যন্ত সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ২৩ ও ২৪ মে (শনি ও রোববার) অফিস খোলা থাকবে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬’–এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এর প্রধান উদ্দেশ্য পাবলিক টয়লেট ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সারা দেশে স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত পাবলিক টয়লেট সুবিধার সহজলভ্যতা নিশ্চিত করে জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতার মান উন্নত করা, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, বয়স্ক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ব্যবহারবান্ধব টয়লেট–সুবিধা নিশ্চিত করা। এ ছাড়াও পাবলিক টয়লেট ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা ও স্থায়িত্বের জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা মডেল এবং অর্থায়ন নিশ্চিত করা; নীতিমালার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এটিকে যুগোপযোগী করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ব্যবহার-বিধি সম্পর্কে সচেতনতা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। ভৌত অবকাঠামো সংক্রান্ত উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে নারীদের জন্য পৃথক টয়লেট নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সকল টয়লেটের বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য সেফটি ট্যাংক নির্মাণ আবশ্যক, কোনোভাবেই টয়লেটের বর্জ্যসমূহ যাতে নদী, খাল-বিলসহ অন্যান্য জলাশয়ে পতিত হয়ে পানি দূষণ ঘটাতে না পারে। টয়লেট ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সমন্বিতভাবে সড়ক ও মহাসড়কের উপযুক্ত স্থানে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক পাবলিক টয়লেট স্থাপনের কার্যক্রম গ্রহণ করবে। নীতিমালাটি বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় বা বিভাগভিত্তিক সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হবে আগামী ৭ জুন (রোববার) বিকেল ৩টায়। এটি হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশন। এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা-২ এর পরিচালক (গণসংযোগ) সাইদুজ্জামান সাঈদ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ২৪ জ্যৈষ্ঠ মোতাবেক ২০২৬ খ্রিস্টাব্দের ৭ জুন রোজ রোববার বিকেল ৩টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এ অধিবেশন শুরু হবে। জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এটি দ্বিতীয় অধিবেশন এবং একইসঙ্গে এটি ২০২৬ সালের বাজেট অধিবেশন। এই অধিবেশনে আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উত্থাপন ও পাস করা হবে।
বৈষম্য হ্রাস এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে আসন্ন জাতীয় বাজেটে দেশের ধনী ব্যক্তিদের আয়করের ওপর সারচার্জের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ সম্পদ কর চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, সম্পদের মূল্যের উপর ভিত্তি করে এই সম্পদ কর আদায় করা হবে। নতুন এ ব্যবস্থাকে ধনীদের ওপর কর আরোপের ক্ষেত্রে একটি কাঠামোগত পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, বর্তমান সারচার্জ ব্যবস্থা ধনীদের ওপর কার্যকরভাবে কর আরোপে ব্যর্থ এবং এটি কর ব্যবস্থার প্রগতিশীলতাকে ক্ষুণ্ণ করে। প্রচলিত সারচার্জ ধনী ব্যক্তিদের আয়করের সঙ্গে কয়েক শতাংশ অর্থ যোগ করে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত মোট সম্পদ করমুক্ত থাকবে, এরপর পরবর্তী ২ কোটি টাকার উপর ০.২৫ শতাংশ, তার পরের ৫ কোটি টাকার উপর ০.৫০ শতাংশ, আরও ৫ কোটি টাকার উপর ০.৭৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট সম্পদের উপর ১ শতাংশ কর ধার্য করা হবে। মূল্যায়নের জন্য, জমি মৌজা হারে, ভবন গণপূর্ত বিভাগের হারে, সোনার বাজার মূল্যে এবং শেয়ার ক্রয়মূল্য বা নিট সম্পদ মূল্যের মধ্যে যেটি বেশি, সেই হারে মূল্যায়ন করা হবে। এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৩ সালের আয়কর আইনের অধীনে বর্তমান ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতার মধ্যে এই সংস্কারটি আনা হয়েছে, যেখানে উচ্চতর সম্পদ শ্রেণিতে কার্যকর সারচার্জের হার হ্রাস পায় এবং করের দায় ঘোষিত আয়ের উপর নির্ভর করে, যা কম ঘোষিত আয়ের ব্যক্তিদেরকে কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। বাংলাদেশ সরকার বর্তমানে ধনী ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রদেয় আয়করের ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সারচার্জ আদায় করে। ১০০ কোটি থেকে ২০০ কোটি টাকার সম্পদের জন্য কার্যকর সারচার্জের হার প্রায় ০.৪৩ শতাংশ, যা ৫০-১০০ কোটি টাকার সম্পদের জন্য প্রযোজ্য ০.৫৪ শতাংশের চেয়ে কম। ২০২৫-২৬ করবর্ষের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ হাজার ৮০৪ জন করদাতা সম্মিলিতভাবে ৩ লাখ ১৫ হাজার ১৩৫ কোটি টাকার মোট সম্পদ ঘোষণা করেছেন, কিন্তু সারচার্জ আদায় হয়েছে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট সম্পদের ০.২৯ শতাংশ। সেইসঙ্গে সম্পদের কেন্দ্রীভবন অনেক বেশি; ১৩ জন করদাতার প্রত্যেকের গড় সম্পদ ৬৪৬ কোটি টাকা, যা মোট ঘোষিত সম্পদের ২.৬৯ শতাংশ। অন্যদিকে, ১০০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের অধিকারী ১৮৬ জন ব্যক্তির দখলে রয়েছে মোট সম্পদের ১২.১২ শতাংশ। ২৭ জন করদাতার একটি ক্ষুদ্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্পদের প্রকৃত মূল্য ঘোষিত মূল্যের চেয়ে ৮৯ শতাংশ বেশি হতে পারে, যা বর্তমান ব্যবস্থার তুলনায় সম্ভাব্য রাজস্ব ৩৪৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। একটি ক্ষেত্রে, শূন্য সারচার্জ দায় থাকা একজন করদাতাকে পুনর্মূল্যায়নের পর প্রায় ৪০ কোটি টাকার সম্পদ করের সম্মুখীন হতে হতে পারে। কর্মকর্তারা অনুমান করছেন যে নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে মোট রাজস্ব প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে; অর্থাৎ অতিরিক্ত ২ কোটি টাকা আয় হবে এ ব্যবস্থায়। নতুন প্রস্তাবে ২০২৬ সালের একটি সম্পদ কর আইন প্রণয়ন, একটি স্বয়ংক্রিয় ই-রিটার্ন-ভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু, একটি স্থায়ী মূল্যায়ন কমিটি গঠন এবং একটি দ্বি-স্তরীয় বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে, যার নিয়মাবলী প্রতি পাঁচ বছর অন্তর পর্যালোচনা করা হবে। অবশ্য, ধনীদের কাছ থেকে কর আদায়ের নতুন এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বেশ কিছু ঝুঁকি আছে বলেও সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে রয়েছে সম্পদের পরিমাণ কম দেখানো, পুঁজি পাচার এবং দুর্বল ডেটা পরিকাঠামোর কারণে অপ্রকাশিত সম্পদ শনাক্ত করার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ। তারা বলেছেন, নতুন ব্যবস্থায় প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনের জন্য এই ব্যবস্থার একটি নির্ভরযোগ্য সম্পদ ডেটাবেস, শক্তিশালী ডিজিটাল কর প্রশাসন এবং কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন হবে। এদিকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে সম্পদ কর চালু থাকলেও এই কর নিয়ে বেশ বিতর্ক আছে। নরওয়ে প্রায় ০.৮৫ শতাংশ কর আরোপ করে চলেছে এবং সুইজারল্যান্ড ক্যান্টন পর্যায়ে প্রায় ০.১ শতাংশ থেকে ১ শতাংশের বেশি হারে কর আরোপ করে। স্পেন প্রায় ৩ শতাংশ হারে তাদের সম্পদ কর পুনরায় চালু করেছে। এছাড়া, আর্জেন্টিনা মহামারীর পরে একটি অস্থায়ী কর চালু করেছিল। অন্যদিকে বিনিয়োগ সংক্রান্ত উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ২০১৮ সালে তাদের এই ব্যবস্থা বাতিল করে দেয় ফ্রান্স। আর প্রশাসনিক জটিলতা, উচ্চ পরিপালন ব্যয় এবং মূলধন বহির্গমনের কারণ দেখিয়ে এই ধরনের কর বাতিল করে দিয়েছে জার্মানি, সুইডেন এবং ডেনমার্ক।
নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় চোরাই পথে আনা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ ও দুই যুবক আটকের পর রফাদফার জন্য ঘুষ নিয়ে দর–কষাকষির অভিযোগে মো. আবু হানিফা নামে পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পুলিশ। এদিকে ঘুষ নিয়ে দর–কষাকষিসংক্রান্ত দুটি অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (৬ মে) রাত ১০টার পর অডিও দুটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে রাত ১১টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে এসআই আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করে। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে ছিল বডি স্প্রে, শ্যাম্পু ও অলিভ অয়েল। এ সময় পিকআপের চালক নাজিরপুরের শিংপুর গ্রামের নাছিম (২৩) ও তার সহকারী সেইচাহানি গ্রামের মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে এ ঘটনায় উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। জসিমকে চোরাই পণ্যের মূল হোতা হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি অডিওতে এসআই আবু হানিফা ও জসিম উদ্দিনের কথোপকথন শোনা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রথম অডিওটির দৈর্ঘ্য ৫ মিনিট ২৩ সেকেন্ড। এতে জসিমকে বলতে শোনা যায়, স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আপনি আমাকে মামলা দেবেন না। শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন। জবাবে এক ব্যক্তিকে (যাকে এসআই আবু হানিফা বলে দাবি করা হচ্ছে) বলতে শোনা যায়, না ভাই, যা বলছি তার কম হবে না। আপনি তিন লাখ টাকা দেন। কথোপকথনের একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি বলেন, এক লাখ টাকা দেব। ওসি স্যার কিন্তু বিপক্ষে যাবে না। ওসি স্যার বলছেন, যেহেতু আমাকে জানিয়ে আপনারা করেছেন, দারোগার সঙ্গে কথা বলেন। রাত ১টা ৪১ মিনিটে রেকর্ড করা বলে দাবি করা দ্বিতীয় অডিওটির দৈর্ঘ্য ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ড। এতে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলে দাবি করা ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, আপনি যা করবেন, তাড়াতাড়ি করেন। আমি এখন ভবানীপুর ব্রিজ পার হচ্ছি- আপনার জন্য আমি ছাড় দিলাম, আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসেন। এর জবাবে জসিমকে বলতে শোনা যায়, আমি কষ্ট করে হলেও আপনাকে দুই লাখ টাকা দিচ্ছি। আমাকে একটু সময় দেন। একপর্যায়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, দেইখেন, হোয়াটসঅ্যাপে কথা অন্য ফোনে রেকর্ড করা যায়, এটা করবেন না। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফা ও জসিম উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি পুলিশ সুপার স্যার দেখছেন। এসআই আবু হানিফাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। চোরাই পণ্যের মালিক জসিম মিয়াকে আটকের চেষ্টা চলছে। নিজের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই।
কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের ইউনিট সদস্য মাওলানা মুফতি আমির হামজা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) আমির হামজার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এই দাবি করা হয়েছে। পেজে অ্যাডমিনের দেওয়া পোস্টে লেখা হয়েছে, ‘কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মী।’ কলেজ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারি কলেজ মাঠে আন্তঃবিভাগ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করেন আমির হামজা। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারে একদল শিক্ষার্থী মঞ্চের সামনে জড়ো হয়ে ‘ভুয়া’ ‘ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন। পরে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনের জন্য মাঠে প্রবেশ করলে ওই শিক্ষার্থীরা সেখানে গিয়েও আমির হামজাকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে থাকেন এবং তারা মাঠের মধ্যে বসে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে কলেজের অধ্যক্ষ আমির হামজাকে নিয়ে তার কার্যালয়ে চলে যান। শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ে গিয়েও একইভাবে স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। খবর পেয়ে পুলিশ অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। এ সময় এমপি আমির হামজা পুলিশের সঙ্গে বেরিয়ে কলেজ ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান তিনি। এ সময় তিনি আমির হামজাকে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলাপ করতে দেখেন। তবে আমির হামজাকে অবরুদ্ধ করে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেন ওসি।
জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছোট ছেলে ড. মোহাম্মদ নাদিমুর রহমান। মঙ্গলবার (০৪ মে) রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নাদিমুর রহমানের যোগদানের ঘোষণা দেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এদিন ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর বংশধর আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হোসাইন, মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এমএইচ আরিফসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এনসিপিতে যোগ দেন। এছাড়া জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’-এর নেতারাও দলটিতে শামিল হয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মো. সালমান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান জিসান এবং সহ-সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম গাজী। সংবাদ সম্মেলনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়াও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদসহ অন্য নেতারা। এ সময় যোগদানকারীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। আসিফ মাহমুদ বলেন, বিএনপির বর্তমান রাজনীতিতে অসন্তোষ বাড়ছে, যা তাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যেও প্রতিফলিত হচ্ছে। বিএনপির অনেক বড় নেতার সন্তানরা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। এমনকি স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সন্তানরাও জানাচ্ছেন, তাদের কাছে বর্তমান রাজনীতি গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে তাদের কাউকে কাউকে এনসিপিতে দেখা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ করেনি। এতে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। অতীতে যারা এমন প্রতারণা করেছে, তারা টিকতে পারেনি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে এনসিপির মুখপাত্র বলেন, নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা চলছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। এছাড়া দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে এই পরিস্থিতির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানান তিনি। আসিফ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে উগ্রপন্থিদের উত্থান ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শঙ্কা তৈরি করতে পারে। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানান তিনি।
‘আমরা হাওয়ার সঙ্গে নয় রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি’ বলে মন্তব্য করেছেন ভোলা-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে হিন্দু মুসলমানে ভাগ করা যাবে না। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যখন বলতে হবে, তখন কার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি? হাওয়ার সঙ্গে যুদ্ধ করেছে মুক্তিবাহিনী? আমরা রাজাকারের সঙ্গে যুদ্ধ করেছি। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। পার্থ বলেন, আওয়ামী লীগ ফিরে আসা নিয়ে আমি একটা পরিস্কার কথা বলে দিতে চাই, জুলাইকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই। জুলাইকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই এবং এই বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে কোনো রাজনীতি করার সুযোগ নাই। এদিন দুপুরে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের ‘মুক্তিযুদ্ধ’ নিয়ে বক্তব্যে জাতীয় সংসদে সরকারি দল ও বিরোধীদলের মধ্যে উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে। সংসদে জামায়াত আমির ডা.শফিকুর রহমান ফজলুর রহমানের উদ্দেশ্যে বলেন, মাননীয় সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান সবকিছুই বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের উপরে হাতুড়ি পিটানোর অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তিনি পার্সোনালি আমাকে হার্ট করেছেন। তিনি বলেন, কোন মুক্তিযোদ্ধা কিংবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামাতে ইসলামী করতে পারে না। তাহলে উনাকে জিজ্ঞেস করে করা লাগবে। এরপর জামায়াত আমির বলেন, এটি আমার নাগরিক অধিকার। আমি কোন দল করব? আদর্শ আমি অনুসরণ করব। এর উপর হস্তক্ষেপ করার নূন্যতম কোন অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধানে কাউকে দেয়নি। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে এটা গুরুতর অপরাধ করেছেন উনি। আবার আমার আদর্শ সিলেকশনের ব্যাপারে উনি কথা বলেছেন। এটা তিনি বাড়তি অপরাধ করেছেন।
নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ–কে ফ্লোর ক্রসিং ইস্যুতে সতর্ক করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। প্রশ্নোত্তর পর্বে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বক্তব্য দেওয়ার পরই হান্নান মাসউদকে উদ্দেশ করে প্রশ্ন তোলেন স্পিকার। স্পিকার বলেন, “মাননীয় সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ, আপনি কি সরকারি দলে যোগ দিয়েছেন? এই পর্যায়ে ফ্লোর ক্রসিং অনুমোদিত নয়।” তবে ঠিক কী কারণে তাকে এভাবে সতর্ক করা হয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি।
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের প্রার্থিতা স্থগিত রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ১১ দলীয় জোটের অন্য ১২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে রিটার্নি কর্মকর্তা মঈন উদ্দীন খান এই সিদ্ধান্ত দেন। মঈন উদ্দীন খান জানান, মনিরা শারমিন মনোনয়নপত্রের রিটার্নিং দাখিলের নথিতে সরকারি পে-স্কেলে বেতন উত্তোলনের তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু বিস্তারিত তথ্য—কবে, কোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন, এর কোনো তথ্য দেননি। তাই তাকে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়ার জন্য আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে। জানা গেছে, মনিরা শারমিন ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে অফিসার জেনারেল পদে নিয়োগ পান। নিয়োগের পর তিনি ১১ নভেম্বর প্রথমে ব্যাংকের কুষ্টিয়া শাখায় যোগ দেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়াম লীগ সরকারের পতনের পর বদলি হয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার করপোরেট কার্যালয়ে আসেন। সেখানে কর্মরত থাকা অবস্থায়ই তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় পড়েন। সর্বশেষ গত বছর ডিসেম্বরে কৃষি ব্যাংক থেকে চাকরি ছেড়েছেন মনিরা শারমিন। তার ফেসবুক প্রোফাইলে ১১ নভেম্বর ২০২৩ থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত কৃষি ব্যাংকের অফিসার হিসেবে চাকরি করার তথ্য আছে। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে বিরোধীদলীয় জোট আসন পাচ্ছে ১৩টি। এর মধ্যে জামায়াতের আটজন, এনসিপির দুজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে একজন, জাগপা থেকে একজন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ শিশু জাবির ইবরাহিমের মা রোকেয়া বেগম।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন বিভাগে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দেবে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৬ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এক নজরে নিয়োগের বিস্তারিত প্রতিষ্ঠানের নাম: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (BDRCS) বিভাগের নাম: অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন পদের নাম: অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট অফিসার পদসংখ্যা: ০১ জন শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক বা সমমান অভিজ্ঞতা: ন্যূনতম ১ বছর চাকরির ধরন: চুক্তিভিত্তিক প্রার্থীর ধরন: নারী-পুরুষ উভয় বয়সসীমা: নির্ধারিত নয় বেতন: ৪৫,০০০ টাকা কর্মস্থল: ঢাকা আবেদন প্রক্রিয়া: আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। বিস্তারিত জানতে ও আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। আবেদনের শেষ তারিখ: ১৬ অক্টোবর ২০২৫